জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের পূর্ণ প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহরুল আলম।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘হল অব ইন্টিগ্রিটি’-তে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ এসপি প্রবেশনারা ২০০৮ সালে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছিলেন এবং সম্প্রতি তাদের নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।
আইজিপি বাহরুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। আমরা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক।
তিনি এএসপি প্রবেশনারদের স্মরণ করান যে, তাদের প্রত্যেকেরই পূর্বতন কর্মক্ষেত্রে বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইজিপি আরও বলেন, আজ আমরা এমন এক যুগে দাঁড়িয়েছি যেখানে শুধুমাত্র শারীরিক শক্তি বা প্রথাগত পদ্ধতি দিয়ে পুলিশিং যথেষ্ট নয়। সাইবার অপরাধের বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমতের প্রভাব বিবেচনা করে এখন প্রয়োজন বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজন ক্ষমতা। তিনি এএসপি প্রবেশনারদের সততা ও পেশাদারিত্ব ডিজিটাল পরিসরেও বিস্তৃত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি এএসপি প্রবেশনারদের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা এবং বিধি-বিধানের প্রতি কঠোর আনুগত্য বজায় রেখে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মোঃ আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস) মুসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন।
উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় নিয়োগ বঞ্চনার শিকার ছিলেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি নিয়োগ লাভ করেছেন। এ সময় ২৭তম ব্যাচের ৬০ জন, ২৮তম ব্যাচের ১ জন এবং ৪৩তম ব্যাচের ৬ জন কর্মকর্তা এএসপি প্রবেশনার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

