যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট নির্বাচনে ৫ নম্বর আসনে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামের কৃতী সন্তান শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। তার এ গৌরবময় সাফল্যের খবর পৌঁছার পর জন্মভূমি বাজিতপুরে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ মিছিল বের করার পাশাপাশি একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে বিজয়ের উল্লাস ভাগাভাগি করছেন।
প্রকাশিত নির্বাচনি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জর্জিয়ার মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ‘শেখ রহমান’ নামে পরিচিত শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তার অনুকূলে ৩৫ হাজার ১০১টি ভোট দেখানো হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
চন্দনের এ ঐতিহাসিক পুনর্নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার জন্মস্থান সরারচরসহ বাজিতপুরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তার এ বিশ্বমঞ্চের সাফল্যকে নিজেদের অহংকার হিসেবে দেখছেন।
সাধারণ মানুষের মতে, বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির একটি অঙ্গরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়া পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। এরপর ২০২০, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করলেন।
পারিবারিকভাবে চন্দন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর রহমানের সন্তান। তার বাবা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আগরতলায় ‘জয় বাংলা যুব শিবির’-এর ক্যাম্প সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এছাড়া চন্দন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। ফলে তার এ রাজনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে বাজিতপুর ও নিকলীর মানুষের গভীর আবেগ ও প্রত্যাশা জড়িয়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এ অবস্থান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

