থাইল্যান্ড ও আশপাশের স্থলভাগে অবস্থান করা ঘূর্ণাবর্তটি পশ্চিম দিকে সরে উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশের পর শনিবার রাতে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি ধীরে ধীরে আরো শক্তিশালী হতে পারে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ অব্যাহত থাকলে এটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে যেতে পারে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি অর্জন করবে এবং আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, এ পর্যন্ত গাণিতিক মডেল অনুযায়ী এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে যেহেতু বিষয়টি প্রাকৃতিক, তাই একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে এবং গতিবিধি দেখে গতিপথ সম্পর্কে বলা যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু বাংলাদেশ নয়; ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারসহ আশপাশের দেশগুলোও বেশ সতর্ক অবস্থানে থাকে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে প্রথমে ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হয়ে ভারতেই আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া দপ্তর ও সরকার কীভাবে কাজ করেÑএ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, কোনো কারণে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া এবং বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আবহাওয়া দপ্তর ১ ও ২ থেকে সরাসরি ৪ নম্বর সতর্কবার্তা জারি করে। এরপর সরকারের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় এবং উপকূলীয় এলাকার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকে। সেখানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। এরপর ওই সভায় যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, লঘু কিংবা নিম্নচাপের প্রভাবে রোব ও সোমবার সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে ভ্যাপসা গরম বাড়তে পারে। এরপর আগামী মঙ্গলবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়বে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বেড়েছে। গতকাল দেশের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীতে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও দুপুরের পর বান্দরবানে সর্বোচ্চ ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, উত্তর ওড়িশা ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২৫-২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ সময় সমুদ্র উত্তাল থাকবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বর্তমানে ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রয়েছে, যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল হলেও মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ারের কারণে সিস্টেমটির ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


