গভীর নিম্নচাপ উপকূল অতিক্রম করলেও দেশজুড়ে বৃষ্টি ঝরবে আরো দুই দিন

গভীর নিম্নচাপ উপকূল অতিক্রম করলেও দেশজুড়ে বৃষ্টি ঝরবে আরো দুই দিন
ছবি: রফিকুর রহমান রেকু

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গত মধ্যরাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ওই এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে, গভীর নিম্নচাপটি রাতেই উপকূল অতিক্রম করেছে। তবে এর প্রভাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ উত্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে, রাজধানীতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে দেশজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু জায়গায়ও বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। শুক্রবার বিকেলের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে, তবে শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও কমে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস দেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৩ মিলিমিটার।

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও প্রশমিত হয়েছে। সোমবার ২০ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে সীমিত ছিল, আর বুধবার দেশের কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না। বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ফেনীতেÑ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানীতে ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি, যা সোমবারের শ্রীমঙ্গলে ৩৭.৫ এবং ঢাকায় ৩৬.৭ ডিগ্রি তুলনায় অনেকটাই কম। বুধবার রাজধানীতে দিনে বৃষ্টি না হলেও রাতে ৩ মিলিমিটার এবং ভোলায় সর্বোচ্চ ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার প্রবণতা থাকবে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সাগরের গভীর নিম্নচাপটি ভারতের উপকূল অতিক্রম করায় বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা কেটে গেলেও এর রেশ ধরে আরও দুই দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, এরপর শনিবার থেকে আবহাওয়া আবার শুষ্ক হয়ে ভ্যাপসা গরমের প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন