জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ক্রীড়ামোদী এবং ফিটনেসসচেতন মানুষ ছিলেন। কোনো বিশেষ খেলায় তিনি পারদর্শী বা চ্যাম্পিয়ন ছিলেন না সত্যি; কিন্তু প্রায় সব খেলাতেই তার আগ্রহ ও সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং তিনি খেলাধুলার ক্ষেত্রে নিয়মিত প্র্যাকটিসও করতেন। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর জিয়াউর রহমান দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে নিজে মাঠে চলে যেতেন। খেলোয়াড়দের আবাসন, চাকরি ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিতেন। তার শাসনামলেই ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ঢাকা সফরে আসে। নিজে ঢাকা স্টেডিয়ামে গিয়ে এই ম্যাচ উদ্বোধন করেন এবং ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেন। তার এই ব্যক্তিগত আগ্রহের ধারাবাহিকতাতেই ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে, যাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই বাংলাদেশে বড়মাপের আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ’ চালু হয়। ঢাকা স্টেডিয়ামে তিনি তা উদ্বোধন করেন। তেমনি ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘আগা খান গোল্ডকাপ’ও চালু হয়।
ক্রীড়াক্ষেত্রের গুণাবলি নিয়ে বন্ধু জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এই বর্ণনা দিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসি। ১৯৯১ সালে দৈনিক বাংলার জন্য তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলাম। কারণ লে. কর্নেল (অব.) হামিদ ছিলেন জিয়াউর রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাকিস্তানের কাকুলের মিলিটারি একাডেমিতে একই ব্যাচে (কোর্সমেট) তারা উভয়ই ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দেশের কর্ণধার হিসেবে ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের অতুলনীয় ভূমিকার সঙ্গে লে. কর্নেল (অব.) হামিদও যুক্ত ছিলেন। লে. কর্নেল (অব.) হামিদ এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। তার ছেলে কায়সার হামিদ বাংলাদেশের একজন কৃতী ফুটবলার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। স্ত্রী রানী হামিদ দেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার।
আমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লে. কর্নেল (অব.) হামিদ উল্লেখ করেছিলেন, জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে খুবই নিয়মানুবর্তী, সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং কঠোর শৃঙ্খলপ্রিয় অফিসার ছিলেন। তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, নেপথ্যচারী এবং বন্ধুবৎসল। ঢাকা সেনানিবাসে আমরা দুজন নিয়মিত টেনিস খেলতাম।
খেলাধুলার প্রতি জিয়াউর রহমানের উৎসাহ-আগ্রহ ছিল অপরিসীম। নিজে ছিলেন একজন কৃতী খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদ। বাংলাদেশ খেলাধুলায় উন্নতি করুক, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের খেলোয়াড়রা সম্মানজনক আসন লাভ করুক, মেডেল ছিনিয়ে আনুকÑএই ছিল শহীদ প্রেসিডেন্টের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও বাসনা। মেয়েদের খেলাধুলার ব্যাপারেও তিনি অত্যন্ত উৎসাহী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই, তার মতো একজন ক্রীড়াবিদ রাষ্ট্রপতির কারণেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে উন্নতি ঘটেছিল।
লে. কর্নেল (অব.) হামিদ পাকিস্তানের কাকুলে মিলিটারি একাডেমিতে থাকার আনন্দময় স্মৃতির বর্ণনা দেন এভাবে-‘১৯৫৩ সাল। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুল। জিয়া আর আমি তখন ক্যাডেট। আড়াই বছর আমরা ছিলাম একসঙ্গে অধ্যয়নরত। তরুণ জিয়া। তখন ছিলেন যথেষ্ট শান্ত, চুপচাপ গোছের ক্যাডেট। তার কথাবার্তা ছিল ধীর ও সংযত। খুব বেশি পড়াশোনা করতেন। তার এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস ছিল অত্যন্ত সীমিত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র-ভদ্র, হই-হুল্লোড় খুব বেশি তার পছন্দ হতো না।
শান্ত গোছের হলে কী হবে। রেগে গেলে তাকে সামলানো মুশকিল হতো। করাচিতে পড়াশোনা করলেও কী কারণে জানি না পাঞ্জাবিদের সঙ্গে তার একটুও মিল হতো না। একদিন একাডেমির ফুটবল মাঠে খেলা শেষে জিরুচ্ছিলাম কজন। একজন পাঞ্জাবি ক্যাডেট দুবার তার ওপর বিরূপ মন্তব্য ছাড়ল। জিয়া অন্যদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে উঠে গিয়ে হঠাৎ তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কয়েক ঘা বক্সিং বসিয়ে দিলেন। পাশে বসা আরেকজন পাঞ্জাবি ক্যাডেট এসে জিয়াকে লাথি মেরে বসলেন। অবস্থা দেখে আমি উঠে গিয়ে ওকে উল্টো এক লাথি কষে দিলাম। এবার চারজন মিলে এলোপাতাড়ি ঘুসাঘুসি শুরু হয়ে গেল। দূর থেকে একজন সিনিয়র ছুটে এসে মারামারি থামিয়ে আমাদের নাম-নম্বর নোট করে নিয়ে গেলেন। এ ঘটনা স্মরণ করে বহুদিন আমরা দুজন হাসাহাসি করতাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘মিলিটারি একাডেমিতে জিয়া ছিলেন তারেক কোম্পানিতে আর আমি ছিলাম সালাহউদ্দিন কোম্পানিতে। বড়ই মুশকিল বাধত একাডেমিতে যখনই আন্তঃকোম্পানি কম্পিটিশন অথবা প্র্যাকটিস হতো। কারণ তার আর আমার ওজন-উচ্চতা ছিল প্রায় সমান সমান। অতএব বক্সিং, কুস্তি ইত্যাদি প্রায়ই তার সঙ্গে আমার টক্কর হয়ে যেত। মাঝেমধ্যে তাই আমরা আগেভাগে কম্প্রোমাইজ করে ফেলতাম।’
ক্রীড়াক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা ও অবদানের কথা জানিয়ে লে. কর্নেল (অব.) হামিদ বলেন, ‘জেনারেল জিয়াকে আপনারা হয়তো দেশের একজন কর্মব্যস্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখেছেন, জেনেছেন কিন্তু তিনি যে একজন পাকা খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদ ছিলেন, সে কথা বিস্তারিতভাবে জানাতে চাই।’
খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যরক্ষার প্রতি জেনারেল জিয়ার ছিল অসীম আগ্রহ-উৎসাহ। বিকালে ঘরে বসে থাকা ছিল তার পক্ষে অসম্ভব। কোনো বিশেষ খেলায় তিনি পারদর্শী বা চ্যাম্পিয়ন ছিলেন না, কিন্তু প্রায় সব খেলাতেই তার ভালো অভ্যাস ছিল। তিনি বিভিন্ন খেলায় সবসময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। জিয়াউর রহমান ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি হাফ লাইনে খেলতেন। একাডেমিতে আমরা একসঙ্গে দেদার খেলেছি। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলে কোরিয়া দলের ম্যানেজার তার হাতে একটি ফুটবল উপহার দিতেই বিরাট এক কিক মেরে মঞ্চ থেকে দর্শকদের দিকে ছুড়ে মেরে প্রমাণ করলেন তিনিও একজন সাবেক দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড়।
অ্যাথলেটিকসেও তিনি ভালো ছিলেন। লম্বা দৌড়ে এবং ক্রসকান্ট্রি ইভেন্টে তিনি প্রথম কাতারের অ্যাথলেট ছিলেন। রাইফেল শুটিংয়ে তার হাত ছিল খুবই দক্ষ। বেশ কয়েকবার প্রাইজও পেয়েছিলেন। অবিরাম হাঁটতে তার কোনো জুড়ি ছিল না। রাষ্ট্রপতি হয়েও মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে তরুণদেরও তিনি হার মানিয়ে ছিলেন। বক্সিংয়ে জিয়াউর রহমানকে একজন লড়াকু খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হতো। একবার কোয়েটার লিক্যাডেট ট্রেনিং স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল রাউন্ডে জিয়া এবং সফিউল্লার (প্রাক্তন আর্মি চিফ) মধ্যকার বক্সিং বাউটটি দারুণ জমে উঠল। উভয়ের মুখ রক্তাক্ত হয়ে গেল। পরে জিয়াকে কম্পিটিশনের ‘বেস্ট লোসার’ ঘোষণা করে মেডেল দেওয়া হলো। এটি ১৯৫৩ সালের কথা।
জিয়াউর রহমান শরীরের ওজন নিয়ে খুবই সজাগ ছিলেন। কারো পেট মোটা দেখলে তার মেজাজ বিগড়ে যেত। ১৯৭৩-৭৪ সালে ডেপুটি চিফ হিসেবে তার আউটডোর কাজকর্ম খুবই সীমিত ছিল। এ সময় তার নিজের পেট কিছুটা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তখন একা একা ক্যান্টনমেন্টের রাস্তায় খুব ভোরে ছোটাছুটি শুধু করে দিলেন। ডেপুটি চিফকে এভাবে দৌড়াতে দেখে সাধারণ সিপাহিরা অবাক হয়ে গেলেন। এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে কদিন আমার বাসার সামনে এসে ডাকাডাকি শুরু করলেন। দৌড়ে জয়েন করার জন্য কিন্তু এত সাত-সকালে দৌড়াদৌড়ি আমার ধাতে সইত না। তাই তাকে নিরাশ করতাম। তখন তিনি ভোরবেলা স্কোয়াশ টেনিস শুরু করে দিলেন। নিজে তার বাসা (বর্তমান বাসা) থেকে ছুটে এক মাইল দূরে আর্মি হেডকোয়ার্টার টেনিস কোর্টে ছুটে যেতেন। আবার ঘণ্টাখানেক খেলা শেষে ছুটে ছুটেই বাসায় ফিরে আসতেন। তারপর নাশতা খেয়ে টাইমলি অফিস।
বিকালে হাজির হতেন র্যাকেট হাতে টেনিস কোর্টে। আমি অবশ্য বিকালেই তার সঙ্গে টেনিসে যোগ দিতাম। আমি জেনারেল সফিউল্লাহ, মামুন, কর্নেল খুরশিদ, মুজিব ছিলাম ঘড়ির কাঁটার কাঁটায় ৪টার সময় রেগুলার। জেনারেল জিয়া একটু লেইট করে সন্ধ্যার দিকে এসে যোগ দিতেন। জেনারেল এরশাদও এসে যোগ দিতেন। খুব জমজমাট খেলা হতো প্রতিদিন। জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল এরশাদ উভয়ই খুব ভালো টেনিস খেলতেন। জেনারেল জিয়া একা সারা মাঠ ছোটাছুটি করে একের পর এক সেট খেলে চলতেন। মাঝেমধ্যে আবার টেনিসের পর স্কোয়াশ খেলার ঝোঁক চাপত জেনারেল জিয়ার। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত একটানা টেনিস খেলে যখন তিনি স্কোয়াশ খেলার জন্য ডাকতেন, তখন আমাদের দম শূন্যের কোঠায়। আমি হাতজোড় করে প্রায়ই কর্নেল খুরশিদকে দেখিয়ে দিতাম। কাউকে না পেলে একাই গিয়ে স্কোয়াশ কোর্টে খেলা শুরু করে দিতেন। স্কোয়াশ খেলাতেও জেনারেল জিয়ার অভিজ্ঞতা ছিল খুব ভালো। কেউ তাকে সহজে হারাতে পারত না। তার খেলার স্ট্যামিনা ছিল অফুরন্ত।
