মৌসুমি বায়ুর বিদায়ে দেশের আবহাওয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে

মৌসুমি বায়ুর বিদায়ে দেশের আবহাওয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে
আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে দেশের আর কোথাও এর উপস্থিতি না পাওয়ায় সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে সন্ধ্যা ৬টার বিশেষ পূর্বাভাসে বর্ষা বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার মাস পর বিদায় নিল চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুন টেকনাফ উপকূল হয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশের পর পুরো দেশে সক্রিয় হতে কয়েক দিন সময় নিয়েছিল মৌসুমি বায়ু। দীর্ঘ চার মাস সক্রিয় থাকার পর শুক্রবার টেকনাফ রুট দিয়েই এটি বিদায় নেয়।

এদিকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ায় আকাশ সাধারণত রোদোজ্জ্বল ও পরিষ্কার হয়ে আসবে। বাতাসে জলীয় বাষ্প কমায় ভ্যাপসা গরম দূর হবে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য বাড়বে। ফলে চলতি অক্টোবর মাসের শেষের দিকেই দেশে ধীরে ধীরে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করবে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপ সৃষ্টির স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। মৌসুমি বায়ু চলে যাওয়ার সাথে সাথে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যায় এবং অধিকাংশ অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে আসে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা অনেকটা কমে যায়, ফলে ভ্যাপসা গরম বা অস্বস্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়। মেঘলা ভাব কেটে গিয়ে আকাশ সাধারণত রোদোজ্জ্বল ও পরিষ্কার হতে শুরু করে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রায় তারতম্য দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে শীতের আমেজ শুরু হতে থাকে। তবে এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

মৌসুমি বায়ু বিদায়ের ফলে এখন আর আগের মতো দেশে টানা কিংবা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বিচ্ছিন্নভাবে হঠাৎ ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও পরক্ষণেই শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের ফলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও কমতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪ মিলিমিটার এবং সাতক্ষীরায় দেশের সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাঙামাটি ও কুতুবদিয়ায় ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা কমে আসায় এবং উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করায় ভ্যাপসা গরমের তীব্র অস্বস্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকায় আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

লঘুচাপের সংকেত ও আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি:

আবহাওয়া কর্মকর্তা তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। তবে আগামী ১৩ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্বল প্রকৃতির হলেও পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ায় কিছু পরিবর্তন আনতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ১০-১১ অক্টোবর (শনিবার ও রোববার) দেশের আটটি বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। ১১-১২ অক্টোবর (রোববার ও সোমবার) প্রধানত চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ১২-১৩ অক্টোবর (সোমবার ও মঙ্গলবার) খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে এবং ১৩ তারিখের পর থেকে উপকূলীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা ফের কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন