বর্তমান সরকারের নেওয়া বেশকিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অফিসে সময়মতো প্রবেশ ও প্রস্থানে সরকারের কড়া অবস্থানে আশান্বিত হচ্ছে তারা। এমন উদ্যোগের ফলে সরকারি কর্মীরা সময়মতো অফিসে উপস্থিত হবেন এবং কাজে গতি ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়ানুবর্তিতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া জেগেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অফিসে উপস্থিতি এবং প্রস্থানের বিষয়ে চিঠি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দপ্তর প্রধানরা উপস্থিতি নিয়ে দিয়েছেন কড়া বার্তা। ফলে মাঠ প্রশাসনে কাজের গতি বেড়েছেÑএমনটাই দাবি সচিবালয়ে কর্মরতদের।
দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন থাকলেও সেগুলো ব্যবহৃত হতো না। নতুন সরকারের তৎপরতায় দেখা গেছে, বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে সেই মেশিনগুলোতে নতুনভাবে কর্মীদের আইডি নম্বর আপডেট করে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। আবার অনেক মন্ত্রণালয়ে পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন।
সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে আমরা নিয়মিত অফিস করেছি, তবে ডিজিটাল হাজিরা নিয়ে আগ্রহ তেমন ছিল না। এখন অফিসের উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা আছে। এ জন্য ডিজিটাল হাজিরা ঠিকঠাকভাবে ফলো করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের কাজের আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের টিমের মাঝে বিষয়টা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।’
কথা হয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই সঠিক সময়ে অফিসে আসি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিস করার বিষয়টা আমাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’ আগের চেয়ে কাজের গতি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
অনেকেই বলছেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করার পর প্রথম দিকে কয়েক মাস ঠিকঠাক চলেছে। এরপর থেকে আর কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি কোনো কর্মীর মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবালয়ে এসব হাজিরা মেশিন পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের সময় স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আসার পরেও অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়মে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সারা দেশের সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
নতুন সরকার গঠনের পরই সচিবালয়ের অফিস দিয়ে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অফিসে উপস্থিত হোন। গত ২৯ মার্চ সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছান এবং এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির খবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর এ রকম নিয়মানুবর্তিতা দেখে সারা দেশের সরকারি কর্মচারীরা নড়েচড়ে বসেন।
ডিজিটাল হাজিরা মেশিন নিয়ে কথা হয় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রামার নাজমুল করিমের সঙ্গে। তিনি আমার দেশকে বলেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন অনেক আগে থেকেই ব্যবহার হতো। তবে এখন এটার প্র্যাকটিসটা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
এ প্রোগ্রামার জানান, তাদের মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টে হাজিরা মেশিন আছে। তবে তিনি মনে করেন, সচিবালয়ে সেন্ট্রালি হাজিরা সিস্টেম করলে সরকারের অর্থ অপচয় কম হতো। সব কর্মীর ইন-আউট এক সার্ভার থেকে পাওয়া যাবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি এবং প্রস্থানের বিষয়ে মাঠ প্রশাসনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তর প্রধানদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে জনসাধারণ ও অন্যান্য দপ্তরের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ যেন ব্যাহত না হয়।
নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ৮৬ সংখ্যক নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে গত ২৯ মার্চ পুনরায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে; দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে; অফিস চলাকালীন শুধু প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে; এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

