আইভিএম গবেষণায় সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহার। বন্ধ্যত্বে ভুগছেন, এমন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওিএস রোগীদের জন্য প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তার নেতৃত্বে একটি চিকিৎসকদল। এর ফলে নারীদের বন্ধ্যত্ব সমস্যা সমাধানে আশার আলো দেখা দিয়েছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেস ও এক্সপোতে উপস্থাপিত একটি গবেষণায় প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি আইভিএমের একটি উপকারি দিকের সন্ধান মিলেছে। এতে ডিম্বানুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিপূরকের উপকারিতা পিসিওএস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহারের নেতৃত্বে আইভিএমসংক্রান্ত এ গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে পরিচালিত হয় । ড. আশরাফুন নাহার এবং তার সহকর্মীরা পিসিওএস আক্রান্ত ও বন্ধ্যত্বে ভুগছেন এমন রোগীদের গবেষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইভিএম (ইন ভিট্রো ম্যাচুরেশন) হলো একটি উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে নারীর শরীর থেকে অপরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে বা শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে পরিপক্ক করা হয়। এরপর সেগুলোকে নিষিক্ত করে জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এটি সাধারণত পিসিওএস রোগীদের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি। কারণ এতে আইভিএফের তুলনায় খুব কম বা হরমোন ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় না।
ড. নাহার ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের কাছ থেকে অপরিণত ডিম্বাণু সংগ্রহ করেন। রোগীদের গড় অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোনের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার এবং তাদের গড় বয়স ছিল ৩০ দশমিক ৫ বছর। রোগীদের গড় বিএমআই ছিল ২৮ দশমিক ৫ কেজি/বর্গমিটার ।
এতে প্রত্যেক রোগীকে তিনদিনের জন্য ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোনের একটি স্বল্প মাত্রা, অর্থাৎ ১৫০ আইইউ ডোজ দেওয়া হয়েছিল। এরপর গবেষকরা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন ট্রিগার প্রয়োগ না করেই ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।
জানা যায়, ডিম্বাণুগুলো সংগ্রহ করার পর গবেষকরা সেগুলোকে ইনকিউবেশনের জন্য একটি বাইফেজিক আইভিএম সিস্টেমে রাখেন। সেখানে ডিম্বাণুগুলো একটি আইভিএম মিডিয়ামে পরিপক্ক হয়। কিছু ডিম্বাণু মাইটোকুইনোন দিয়ে পরিপক্ক করা হয়েছিল। গবেষকরা ডিম্বাণুর কিউমুলাস কোষের প্রসারণ মূল্যায়ন করার জন্য আইভিএমের আগের ও পরের ছবি সংগ্রহ করেন। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর হায়ালুরোনিডেজ ব্যবহার করে ডিম্বাণুগুলোকে আবরণমুক্ত করা হয়। ড. নাহার ও তার সহকর্মীরা কিউমুলাস কোষগুলো সংগ্রহ করে ডালবেকোস ফসফেট-বাফার্ড স্যালাইন দিয়ে ধুয়ে নেন এবং বিশ্লেষণের আগে সেগুলোকে দ্রুত হিমায়িত করেন।
কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের গবেষণা পরিচালক ও দলের অন্যতম গবেষক ড. ইয়ে ইউয়ান বলেছেন, পিসিওএস আক্রান্ত রোগীরা হরমোন উদ্দীপক ওষুধের প্রতি পিসিওএসবিহীন রোগীদের চেয়ে ভিন্নভাবে সাড়া দেন। এর ফলে তাদের মধ্যে সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি চিকিৎসার একটি বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (ওএইচএসএস) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এর কারণে ডিম্বাশয়ে বেদনাদায়ক ফোলাভাব দেখা দেয়, যা সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হরমোন ওষুধের কারণে হয়ে থাকে। তবে মুখে খাওয়ার ওষুধও কখনো কখনো একই প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যূনতম বা কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই আইভিএম প্রায় সম্পূর্ণরূপে ওএইচএসএসের ঝুঁকি দূর করতে পারে। এর কারণ হলো, আইভিএম চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের চিকিৎসার সময় কম ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়।
এতে আরো বলা হয়, ড. নাহার ও তার সহকর্মীরা এ গবেষণার জন্য ১৫ জন রোগীর নমুনা ব্যবহার করেন।
ড. ইউয়ান বলেন, বর্তমান আইভিএম গবেষণা থেকে আমরা পাঁচটি জীবিত শিশুর জন্ম দিয়েছি এবং সিসিআরএম ফার্টিলিটিতে মোট ১৪টি আইভিএম শিশুর জন্ম হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

