ইসির শুনানিতে বাগেরহাটবাসীর ৪ আসন বহালের দাবি

ইসির শুনানিতে বাগেরহাটবাসীর ৪ আসন বহালের দাবি

সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি আবেদনের শুনানিতে বাগেরহাটের ৪টি আসন বহাল দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা। সোমবার নির্বাচন ভবনে সংসদীয় আসন নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তারা এ দাবি জানান।

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানির সময় দাবি-আপত্তিকারী বা আবেদনকারীর কৌঁসুলি নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে নিজের যুক্তি তর্ক তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

এবার নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি এবং বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়। খসড়া প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে ১০ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

বাগেরহাটে আগে চারটি আসন ছিল- বাগেরহাট-১ (মোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী); বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া); বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) এবং বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা)। এবার বাগেরহাট-১ আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, রামপাল নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন এবং মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ প্রস্তাব করা হয়েছে।

শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন। হঠাৎ করে ইসি আমাদের বলেছেন চারটি আসন থাকবে না। একটি আসন বাদ দেওয়া বাগেরহাটবাসী মানে না। এটা অযৌক্তিক আইন পরিপন্থী এবং বাস্তবসম্মত নয়। ইসির এ সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের পরিপন্থী।

তার দাবি, বাগেরহাট জেলায় চারটি আসন আগের মত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে ইসি যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।

একই আসনের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন সেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। তারা সেটা না দিয়ে উনারা বাগেরহাটের জনগণের যে চারটি আসন ছিল, সেখান থেকে একটি আসন কমিয়েছে। আসন কমিয়ে বাগেরহাটবাসীর যে অধিকার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট বিরোধী কাজ করছে ইসি। আমাদেরকে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেবেন না, বা আমাদের আদালতের দিকে ঠেলে দেবেন না। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়।

অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোনো ধরনের গণশুনানি না করে ইসির এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। ইসি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত না দিলে আমরা আইনি পথে হাঁটব।’

বিএনপির জেলা নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বাগেরহাটে ৪টি আসন নয়, দরকার পাঁচটি আসন।

এদিকে বাগেরহাট-৩ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমতুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘সংসদীয় আসন নিয়ে গতকাল আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করতে পারিনি। আজকেও কিন্তু আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন শুধু একটি দলের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমাদের। ভোটার হিসাব কেন্দ্র করে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমাদের যৌক্তিক ববলে মনে হয় না।’

জানা যায়, নির্বাচন কমিশনে আবেদন শুনানির সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যরা থাকেন মঞ্চের উপরে। আবেদনকারীদের আপত্তি আবেদন শুনানির জন্য দর্শক সারির পাশে আলাদা ডায়াস রাখা হয়। শুনানি শুরুর প্রথম দিনের প্রথম পর্বে একটি মাত্র ডায়াস ছিল।

একই জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসন নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির দুই জন শুনানি করতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে রোববার বিকেলের শুনানিতে দুটি ডায়াস রাখা হয়। একটি পক্ষে আবেদন তোলার জন্য একটি ডায়াস এ বিপক্ষে আবেদন উত্থাপনের আলাদা ডায়াস রাখা হয়। আজ সোমবারও দুটি ডায়াস রাখা হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দিনের শুনানি উত্তেজনা ছাড়াই চলেছে।

আজকের শুনানিতে খুলনা অঞ্চল, বরিশাল অঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল দাবি আপত্তির শুনানি হচ্ছে। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা-৩, ৪, যশোর-৩, ৬, বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনের শুনানি শেষ করা হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঝালকাঠি-১, বরগুনা-১, ২, পিরোজপুর-১, ২, ৩, চট্টগ্রাম-৩, ৫, ৮, ১৯, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসনের শুনানি হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনের মধ্যে ৪০টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। কিন্তু নানা দাবি-আপত্তি ওঠে ৮৩টি আসনের বিষয়ে। এর মধ্যে সীমানায় পরিবর্তন আনা এবং বর্তমান সীমানা বহাল রাখার আবেদনও আছে। ১ হাজার ৭৬০টি আবেদনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮৩টি এসেছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে সিলেট অঞ্চলে। আর তিনটি আবেদন পড়ে ময়মনসিং অঞ্চলে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত এই চারদিন দাবি-আবেদন নিষ্পত্তি করে চুড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন