অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দুই বছর কঠিন হবে। অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেব- যেগুলো জনপ্রিয় নাও হতে পারে। সুতরাং একটা কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে গেলে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহায়তাও চান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধী দলের বন্ধুদেরকে বলতে চাই এখানে আপনাদের সহযোগিতা দরকার। এটা দেশের স্বার্থে। সকলের স্বার্থে। আমরা যদি অর্থনীতিকে তুলে এটা একেবারে লো লেভেল একটা ইকুইলিব্রিয়ামে চলে গেছে। এখান থেকে আমাকে তুলে আনতে হলে আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের লিডারশিপ ঠিক আছে। আমাদের ক্যাপ্টেন ঠিক আছে। এবং আমি মনে করি ক্যাপ্টেনের ভিশন ঠিক আছে। ন্যায়নীতির অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সততার অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সুতরাং এখান থেকে আমরা ভুল এখান থেকে আমরা আমি মনে করি খুব সহজে বের না হলেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। এটা কঠিন একটা কাজ। কিন্তু আমরা বেরিয়ে আসতে পারব এবং আপনাদের সকলের সহযোগিতা দরকার।
এখন দেশের অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা বোঝাতে বেশ কিছু ক্ষেত্রের সূচক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখান। তিনি বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি। যখন ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ হয় তখন অর্থনীতির গতি ‘অলমোস্ট থেমে যাওয়ার’ অবস্থায় চলে যায়। ২০০৫ সালে এটা ছিল ১৩ শতাংশ।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অর্থনীতি কোথায়? আমাদের আর্থিক সক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।
বিএনপির নেতাদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ তফসিলকরণ এটা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাংকিং কালচারের মধ্যে সাধারণ প্রক্রিয়া। এটা বিএনপি আবিষ্কার করে নাই। যেদিন থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে বিশ্বে সেদিন থেকেই ঋণ তফসিলীকরণের ব্যবস্থা আছে। এবং ভবিষ্যতে থাকবে। এটা কেন হয়? ঋণ তফসিলীকরণ কেন হয়? যারা ব্যবসা করে তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। যেমন কোভিডের সময় মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য গ্রস্ত হয়েছে সব ব্যবসায়ী তাদেরকে ঋণ তফসিলীকরণ করতে হয়েছে সরকারকে সহযোগিতা করতে হয়েছে আমাদের এই যুদ্ধের সময় আমাদের এই আন্দোলনের সময় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋণ তফসিলীকরণ হয়েছে। কিন্তু গত দীর্ঘ ১৭ বছরের বিএনপির আন্দোলন বিএনপির যারা ব্যবসায়ী আছে তারা কেউ ব্যবসা করতে পারে নাই, তাদেরকে ব্যাংকের স্যাংশন করার লোন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। লোন স্যাংশন হয়ে গেছে। কিন্তু লোন দেওয়া হবে না। তাদের লোন অ্যামাউন্ট লোনের সময় ঋণের সময় যখন শেষ হয়ে গেছে এক্সটেনশন করা হবে না। যত ধরনের বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করা যায় ব্যাংকিং সিস্টেমে। এই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেটা করা হয়েছে। তাদের গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রিসিটি লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এই বিএনপি নেতা যাদেরকে খেলাপি বলা হচ্ছে তারা এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে পালিয়ে বেরিয়েছে বাড়িতে থাকতে পারে নাই। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অনেকে জেলের মধ্যে অবস্থান করেছেন। এখন জেলে বসে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কি এত সহজ ব্যাপার?
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক দল আছে তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

