পটুয়াখালীতে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাতে নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিহতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)।
নিহতদের লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এর আগে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই তিনজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরো একজনের লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল বলেন, ‘ঝপ্পোড়াইয়া (ঝপ শব্দে) কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে ছুটে আসি। এসে দেখি বাস পড়ে আছে। এর নিচে অটো চাপা পড়ে আছে। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।’
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজ করছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কি না অথবা পানির মধ্যে আর কোনো লাশ আছে কি না, তা দেখতে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এর আগে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান তিনজনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


