দেশীয় পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজনে ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ বুধবার শুরু হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে বেলা ১১টার দিকে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দেশীয় সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চালু থাকবে। এদিকে উদ্বোধনের পর বিসিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যভিত্তিক বই ‘কারুপণ্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন। তিনি বলেন, শুধু পণ্য তৈরি করলেই হয় না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে।
দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনো কমেনি। আধুনিক যুগে মানুষ প্রযুক্তির ভিড়ে আবার প্রকৃতির কাছে ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রায় ফিরে আসছে। এগুলো একদিকে যেমন সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলছে। বিসিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য নানাবিধ কাজ করছে, মেলা এর মধ্যে অন্যতম। বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকেই পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ করে যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, বিসিক উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রসারে প্রতি মাসেই মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। আমরা উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে বাজার প্রসার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছি। বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া বিসিক সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাঁদের উৎপাদিত নান্দনিক, মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবেন। এবার মোট ৬০টি স্টলের মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের উদ্যোক্তারা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া মেলায় সাতটি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা, রাজশাহী সিল্ক ইত্যাদি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

