বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে তার লেখালেখির বিষয়টি তুলে ধরেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যাসেম্বলি অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি কথা বলেন ।
তিনি বলেন, ‘সেই সময়ের ফ্যাসিস্ট সরকার দেশবিরোধী বেশ কিছু চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির বিরুদ্ধে আবরার তার লেখনীর মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেছিল। এটাই ছিল তার অপরাধ।’
বরকত উল্লাহ আরও বলেন, আবরারের লেখায় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে ফেনী নদীর পানি এবং ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে সে লিখেছিল।
আবরার হত্যার দিনের স্মৃতিচারণ করে তার বাবা বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে তার মা আবরারকে বাসে তুলে দিয়েছিলেন। পরে রাতে তাকে ঘুম থেকে তুলে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, ‘সেদিন সকালে তার মা তাকে বাসে উঠিয়ে দিয়েছিল। বিকেল ৫টার দিকে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।’
আবরারের বাবা বলেন, তার সন্তানকে হত্যার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন। একই সঙ্গে বুয়েটসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও র্যাগিং সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
বরকত উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পাসে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী র্যাগিং বা নির্যাতনের শিকার না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যে র্যাগিং কালচার ছিল, তা যেন আর না থাকে। কোনো শিক্ষার্থীকে যেন এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে ওঠে। আবরারের হত্যাকাণ্ড বুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে র্যাগিং ও নির্যাতনের সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


