সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। কারণ তার মতে, ভারত একটি বাস্তবতা। তারা দেশের তিন দিক ঘিরে আছে।

বিজ্ঞাপন

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অভ্যন্তরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর কর্মসম্পর্ক (মোডাস অপারেন্ডি) গড়ে তোলাকে ড. ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশিত উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পায়নি। এমনকি অন্যান্য দেশের তুলনায় অধ্যাপক ইউনূসকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক বার্তাও আসে দেরিতে। তৌহিদ হোসেনের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের প্রথম টেলিফোন আলাপের উদ্যোগও বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছিল।

সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে ড. ইউনূস তাকে অন্য একটি বিদেশ সফরের পথে দিল্লি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি মনে করেছিলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া এমন সফর কূটনৈতিকভাবে যথাযথ হবে না। এ ছাড়া এতে সম্পর্ক উন্নয়নের নিশ্চয়তাও ছিল না বলে তিনি মত দেন। পরে ড. ইউনূস তার যুক্তি মেনে নেন।

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতে সম্পর্ক উন্নয়নের আন্তরিক চেষ্টা করা হলেও পরে স্পষ্ট হয়ে যায়, সেই প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘প্রথম দিকে আমরা বেশ চেষ্টা করেছি। পরে দেখা গেল, এটা একেবারেই ব্যর্থ প্রয়াস।’

সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন আরো বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম তিন থেকে চার মাস তিনি অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছিলেন। রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সরকারের ভেতরে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে তার দাবি।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে লুৎফে সিদ্দিকীর নিয়োগের বিষয়টি তাকে আগে জানানো হয়নি। এছাড়া একটি মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, যেখানে তিনি নিজেকে অভিযুক্তের মতো মনে করেছিলেন। ওই ঘটনার পর প্রথমবার দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে জানান তিনি।

তৌহিদ হোসেন আরো দাবি করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও তার সঙ্গে আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তাকে ব্যথিত করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি। অন্যদিকে প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই গতি কমে যায়। চীনের সঙ্গে সম্ভাবনাময় কয়েকটি উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত থেমে যায় বলে তার দাবি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন