দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সোচ্চার হচ্ছে ধর্মীয় সংগঠন-হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন বিভাজন না হয় এবং পতিত আওয়ামীবিরোধী ঐক্য সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সংগঠনটি।
এরই অংশ হিসেবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন হেফাজত নেতারা। শনিবার রাতে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছে সংগঠনটি। আগামী শনিবার পাঁচটি ইসলামী দলের সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জামায়াত সহ অন্য দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে আগামী ৩ মে ঢাকার মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েত ঘিরে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এই সমাবেশ হবে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী রোববার আমার দেশকে জানান, গত ২৭ রমজান খাস কমিটির এক বৈঠকে হেফাজত নেতারা সিদ্ধান্ত নেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও বেশকিছু জরুরি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে বসেন হেফাজত নেতারা।
এসময় বিএনপিকে হেফাজত নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বহাল রাখা ও ‘বহুত্ববাদ’ শব্দ না ঢোকানোর ব্যাপারে বিএনপিকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, শাপলা ও জুলাই-আগস্টের গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচারকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে হেফাজতের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে। গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের বিচার দ্রুত আগাতে ট্রাইবুনালের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।
আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে চালানো হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরা মামলা দায়ের করেছি। শাপলার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিএনপিকেও সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৫ মের মামলায় হেফাজতের আলেম-ওলামা ও কর্মী-সমর্থক ছাড়াও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছিল। বিএনপির ওই নেতাকর্মীদের মামলাসহ হেফাজত নেতাদের মামলাগুলোও দ্রুত প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দিতে বিএনপির সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিএনপিকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে। তৌহিদি জনতা ও আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে যায় এমন কথাবার্তা বলা থেকেও বিরত থাকতে বিএনপিকে অনুরোধ করা হয়। বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ ও ওলামায়ে কেরাম যে অসন্তুষ্ট, তা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। বরং জাতীয় ঐক্য গঠনে বিএনপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, সেই আশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে বিএনপিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের বৈঠক নিয়ে কিছু মিডিয়ার রিপোর্টে বিএনপির একতরফা বক্তব্য তুলে ধরায় জনমনে হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, যা কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। হেফাজত কখনো কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। নির্বাচনি রাজনীতি থেকেও হেফাজত সবসময়ই মুক্ত থাকবে। হেফাজতের নাম বিক্রি করে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াবলিতে হেফাজত জনগণের পক্ষেই সবসময় মতামত দেয় এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হেফাজতের অবস্থান পূর্বের মতোই অবিচল থাকবে বলে ঘোষণা দেন এই নেতা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

