কোরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বসা পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না।
বুধবার রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশের নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি যে রাস্তাঘাটে কোরবানির গরু বা পশু আনা-নেওয়ার সময় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটবে না। ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো কঠোর হস্তে দমন করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যানজট নিরসন, পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা, মহাসড়ক, রেলপথ এবং নৌঘাটের ব্যবস্থাপনা এবং চামড়া ও চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ সভা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু অনুশাসন জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: রেললাইন এবং মহাসড়কের মধ্যে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। ঢাকার উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত স্থানের বাইরে যত্রতত্র কোনো হাট বসবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দুই সিটি করপোরেশন পদক্ষেপ নেবে।
ঈদে যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছরই গাবতলী হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় এবং আনা-নেওয়ার সময় বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কেই অপেক্ষা থাকতে হয় এবং গাড়ি ও কোচের শিডিউলে বিপর্যয় ঘটে। এই সমস্যা নিরসনে ডিএমপি, সিটি করপোরেশনের কিছু পরামর্শ ও সুপারিশ নিয়েছি। সেগুলো বিবেচনায় রেখে ইজারাদার, ডিএমপি এবং সিটি করপোরেশনকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। সেই অনুযায়ী তারা কাজ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের ৭-১০ দিন আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং হাটের ইজারাদাররা আবারও বৈঠক করবেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নির্বিঘ্নে পশু ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসনের চেষ্টা করার বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
মীর শাহে আলম জানান, এখানে একটি নতুন রাস্তা হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এটির কাজ শেষ হবে। এটিকে বাইপাস রাস্তা বা সার্ভিস রোডও বলতে পারি। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে গাবতলী-আমিন বাজারের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা রাখি।
তিনি বলেন, পশুর হাটগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব এবং প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। দায়িত্বে থাকবে বিজিবি সদস্যরাও। এ ছাড়া এখানে স্বাস্থ্য ক্যাম্প বসানো হবে।
শাহে আলম বলেন, আশা করি ঈদুল আজহার পশুর হাট এবং দেশবাসীর ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ও আসার রাস্তাগুলো নির্বিঘ্ন থাকবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সজাগ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

