কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যাত্রাবাড়ীতে দুই লাশ উদ্ধার

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যাত্রাবাড়ীতে দুই লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘটনায় আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে দিগন্ত পরিবহনের বাস সুপারভাইজার জাহিদুল ইসলাম তায়েফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য ঘটনায় নিজ বাড়ির ছাদের টিনশেড কক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আর দ্বিতীয় ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধরে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে। পুলিশ জানায়, যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত ইন্টার কম আবাসিক হোটেলের পঞ্চম তলার ৫৩১ নম্বর কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জাহিদুল ইসলাম তায়েফ (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত জাহিদুল ইসলাম তায়েফ দিগন্ত পরিবহনের ঢাকা-হবিগঞ্জ রুটের একটি বাসে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, ছেলে মূলত হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজাবাজার এলাকায় নানার বাড়িতে থাকতেন। রাতে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে জানতে পারেন, একটি আবাসিক হোটেলে তার ছেলে গলায় ফাঁস দিয়েছে। তিনি বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কারও কোনো ধারণা নেই। সম্প্রতি ছেলের আচরণেও তেমন কোনো অস্বাভাবিকতা তারা লক্ষ্য করেননি। জানা গেছে, জাহিদুলের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাজনগর এলাকায়। বাবা জহিরুল ইসলাম হোটেলে চাকরি করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহিদুল ছিলেন বড়।

এদিকে গতকাল একই থানার শহীদ ফারুক সড়ক এলাকায় আরও একটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানায়, সকাল ১১টার দিকে খবর পেয়ে শহীদ ফারুক সড়কের একটি ছয়তলা বাড়ির ছাদের টিনশেড কক্ষ থেকে সোহেল আহমেদ (৫২) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ বলেন, প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিহতের স্বজন, পরিচিতজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে তদন্তকারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোহেল আহমেদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। তিনি প্রায়ই বাড়ির ছাদের টিনশেড কক্ষে সময় কাটাতেন। সেখান থেকেই তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। দুটি পৃথক ঘটনায় উদ্ধার হওয়া লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পরই দুটি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন