ডাক বিভাগের সারাদেশে প্রায় ৭ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। চলতি বছরে ২ হাজার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাকি ৫ হাজার পর্যায়ক্রমে পুরুণ করা হবে।
রোববার বিকালে ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আর জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থাই ডাক বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, আগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা’। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রথাগত চিঠিপত্রের পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডাক বিভাগের নগদ এর প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। এই সেবার পরিধি দিন দিন বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের পণ্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠাতে সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন, যা প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা তৈরি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) আবু তালেব ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূর প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


