গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছে মৌসুমি বায়ু। মধ্যাঞ্চলে আসতে আরো দুদিন লাগতে পারে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সারা দেশে সক্রিয় হতে আরো কয়েকদিন লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়াতে মধ্যজুন লেগে যেতে পারে। ফলে আগামী ১২ কিংবা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার বৃষ্টির আমেজ শুরু হতে পারে।
এদিকে আগের দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার তাপমাত্রা বেড়েছে। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীতে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি, যা আগের দিন ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তিনি বলেন, এখনই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হচ্ছে না, মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আগামী ৮ বা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা দু-তিন দিন থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ উপকূল দিয়ে প্রবেশ করা এ বায়ুপ্রবাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চল জুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার ফলে ওই এলাকায় বর্ষাকালের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সাধারণত মৌসুমি বায়ু জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করে থাকে। তবে গত বছর কিছু আগেই, অর্থাৎ ৩১ মে প্রবেশ করেছিল।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েকদিন এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে তাপপ্রবাহের অস্বস্তি থেকে জনজীবন কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভারী বর্ষণও হতে পারে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার কী ধরনের পরিবর্তন হয়ে থাকে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, গ্রীষ্মকালীন মেঘ ও বাতাস সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে; মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে এখন তা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর এ আগমন কৃষিখাতের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এ বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে গতকাল দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে অসহনীয় তীব্র গরমের পর বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে কয়েকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহে জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, গ্রীষ্মকালীন হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষণিকের স্বস্তি মিলে, এখন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়— ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আজ রোববার সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

