দালালের খপ্পরে পড়ে স্বপ্নভঙ্গ

কম্বোডিয়ায় অনাহারে কুলাউড়ার তরুণের মৃত্যু

কম্বোডিয়ায় অনাহারে কুলাউড়ার তরুণের মৃত্যু

ভালো কাজের আশায় বুক বেঁধে সুদূর কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার তরুণ নায়িম আহমদ (২৪)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে দালালের চরম প্রতারণা, তীব্র অনাহার আর চিকিৎসার অভাবে পরবাসের মাটিতেই নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় কম্বোডিয়ার সমুদ্রবন্দর নগরী সিয়ানুকভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরিফপুর ইউনিয়নের লালারচক গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ইয়ামিস আলীর ছেলে নায়িম আহমদ প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক দালালের খপ্পরে পড়ে ভাগ্য বদলাতে কম্বোডিয়ায় যান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে সিয়ানুকভিলে পাঠিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে লাগানো হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তিনি কাজ হারিয়ে ফেলেন। ততক্ষণে নায়িম বুঝতে পারেন তিনি বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দালালের আর কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন এই তরুণ।

বিজ্ঞাপন

সেদেশে অবস্থানের বৈধতা (ভিসা) হারিয়ে ফেলায় কোনো নতুন কাজ মেলেনি। তীব্র আর্থিক সংকটে দিনযাপন করতে করতে একপর্যায়ে সমুদ্রের পাড়ে এক ঝুপড়ি ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয় নায়িমের। দিনের পর দিন না খেয়ে উপোস থেকে একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান তিনি। সম্প্রতি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

শরিফপুর ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান দুরুদ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুনেদ আহমদ নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী দালালের খপ্পরে পড়ে ওই এলাকার প্রায় আটজন তরুণ জমিজমা বিক্রি করে ঋণগ্রস্ত হয়ে কম্বোডিয়ায় যান। ভালো কাজের প্রলোভন দেখালেও মূলত তাদের ‘টুরিস্ট ভিসায়’ পাঠানো হয়েছিল। প্রতারক জুনেদ বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ছেলের এমন করুণ মৃত্যুর খবর পেয়ে মাহাসিফা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তার বুকফাটা আর্তনাদ—‘আমার ছেলে না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মরে গেল! আমি বেঁচে থেকে কী করব!’ নায়িমের লাশ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শোকসন্তপ্ত পরিবারটির।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন