জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনের পুরো কর্তৃত্ব চায় ইসি

জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনের পুরো কর্তৃত্ব চায় ইসি

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের পুরো কর্তৃত্ব চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর জন্য সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন পর্যন্ত একজন করে উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে (ফোকাল পয়েন্ট) ইসির সঙ্গে সংযুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইসি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে নির্বাচনি বার্তা সমন্বয়ে দূতিয়ালি হিসেবে কাজ করবেন ওইসব কর্মকর্তা।

এর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। চলতি সপ্তাহে এসব চিঠি পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনি প্রশাসন সাজাতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন শুরু করেছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, মতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার নাশকতা চালিয়ে যাতে আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল না করতে পারে সে লক্ষ্যে নিরপেক্ষ, দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হচ্ছে। ইসির নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন আশানুরূপ সহায়তা না পেলে সরকারের অনুমতি ছাড়াই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা প্রত্যাহার করতে পারবে-এমন ক্ষমতা চাইবে। এই প্রত্যাহারে যাতে নির্বাচনের কাজে ব্যত্যয় না ঘটে, সেজন্য সরকারকে কমিশন থেকে অনুরোধ জানানো হবে। সেখানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, ইউএনও, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্য থেকে যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষদের আগাম ভেটিং করে ফিডলিস্ট প্যানেল প্রস্তুত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

এছাড়া ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) জন্য পৃথক প্যানেল তৈরি করা হবে, যাতে করে নির্বাচনে অনিয়মের কারণে কমিশন কাউকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করলে নতুন একজন যোগ্য কর্মকর্তাকে সেখানে পদায়ন করা যায়।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনকে ১৫টি অঞ্চলে বিভক্ত করে ইসির নিজস্ব চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। এ টিম নির্বাচনে দায়িত্বরত ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি দিতে সঠিক ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টিমের কাজে সমন্বয় করবে। এমনকি এসব নির্বাচনি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছে কি নাÑতা পর্যবেক্ষণ করবে।

সূত্র আরো জানায়, নির্বাচনের প্রাণভোমরা ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা। বিগত নির্বাচনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে এসব কর্মকর্তা সঠিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তারা যাতে নির্বাচনে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য একজন কনস্টেবল অথবা একজন আনসার সদস্য ভোট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিযুক্ত করার চিন্তা করছে। এ বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আনসার সদর দপ্তর ও অংশীজনদের মতামত নেবে।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে স্কুলপড়ুয়া তরুণ (নবম ও দশম শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দিতে চায়। নির্বাচনে এসব শিক্ষার্থী ভোটের গতিবিধি নজরদারি করবে, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটার ও সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করবে। এমনকি ভোটকেন্দ্রের বাইরে উচ্ছৃঙ্খলা, বিশৃঙ্খলা ও জটলা নিরসনে মটিভেশনাল কার্যক্রম চালাবে।

এ বিষয়ে নির্বাচনবিষয়ক মাঠ প্রশাসন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা করে কিছু সুপারিশমালা তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হবে।’ সবগুলোই প্রস্তাবিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রশাসনের প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরে যদি কারো কাজেকর্মে গাফিলতি দেখতে পাই, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করতে চাই। এর জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চাইব না। চাইলে পুরো প্রশাসনকে বদলি করে নতুনভাবে পদায়ন করা হবে। এর জন্য তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রশাসনের প্রত্যাহার ও পদায়নসহ প্রয়োজনীয় কাজের নিয়ন্ত্রণ চাইব।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরো বলেন, ‘এর জন্য সরকারি বিভাগে আমরা একটি চিঠি পাঠাচ্ছি। এই চিঠিতে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন পর্যন্ত একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সব ধরনের শঙ্কামুক্ত নির্বাচনে কোথায় সমস্যাÑসেগুলো ওই কর্মকর্তার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে, যাতে তফসিল ঘোষণার পর সব কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা সম্পন্ন করতে পারি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন