রাজধানীর মগবাজারে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ‘দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজা মাহমুদ। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করা এই ফাউন্ডেশনের পাশে সবসময় থাকার আশ্বাস দেন ফিরোজা মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাংলাদেশে বিগত দুই-তিন দশকের মধ্যে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ক্যানসার রোগীর যে কষ্ট, সেটা আমার পরিবারের মধ্যেই আমি দেখেছি। কারণ আমার শাশুড়ি কিছুদিন আগেই ক্যানসারে ইন্তেকাল করেছেন। আর আমার মা ইন্তেকাল করেছেন কিডনির অসুখে। বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে এখনো অনেক সমস্যা আছে আমাদের। প্রয়োজনীয় হাসপাতাল নেই, যন্ত্রপাতি নেই, ডায়াগনসিস করার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। যখন ক্যানসার ধরা পড়ে, তখন দেখা যায় এটা অনেক দেরি হয়ে গেছে; থার্ড স্টেজ, ফোর্থ স্টেজে চলে গেছে। তখন শুধু প্রিয়জনের কষ্ট দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। আমাদের বেশকিছু চিকিৎসার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্যানসারে আমরা পিছিয়ে আছি বলেই আমার ধারণা। আমি ধন্যবাদ জানাই দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশন যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশেষ করে দিগন্তের বাবা এবং মা দুজনেই আজকে এখানে উপস্থিত আছেন। তারা যে সবর করেছেন, এজন্য তাদের আমি প্রশংসা করি।’
দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশনের প্রচার ও প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দেশ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় পত্রিকা। সেখানে যদি দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশন সম্পর্কে বলা হয় এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়, মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়, তাহলে আমি আশাবাদী যে মানুষ এগিয়ে আসবে। এমন একটা ভালো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে না। সেই প্রচারের কিছুটা দায়িত্ব আগামীকাল থেকে ইনশাআল্লাহ আমরা গ্রহণ করব, আমাদের পত্রিকা থেকে এবং যাতে করে বাংলাদেশের বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী জানতে পারে যে তাদের জন্য দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশনে কিছু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আছে। এখানে যারা ম্যানেজমেন্টে থাকবেন, তাদের অনেকেই আমার বন্ধু-বান্ধব। কাজেই তাদের সঙ্গে আমি সবসময়ই জড়িত থাকব।’
দেশে ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ক্যানসার হলেই তো আমাদের বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী দেশে দৌড়াতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। আমি মনে করি, আমাদের ডাক্তারেরও অভাব নেই। আমাদের প্রচুর ডাক্তার, মেধাবী ডাক্তাররা আছেন। কিন্তু হয়ত সুযোগ-সুবিধার সমস্যা আছে। হয়ত ট্রেনিংয়ের সমস্যা আছে, স্পেশালাইজেশন হচ্ছে না। এগুলোর দিকে দেখা দরকার। আমি আজকের এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানাব, ক্যানসার অসুখটাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেন খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে। এটাকে প্রায়োরিটি বেসিসে যেন চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হয়।’
দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশন দরিদ্র ক্যানসার রোগীদের নিয়ে কাজ করছে। ঢাকা শহরে থাকার জন্য আবাসন সুবিধা নেই বা হাসপাতালে ভর্তির সুযোগও নেই এ ধরনের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের দিগন্ত ক্যানসার হোমে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

