আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মার্ক রুবিওকে কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিন

কূটনৈতিক রিপোর্টার

আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিন

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে চিঠি লিখেছেন ‘কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস’ -এর দ্বিদলীয় সহ-সভাপতি সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন এবং নাইল পাও। গত মঙ্গলবার লেখা চিঠিতে তারা বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিঠিতে কংগ্রেসের এ দুই সদস্য বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

চিঠিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবার বাংলাদেশে ভোট হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪০০ শরও বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নাজুক অবস্থা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তারা বলেন, এ প্রেক্ষাপট সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ।

চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তা সহায়ক হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন