সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফরিদা খাতুন উজ্জলার (৪০) বসতবাড়িতে উত্তেজিত জনতার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষীর বাড়িতে হামলা’ বলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্যে খবর প্রকাশের পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ফরিদা খাতুন উজ্জলা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তিনি ‘মাদক রানী’ হিসেবে পরিচিত। এই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরিসহ ২৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে উজ্জলার বিরুদ্ধে পাঁচটি, তার ভাই সাদ্দামের বিরুদ্ধে তিনটি, স্বামী হেলালের বিরুদ্ধে সাতটি এবং বাবা দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শাল্লা থানার প্রায় ৬০ শতাংশ মাদক এই পরিবারই সরবরাহ করে। মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, সম্প্রতি উজ্জলা মাদক মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন। কিছুদিন আগেই তার স্বামী হেলালকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এবং তার ভাই সাদ্দাম ও সহযোগী শীশ আহমেদকে মাদকসহ পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা। এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধের শর্তে ইতোপূর্বে মুচলেকা নেওয়ার উদ্যোগ হলেও উজ্জলা তাতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, উজ্জলার বাবা দুলাল মিয়া ও স্বামী হেলাল মিয়া ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষী হলেও, এই হামলার সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংস হতে থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উজ্জলা দাবি করেছেন, তার দাদা ১৯৭১ সালের শহীদ এবং ফুপু জমিলা খাতুন একজন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী হওয়ায় আসামিপক্ষের লোকজন তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে উজ্জলার ফুপু বীরাঙ্গনা জমিলা খাতুনের ছেলে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ওপর কেউ হামলা করেনি। আমরা নিরাপদ ও ভালো আছি। উজ্জলার বাড়িতে কেন হামলা হয়েছে, তা আমরা জানি না।’ মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের নেতা শাহীন আল কাউসারও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে এই হামলা স্রেফ মাদকের কারণেই হয়েছে।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সুহেল বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

