আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিষয়ে আদালতের ভূমিকা এবং ভোট গণনা নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগের সুরাহা না করে তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার এসব মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন। এই প্রতিবেদনে সুজন দেখাতে চেয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তার কতটা পূরণ করলো নতুন সংসদ।

বিশ্লেষণে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের মন্ত্রিসভার শপথ বর্জন রাজনীতিতে নতুন শংকার জন্ম দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে এই সংসদে উচ্চশিক্ষিতের প্রাধান্য রয়েছে। এবার সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি বলেও সুজনের গবেষণায় উঠে আসে।

সুজনের তথ্যে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫০ শতাংশ। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। আর ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত।

সুজনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনি ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, যখন এ রকম প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে। আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে তারা। এই নির্বাচনেও এই প্রশ্নগুলো উঠেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে।

সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল। তারা আদালত থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এ রকমও অভিযোগ উঠেছে যে অনেকে দ্বৈত নাগরিক এবং তারা প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু হয়েছে কি না, সেটি ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করেনি। তবে এখনো সুযোগ আছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, আরপিওর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও এটা তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা নির্বাচনও বাতিল দিতে পারবে। আরপিও অনুসারে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে মনোনয়নপত্রটা সম্পূর্ণ কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যদি মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না সেটাও প্রশ্ন করার সময় এসেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...