‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিমূলক ও সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা বা ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি। তিনি বলেন, রংধনুর সাতটি রঙ যেভাবে মিলেমিশে বর্ণিল আলোর ছটা তৈরি করে, তেমনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম-বর্ণের নিজস্ব সৌন্দর্য মিলেই তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

আসন্ন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রোববার ঢাকা-৯ আসনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে ঢাকা-৯ আসনের সনাতনী সম্প্রদায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

সভায় বক্তৃতাকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবস্থান নির্বিশেষে, প্রত্যেক নাগরিক যেন তার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকার বিনা বাধায় উপভোগ করতে পারে, এই লক্ষ্যকে নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা লাখো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান—এমন প্রশ্ন ছিল না। ২০২৪-এর আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে একসাথে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে, ২৪-পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।”

জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার দ্বিতীয় দফাতেই সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে—ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার দ্বিতীয় দফাতেও সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তা বা ‘রেইনবো ন্যাশন’-এর কথা উল্লেখ আছে। আমরা মনে করি হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্ম-বর্ণ এগুলি এক একটি রঙের সৌন্দর্য। আর সবগুলো রঙ মিলেই হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।”

তিনি স্পষ্ট করে জানান, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি বা ধর্মের নামে কোনো বিভেদ সমর্থন করা হয় না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাম্যের অধিকারভিত্তিক একটি বাংলাদেশ। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নীতি হচ্ছে—‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’।”

শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ঢাকা-৯ আসনের প্রতিটি পূজা মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। চলাচলের পথসহ মণ্ডপ এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সুনির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপস, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তদারকি দল, মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা বিকল্প জেনারেটর ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা থাকবে।

দেশের বর্তমান ধর্মীয় সম্প্রীতির উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার পূজার ছুটি বৃদ্ধি করে তিন দিন করেছে, যা সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট পাঁচ দিনে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে পূজা মণ্ডপগুলোতে সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এবার সারাদেশে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩০ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১,৫০০টি বেশি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা বাবু যদু চন্দ্র দাস এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গুরু দাস।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনুস মৃধা, মাসুদ চৌধুরী, কাজী ইয়াহিয়া বাবু, খন্দকার মোহাম্মদ ওসমান গনি টুটুল, চৌধুরী ওয়াহিদুর রহমান চয়ন, সাঈদ উদ্দিন সুমন ও কাজী মুনমুনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন