স্টাফ রিপোর্টার

সারাদেশে থামলেও উপকূলজুড়ে থাকবে দাপট

সারাদেশে থামলেও উপকূলজুড়ে থাকবে দাপট

ক্লান্ত রূপনগরী ঢাকার বুকে শ্রাবণের মেঘেরা আজ কিছুটা শান্ত। থেমে থেমে ঝরে পড়া স্নিগ্ধ বৃষ্টির ছোঁয়ায় নাগরিক যান্ত্রিকতা যখন আলতো জিরিয়ে নিচ্ছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ দিগন্তের উপকূলীয় জনপদে বইছে মেঘ বৃষ্টির উচ্ছ্বাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী বর্ষণের তাণ্ডব খানিকটা স্তিমিত হলেও, সাগরপাড়ের বুক চিরে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে।

সুরের ছন্দে মোড়ানো এই বর্ষণমুখর দিনে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি। অথচ এর বিপরীতে প্রকৃতির অন্য রূপ দেখা গেছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়—যেখানে ঝরেছে ১১৬ মিলিমিটারের বারিধারা। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৬, টেকনাফে ১১২, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ৮০, সন্দ্বীপে ৭৮, চট্টগ্রামের মূল ভূখণ্ডে ৭১, আমবাগানে ৬৭, বাগেরহাটের মোংলায় ৫৩ এবং খুলনার কয়রায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কাজী জেবুন নেসা জানান, নতুন করে কোনো প্রলয়ঙ্করী ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা নেই। বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দে দেশজুড়ে থেমে থেমে এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আগামী শনিবার থেকে সারা দেশেই ভারী বৃষ্টির এই প্রবণতা কমলেও উপকূলীয় এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে দেশের সব বিভাগেই কম-বেশি মেঘের আনাগোনা ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণের কোনো আশঙ্কা নেই।

সন্ধ্যা ছয়টার সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন বলছে, রাজস্থান থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছিমছামভাবে অবস্থান করছে। বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকলেও অন্যত্র এর প্রভাব মোটামুটি মাঝারি।

এর জাদুকরী প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চলে এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণের খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দেশের কয়েকটি নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে চলতে বলা হয়েছে।

এদিকে, অবিরাম ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে ভূমিধসের মারাত্মক ঝুঁকি রয়ে গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবানে মাঝারি এবং চট্টগ্রামে অপেক্ষাকৃত কম ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, আগামী পাঁচ দিনের শেষভাগে বর্ষার এই রমরমা ভাব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে উপকূলীয় প্রান্তরে মেঘের ডানায় ভর করে শ্রাবণের এই স্নিগ্ধতা আরও কিছুদিন তার আপন মহিমায় রাজত্ব করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন