আবাসনকে শুধু বাজার ও বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরকারকে সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। পাশাপাশি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে পরিকল্পনা, জমি, অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার বিশ্ব বসতি দিবসে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। এতে সারা দেশের নগর এলাকায় সার্বজনীন আবাসন ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বৈষম্য নিরসনে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ যেকোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে সর্বনিম্ন ১০-১৫ শতাংশ জমি অথবা নির্মিত ফ্ল্যাট/ডুয়েলিং ইউনিট নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা; বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার মানোন্নয়ন, পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপ মডেল অনুসরণে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি বাজারভিত্তিক টেকসই আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকামুখী অতিরিক্ত মানুষের চাপ কমানো এবং সমগ্র দেশে একটি সুষম ও টেকসই স্থানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত করা; সারা দেশের জন্য জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা আইনের আওতায় একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা; জাতীয় আবাসন নীতি অনুসরণ করে 'জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল' গঠন করা, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য কম সুদে ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণে গৃহনির্মাণের সুযোগ তৈরি করা; শিল্পাঞ্চল ও প্রধান প্রধান শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণ নিশ্চিত করা; সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং এর মাধ্যমে আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; জলাভূমি ও কৃষিজমি রক্ষা করে টেকসই আবাসন গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক-ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নীতি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের আবাসন সংকট সমাধান করা অসম্ভব। 'জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬'-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সুষম অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়াই হলো টেকসই ও বৈষম্যহীন নগর বাংলাদেশ গড়ার একমাত্র পথ। আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক প্রাধিকারে নিয়ে আসা দরকার। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে দেশের নগর এলাকায় আবাসনের সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে বলে মনে করে আইপিডি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