সবসময় নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখা ছিল তার ধর্ম। আনফিট কাউকে দেখতে পারতেন না। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাস হবে, আর্মি হেডকোর্টারে আমি তখন মিলিটারি সেক্রেটারি। একদিন আমার কামরায় সটান ঢুকেই টেবিলে এক ঘুসি মেরে বললেন যুদ্ধ করে সব বেটারা এখন আয়েশ করা শুরু করেছে। কেউ কোনো গেম করছে না। আমি তিন দিনের মধ্যেই সেনাবাহিনী খেলাধুলার পুরো স্কিম, প্রোগ্রাম চাই। আমি তখন এমএস ব্র্যান্ড গড়ার প্রাথমিক কাজ নিয়ে খুবই ব্যস্ত। তবু জোর করে আমার ওপরই কাজটা চাপিয়ে দিলেন। গড়ে উঠল আর্মি স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ড। আমাকেই বানালেন এর প্রথম প্রেসিডেন্ট। ত্বরিতগতিতে শুরু হয়ে গেল সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। জোয়ানরা মেতে উঠলেন বিভিন্ন খেলাধুলায়। জিয়া মহাখুশি।
জিয়াউর রহমানকে সাঁতার শেখানোর স্মৃতি উল্লেখ করে লে. কর্নেল (অব.) হামিদ বলেন, অবাক হলেও সত্য, জিয়া সাঁতার জানতেন না একেবারেই। মিলিটারি একাডেমিতে সুইমিং টেস্ট পাস করতে হয়। আমি ভালো সাঁতারু ছিলাম। আমাকে ধরে বসলেন তাকে সাঁতার শেখাতেই হবে। অতএব আমি তার ওস্তাদ হয়ে গেলাম। একাডেমির সুইমিং পুলে বেশ কয়েক দিন কসরত করে তাকে সাঁতার শিখিয়ে দিলাম। শুরুতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে সুইমিং পুলের গভীর পানিতে ফেলে দিলাম। ভিরমি খেয়ে ডুবতে ডুবতে কোনো মতে হাত চাপড়ে তীরে পৌঁছে আমাকে গালাগাল শুরু করে দিলেন। বললাম, এটাই ছিল ওস্তাদির পয়লা নম্বর সবক। পরে তিনি সাঁতার শিখে সুইমিং টেস্ট পাস করেছিলেন।
১৯৫৭ সালে এবোটাবাদের ফিজিক্যাল ট্রেনিং স্কুলে একসঙ্গে আমরা টিটি কোর্স করছিলাম। আমরা ছিলাম এক কামরায়। ১০টার পর সবাই লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়তেন কিন্তু জিয়া ১২টা-১টার আগে কিছুতেই ঘুমাতেন না। খুব বেশি পড়তেন আর নোট করতেন। আবার ভরদুপুরে তীব্র গরমে সবাই খাওয়া-দাওয়া সেরে একটু নিদ্রায় যেতেন। জিয়া তখন উঠে গিয়ে একা একা স্কুলের জিমনেসিয়ামে প্র্যাকটিস শুরু করতেন। আমি ছিলাম ঘুমের বাদশাহ। বেগতিক দেখে দুই সপ্তাহ পর অন্য কামরায় শিফট করলাম। তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সবার কাজ নয়। প্রতিটি কাজের জন্য জান কোরবান করে দেওয়াই ছিল তার রীতি।
১৯৭৫ সাল। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মি সুইমিং পুলে সেনাবাহিনীর সাঁতার প্রতিযোগিতার ফাইনাল। সিনিয়র অফিসারদের বোট রেস। চারটি ক্ষুদ্র রাবার বোট, চার জোড়া অফিসার। একটিতে জেনারেল সফিউল্লাহ ও শেখ কামাল, একটিতে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং তদানীন্তন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী। একটিতে জেনারেল জিয়া আর আমি। অন্য আরেকটির কথা মনে আসছে না। বন্দুকের আওয়াজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু হলো। তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে হেইও হেইও করে আমরা দুজন ফার্স্ট হয়ে গেলাম। বিজয়স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আমরা দুজন বিজয়ীর বেশে কাপ গ্রহণ করলাম।
লেখক : বর্তমান সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


