জিয়াউর রহমানকে যে কারণে দক্ষিণ এশিয়া মনে রাখে

ড. সিরাজুল আই ভুইয়া

জিয়াউর রহমানকে যে কারণে দক্ষিণ এশিয়া মনে রাখে

২০২৬ সালের ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের সময় জাতি শুধু একজন নেতাকেই স্মরণ করছে না, বরং তার আদর্শের চিরন্তন তাৎপর্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী উত্তাল সময়ে জিয়াউর রহমান শেষ পর্যন্ত শুধু রাজনীতিতে আসা একজন সৈনিক হিসেবে নন, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, যিনি সার্বভৌমত্বকে এমন একটি জাতীয় দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন, যা নির্ভরশীলতা, আদর্শিক বিচ্যুতি এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের হুমকিতে থাকা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের তরুণ জাতিকে পথ দেখিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি কষ্টার্জিত স্বাধীনতা এক বিপজ্জনক ভঙ্গুরতার মুখে পড়ে, যা ছিল রাজনৈতিকভাবে কেন্দ্রীভূত, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, কূটনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের অবস্থান নিয়ে মানসিকভাবে অনিশ্চিত।

জিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিহিত রয়েছে একটি অপ্রিয় সত্যকে আপসহীনভাবে স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যে : স্বাধীনতা একবার অর্জিত হলেই তা চিরস্থায়ী হয় না, বরং একে সক্রিয়ভাবে রক্ষা না করলে তার ক্ষয় হতে থাকে-বিশেষ করে যখন একটি ছোট রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত বড় এবং অধিকতর প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির পাশে অবস্থান করে। তার প্রতিক্রিয়া শুধু বাগাড়ম্বরপূর্ণ আস্ফালন ছিল না, বরং তা ছিল স্বাধীনতাকে একটি অর্থবহ রূপ দেওয়ার সুশৃঙ্খল অঙ্গীকার; যা নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় চেতনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, যিনি কখনো নীরবে, কখনো দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশকে অন্য কোনো শক্তির কৌশলগত কক্ষপথে নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত বা বিলীন হতে দিতে অস্বীকার করেছিলেন।

সার্বভৌমত্ব একটি নীতি, কোনো লোকদেখানো ভঙ্গি নয়

জিয়ার সার্বভৌমত্বের ধারণা নাটকীয় বা হঠকারী ছিল না। তিনি নিরন্তর সংঘাতের নীতি বা অবাধ্যতার ফাঁকা হুমকি প্রদর্শনের পথে হাঁটেননি। বরং তিনি কাঠামোগত স্বাধীনতার একটি নীতি বজায় রেখেছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, জাতীয় পরিচয় বা পররাষ্ট্রনীতির ওপর কোনো একক বিদেশি শক্তির মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করার এক কঠিন সংগ্রাম।

এই কৌশলের পেছনের মূল চালিকাশক্তি ছিল একটি নীতি। তা হলো, যে রাষ্ট্র তার বৈধতা, নিরাপত্তা বা টিকে থাকার জন্য অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল, সে রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। জেনারেল জিয়া ঠিক এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিলেন।

ভূরাজনৈতিক সুবিধা থেকে আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার

জিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত উত্তরাধিকার ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ। এটি নিছক কোনো আদর্শিক অনুশীলন কিংবা সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ছিল না। বরং এটি ছিল একটি বাস্তব হুমকির জবাব। যে হুমকি ছিলÑবাংলাদেশের আত্মপরিচয় শুধু সাংস্কৃতিক বা ভাষাগতভাবে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও এক বৃহৎ প্রতিবেশীর মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার আশঙ্কা।

আঞ্চলিক নাগরিকত্ব, অভিন্ন ইতিহাস এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে জিয়ার ‘বাংলাদেশি’ ভিশন এটিই প্রতিষ্ঠিত করেছিল যে, বাংলাদেশ ভারতের পূর্বাঞ্চলের কোনো সাংস্কৃতিক উপজাত নয়, কিংবা অন্য কোনো বৃহত্তর সভ্যতার ঐতিহ্যের অংশবিশেষ মাত্র নয়। বাংলাদেশের এই পুনর্কল্পনা ছিল জাতির মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির পথ, এটি ছিল অন্যপক্ষের স্বীকৃতির তোয়াক্কা না করেই নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখার অধিকার।

আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ই হয়ে উঠেছিল প্রথম প্রতিরক্ষা প্রাচীর। এটি সার্বভৌমত্বকে জাতির সম্মিলিত চেতনা এবং এর ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে প্রোথিত করেছিল।

পররাষ্ট্রনীতির পুনর্গঠন

জিয়াউর রহমান তার আধিপত্যবাদবিরোধী কৌশল সবচেয়ে প্রকাশ্যভাবে প্রয়োগ করেছিলেন পররাষ্ট্রনীতির আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে। স্বাধীনতার প্রথম দশকগুলোয় বাংলাদেশকে যে সংকীর্ণ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যা দেশটিকে অরক্ষিত করে তুলেছিল, তিনি সেখান থেকে বের করে আনেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন অন্যসব সম্পর্ককে ছাপিয়ে যেতে না পারে, তিনি তা নিশ্চিত করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই মুসলিম বিশ্ব, জোটনিরপেক্ষ দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়; সেই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের বহুমুখী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোয়ও অংশগ্রহণ বাড়ে। এটি কোনো আদর্শিক বিলাসিতা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল; সবসময় বিকল্প পথ খোলা রাখার একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা।

পানি কূটনীতির মাধ্যমে কাঠামোগত আধিপত্যের মোকাবিলা

একটি ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব উজানের দেশগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত জলপ্রবাহের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান তার মেয়াদের শুরুতেই অনুধাবন করেছিলেন, পানি শুধু একটি পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় নয়; এটি সার্বভৌমত্বের বিষয়।

জিয়া পানি নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি কঠোর ছিলেন কিন্তু নাটকীয় ছিলেন না; যিনি অন্যের সামনে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন কিন্তু বিশ্ব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি এবং যিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সার্বভৌমত্বকে শুধু বক্তৃতায় নয়, বরং দৈনন্দিন সম্পদের মৌলিক অধিকারের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

সার্ক

জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূরদর্শী ছিল কোনো সংঘাত নয়, বরং একটি ধারণাগত উদ্ভাবন, যা পরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জিয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, তীব্র অসামঞ্জস্যপূর্ণ এই অঞ্চলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা চুক্তিগুলো প্রায়ই শক্তিশালী রাষ্ট্রের অনুকূলে চলে যায়, যা ছোট রাষ্ট্রগুলোকে কাঠামোগতভাবে সুবিধাবঞ্চিত এবং রাজনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

তার সমাধান ছিল দ্বিপক্ষীয়তাকে ছাপিয়ে যাওয়া। আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাকে একটি বহুপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জিয়া চেয়েছিলেন সমষ্টিগত নিয়ম, অভিন্ন কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অসামঞ্জস্য কমিয়ে আনতে। সার্ককে এমন একটি ফোরাম হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল, যেখানে সহযোগিতা গড়ে উঠবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে, জবরদস্তির মাধ্যমে নয় এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলো একতরফা আধিপত্যের ভয় ছাড়াই কথা বলতে পারবে।

২০২৪ সাল থেকে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ভিশনটিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি সহযোগী দক্ষিণ এশিয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। তবে একটি আঞ্চলিক শক্তির অব্যাহত আধিপত্য এই ভিশন বাস্তবায়নকে কঠিন করে তোলে।

আধিপত্যবিরোধী কৌশল হিসেবে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা

জিয়াউর রহমান এমন একটি সত্য জানতেন, যা অনেক নীতিনির্ধারক হয় জানতেন না অথবা ভুলে থাকতে পছন্দ করতেন; তা হলোÑ‘নির্ভরশীলতার শুরু হয় ঘর থেকে’। যে জাতি তার নিজের জনগণের অন্নসংস্থান, কর্মসংস্থান বা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহের ক্ষমতা রাখে না, সেই জাতি স্বাধীন হওয়ার যত দাবিই করুক না কেন, তার নিজস্ব দুর্বলতা থেকেই যাবে।

ঠিক এ কারণেই, জিয়া যখন গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদনশীলতা, ব্যাপকভিত্তিক খাল খনন এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির কথা বলতেন, তখন তা কখনো নিছক কোনো উন্নয়ন কৌশল ছিল না। এটি ছিল কৌশলগত। জিয়া অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিদেশি চাপ ও বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

কেন তার স্মৃতি আজও প্রতিরোধের প্রেরণা জোগায়

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ফলে এই সার্বভৌমত্বের প্রকল্পটি মাঝপথে থমকে যায়। পরবর্তী দশকগুলো ছিল নীতিগত ডিগবাজি, বিভিন্ন ধরনের নির্ভরশীলতার পুনরাগমন এবং জাতীয় স্বাধীনতা হারানোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান জন-উদ্বেগের সময়। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এভাবে, জিয়ার স্মৃতি শুধু নস্টালজিয়ায় বিলীন হয়ে যায়নি, বরং একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

অনেক বাংলাদেশির কাছে তিনি এমন এক যুগের প্রতীক, যখন রাষ্ট্রের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল; যখন জাতীয় সার্বভৌমত্ব কোনো দ্বিধা ছাড়াই প্রকাশ করা হতো।

ইতিহাস যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে মনে রাখবে

শহীদ জিয়াউর রহমান ইতিহাসে শুধু একজন আদর্শ নেতা হিসেবেই নন, বরং একজন অপরিহার্য নেতা হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি এমন একসময়ে এগিয়ে এসেছিলেন, যখন বাংলাদেশ এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর, কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং এক নিঃশব্দ নির্ভরশীলতার জালে জড়িয়ে পড়ার বাস্তব ঝুঁকিতে নিমজ্জিত ছিল। সেই অনিশ্চয়তার মুহূর্তেই দেশ জিয়ার মধ্যে এমন একজন নেতাকে খুঁজে পেয়েছিল, যার ছিল দৃঢ়সংকল্প, দূরদর্শী চিন্তা এবং পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস।

জিয়া ছিলেন যুদ্ধজয়ী এক সৈনিক থেকে রূপান্তরিত রাষ্ট্রনায়ক, যার অন্তরে ছিল যুদ্ধের ক্ষত আর কাঁধে ছিল একটি বিধ্বস্ত জাতিকে পুনর্গঠনের বিশাল দায়িত্ব। তিনি তার প্রেসিডেন্সিকে সাজিয়েছিলেন আপসহীন চেতনা এবং নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারের প্রতি অটল বিশ্বাস দিয়ে। মাত্র পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছিলেন।

জিয়া লোকদেখানো অর্থে জনতোষণকারী নেতা ছিলেন না, কিন্তু তার নেতৃত্ব মানুষের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছিল। তিনি এমন এক প্রজন্মের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিলেন, যারা যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা দেখেছিল; তিনি তাদের শুধু প্রতিশ্রুতি দেননি, দিয়েছিলেন একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। তার বক্তৃতাগুলো উচ্চবাচ্যপূর্ণ বা নাটকীয় ছিল না; সেগুলো ছিল স্থির, সুশৃঙ্খল ও সংকল্পবদ্ধ। তার কাজই তার হয়ে কথা বলত, যার মূলে ছিল তিনটি পরিষ্কার নীতিÑশৃঙ্খলা, বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন। জিয়ার কাছে জাতীয়তাবাদ কখনো অন্যকে বর্জন করার বিষয় ছিল না; এটি ছিল মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এবং একটি ছোট রাষ্ট্রকে দৈত্যাকৃতির দেশগুলোর আধিপত্যপূর্ণ অঞ্চলে নিছক দর্শক হিসেবে থাকতে অস্বীকার করার নাম।

যারা আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অতি-প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে চান, তাদের কাছে জিয়া আজও নীতিগত ও কৌশলগত নেতৃত্বের এক শক্তিশালী প্রতীক। তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, একটি ছোট রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষমতার কাছে মাথানত করার মধ্যে নয়, বরং তার উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা এবং সংকল্পের দৃঢ়তার মধ্যে নিহিত।

ঠিক এ কারণেই, ১৯৮১ সালে তার হত্যাকাণ্ডের কয়েক দশক পরও জিয়াউর রহমানের প্রাসঙ্গিকতা শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তার উত্তরাধিকার শুধু স্মৃতিস্তম্ভ বা রাজনৈতিক স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মানদণ্ড হিসেবে বেঁচে আছে, যা দিয়ে নেতৃত্বকে পরিমাপ করা হয়। একটি সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল এবং স্বনির্ভর দেশের স্বপ্ন দেখা কোটি কোটি বাংলাদেশির হৃদয়ে জিয়া শুধু একটি স্মৃতি নন, বরং একটি আন্দোলন।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের সাভানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও গণযোগাগোগ বিভাগের অধ্যাপক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন