অভিবাসনের নামে প্রতারণা, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, ‘যারা অভিবাসন নিয়ে প্রতারণার চক্র হিসেবে কাজ করছেন, তারা ভালো হয়ে যান। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাই নজরদারি করছে। এখন আর রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। এখনও যদি এসব বন্ধ না করেন, তাহলে আপনাদের জন্য কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি) প্ল্যাটফর্মের কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ তার কাছে আসে। অধিকাংশ অভিযোগই বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পরিবার কিংবা চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে। অনেককে যে কাজের কথা বলে বিদেশে পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে তারা সেই কাজ পান না। কেউ নির্যাতনের শিকার হন, কেউ জিম্মি হয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন, আবার কেউ প্রতারণার শিকার হন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, সার্বিয়ায় নেওয়ার কথা বলে ২০০ থেকে ৭০০ জনের একটি গ্রুপের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপে পাঠানোর নামে ১০-১৫ জনের বিভিন্ন গ্রুপের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। এসব বিষয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন নেই। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই এসব ভুয়া প্রচারণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএমইটির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে। তাই ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই কিছু অসাধু চক্র পাসপোর্ট জমা, মেডিকেল সিরিয়াল এবং টাকা নেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেও এতগুলোর প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অনেক এজেন্সি লাইসেন্সের শর্তই পূরণ করতে পারে না, আবার কেউ কেউ সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর খরচের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একজন শ্রমিকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি সিঙ্গাপুর সরকারের নির্ধারিত খরচ নয়; বরং কিছু সিন্ডিকেটের কারণে এই ব্যয় বেড়েছে। এসব সিন্ডিকেট গরিব মানুষের রক্ত চুষে শত শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকেও সাধারণ প্রবাসীদের ঋণ দিতে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিন লাখ টাকার ঋণ পেতে যদি দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, অভিবাসন শুধু রেমিট্যান্স আয়ের বিষয় নয়; এটি দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। তাই বৈধ, নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতারণা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


