সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেই তা পুরোপুরি ডিজিটাল হয় না উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মাপতে হবে নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো তা দিয়ে—প্রযুক্তির সংখ্যা দিয়ে নয়।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘের শাসনব্যবস্থায় উদ্ভাবন সম্মেলন: ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে ‘শাসনব্যবস্থায় উদ্ভাবন ও আগাম পরিকল্পনাভিত্তিক প্রশাসনের প্রচলিত পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রশ্নোত্তরভিত্তিক আলোচনায় যোগ দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সংযোগ এর ভিত্তি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়। নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে সমস্যার মূল কারণ বুঝতে হবে, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় মন্ত্রী সফল ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি মূল সক্ষমতার ওপর জোর দেন। এগুলো হলো—সক্ষম প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনবল ও জনগণের আস্থা। একটি সক্ষম প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি, পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত তথ্যব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। দক্ষ জনবলের থাকতে হবে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতা। পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনে প্রয়োজন শক্তিশালী তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে। প্রযুক্তি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক বাধা চিহ্নিত করে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে পারে, তাই বাংলাদেশ সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয়করণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
আলোচনা শেষে মন্ত্রী জানান, কাগজভিত্তিক পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে রূপান্তর করার মানসিকতা থেকে সরে এসে নাগরিকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী পুরো সেবা-প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ধাপ যেমন কমছে, তেমনি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সরকার আরও সংবেদনশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন জনসেবা ও সামাজিক উদ্ভাবনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।
উল্লেখ্য, সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

