বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১২ আগস্টের পর থেকে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এছাড়াও, আরেকটি নতুন লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত কয়েকদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, বৃষ্টিবহুল শ্রাবণ মাসে সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও গত কয়েকদিনের তুলনায় বর্তমানে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কম রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মাত্র এক মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হলেও, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশালের ভোলায় ৭৪ মিলিমিটার। এদিন সারাদেশের মধ্যে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে জানান, মৌসুমী বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৩-৪ দিন বৃষ্টির প্রবণতা কম থাকলেও আগামী ১২ কিংবা ১৩ আগস্ট থেকে তা আবার বাড়বে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়ে কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি আরো জানান, কখনো কখনো হালকা বৃষ্টি হলেও আপাতত রাজধানী ঢাকায় ১৫ তারিখের আগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সন্ধ্যা ছয়টার পূর্বাভাসে জানায়, আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান থেকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন জানান, দেশের নদীগুলোর পানি ও বন্যার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট জেলার কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ১ দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমা প্রবাহিত হয়ে নিমাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি হ্রাস পেলেও তা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সবমিলে আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর অববাহিকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


