নগর স্বাস্থ্যসেবায় সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর কথা ভাবছে সরকার

নগর স্বাস্থ্যসেবায় সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর কথা ভাবছে সরকার

নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক সেবা চালুর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। একই সঙ্গে নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ইউনিট নির্ধারণ করে এ পরিকল্পনা সাজানো হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশকে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে।

এম এ মুহিত বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। ফলে সে সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুরো মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ওই মডেলের নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

নগর স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর যৌথভাবে এ সেবা পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে এসব কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা এবং সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানাসহ আরও কয়েকজন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন