আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পোস্টাল ব্যালটের নির্ধারিত সময় শেষে ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার

পোস্টাল ব্যালটের নির্ধারিত সময় শেষে ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধন

অনলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় শেষে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রথমবারের মতো নতুন এই পদ্ধতিতে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মডেল কিভাবে কাজ করে তা জানতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং ইউরোপের অনেক দেশ আগ্রহ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রেসসচিব।

বিজ্ঞাপন

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, নিবন্ধিতদের মধ্যে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন রয়েছেন। এরা মূলত ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন না। বাকি ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন ভোটার বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরা।

তিনি বলেন, এটা এই প্রথমবারের আমরা করছি। প্রথমবার এটা করার পরে এটা একটা অভূতপূর্ব সাড়া। প্রধান উপদেষ্টা এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য দেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে দীর্ঘদিন ধরে ডায়াসপোরা ভোটিং চালু আছে, সেখানে গ্লোবাল ইনক্লুশন রেট গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে প্রথম বছরেই এ হার ৫ শতাংশের বেশি হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, কিছুদিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরবর্তীতে কন্ডোলেন্স মেসেজ নিয়ে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার ফরেন মিনিস্টার এবং নেপালের ফরেন মিনিস্টার। তারা আমাদের চিফ এডভাইজারের সঙ্গে যখন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, তখন তারা সরাসরি বলেন যে আপনাদের এই মডেলটা আমরা দেখছি। নেপালেরও প্রচুর ডায়াসপোরা পিপল আছে, শ্রীলঙ্কারও একই। শ্রীলঙ্কাররা অনেক অনেক আগের থেকে, আমাদেরও অনেক আগের থেকে, তারা বিদেশে, তাদের জনগণ বিদেশে থাকছে। তো এই মডেলটা, এছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং ইউরোপের আরও অনেক দেশ আমাদের এই মডেলটা দিতে চাচ্ছে, এটা কীভাবে ওয়ার্ক করে।

তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই নিবন্ধিত ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট দিতে পারবেন। সম্ভাব্য সময় ধরা হচ্ছে ২১ জানুয়ারির দিকে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন বলেছেন যে, “সামনের দিনগুলোতে এটা নিয়ে আরও কাজ করার স্কোপ আছে।

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের, আপনারা জানেন যে ডায়াসপোরা পপুলেশন অনেকে; কেউ কেউ বলেন যে এটা প্রায় দেড় কোটির মতো আছেন। তারা যেন প্রত্যেকেই ভোট দিতে পারেন—সেইটার দিকে আমাদের আসলে টার্গেট রাখতে হবে। সেই জায়গায় আমরা পৌঁছতে চাই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এবারের যে অভিজ্ঞতাটা, সেটা সামনের দিনগুলোতে ভোটে আমাদের লাগবে।

তিনি বলেন, আর এটার মাধ্যমে যে মেসেজটা গেল, যে আমাদের ডায়াসপোরা ভাই-বোন, যারা সত্যিকার অর্থে, যাদের রেমিট্যান্সের ওপর আমাদের ইকোনমি অনেকটা দাঁড়িয়ে আছে, তাদেরকে আমরা যে ইম্পর্ট্যান্সটা দেওয়া উচিত ছিল, সেটা কিন্তু হিস্টোরিক্যালি দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো এটা হচ্ছে, এবং এ বিষয়ে আমি বলতে পারি, চিফ এডভাইজার ডে ওয়ান থেকে এ বিষয়ে সিরিয়াসলি এটাকে পারসু করছিলেন।

ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে চালু করা ভোটের গাড়ি বা ক্যারাভান কর্মসূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব জানান, গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ১০টি ভোটের গাড়ি বিভিন্ন জেলায় যাত্রা শুরু করে। অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হচ্ছে। আগে যেখানে ৩০০টি উপজেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৪৯৫টি উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভোলা বা হাতিয়ার মতো দ্বীপ উপজেলা গুলোতেও যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।

নির্বাচন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড ও বিজিবিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রশিক্ষণও দ্রুত শেষ হবে। সিসিটিভি ও বডি-অন-ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ চলছে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভোট সংক্রান্ত সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ অ্যাপও তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব জানান, এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য পাওয়া যাবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মনিটরিং কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি জেলা, বিভাগ ও ঢাকায় কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার থাকবে। ভোটের গাড়িগুলো ৯ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এ সময় ৩০টি টিভিসি প্রচার করা হবে এবং কিছু গাড়ি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করবে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও প্রেস সচিব জানান। তিনি বলেন, আজকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চিফ এডভাইজারের একটি মিটিং ছিল। এগেন, এটাও নির্বাচনকে সামনে রেখেই, নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিশেষ করে গণভোটের বিষয়টি নিয়ে। যাতে আমাদের ইমামদেরকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তারা যাতে তাদের, বাংলাদেশি—যারা শুক্রবারে খুতবা পড়েন, সেই সময় বা অন্যান্য সময়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন গণভোটের বিষয়ে, গণভোটের গুরুত্বের বিষয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে। তো সেই জন্য আজকে ইমামদেরকে নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বড় মিটিং ছিল। সেখানে বলা হয়, ইমামদের সঙ্গে অলরেডি ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে তারা এক ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। তাদেরকে এই গণভোটের বিষয়ে জানিয়েছেন এবং সো ফার তাদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন।”

প্রেসসচিব জানান, দেশে থাকা ৭৭ হাজার মক্তব এবং প্রায় ৪ লাখ মসজিদের ইমামদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় একাই প্রায় ৪ হাজার মসজিদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ের মাধ্যমেও জনগণকে গণভোটে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট সচিব, ইসলামী ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে, যা সারা দেশে বিতরণ করা হবে বলে জানান প্রেসসচিব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন