কয়েকদিনের টানা তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকার মানুষের জীবন। অবশেষে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। মুষলধারে ঝরে পড়া এই বৃষ্টিতে একধাক্কায় প্রায় দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসের মতো নেমে গেছে ঢাকার তাপমাত্রা, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। বেলা একটার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে বৃষ্টি নেমে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাজধানীর প্রতিটি এলাকাতেই একযোগে বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা নাগাদ আকাশ মেঘলা ছিল; আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে রাজধানীতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এমন বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মাঝে আনন্দের ছোঁয়া দেখা গেছে। তীব্র গরমে যারা ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বৃষ্টির শীতল হাওয়া তাদের জন্য এক দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও রাজধানীবাসীকে বৃষ্টি ঝরার আনন্দ উদযাপনের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তবে বৃষ্টির এই স্বস্তির পাশাপাশি বরাবরের মতোই কিছু ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে। দুপুরে হুট করে বৃষ্টি নামায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী, পথচারী ও বিকালে অফিস ছুটি হলে চাকরিজীবীরা ঘরে ফিরার ক্ষেত্রে কিছুটা বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় যানজটের। বৃষ্টির সময় গণ-পরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কেটে গেছে। আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, দুপুর ১২টা নাগাদ বৃষ্টি না হলেও এর পর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরফলে তাপমাত্রা কমে ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার প্রতিটি বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। আগামী রোববার থেকে সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের পূবণতা বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম থাকলেও বৃহস্পতিবার দেশে প্রতিটি বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে ৮৪ মিলিমিটার। এসময় রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ৩১ মিলিমিটার।
বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমে বৃহস্পতিবার সারাদেশের মধ্যে সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা আগের দিন বুধবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ দিন রাজধানীর তাপমাত্রাও প্রায় দুই ডিগ্রীর মতো কমে রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস; যা আগের দিন ছিল ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

