আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আত্মহননের রাজনীতি

আবদুল লতিফ মাসুম

আত্মহননের রাজনীতি

‘আত্মহনন’ শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত– ‘আত্ম’ নিজ এবং ‘হনন’ বিনাশ, হত্যা। আত্মহনন শব্দের অর্থ নিজেকে হত্যা করা বা আত্মহত্যা করা। এটি এক ধরনের চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের জীবন নিজেই বিনাশ করেন। আত্মহনন শব্দটি সাধারণত এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে কেউ ইচ্ছাকৃত নিজের জীবন শেষ করেন।

এটি মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সংকটের কারণে ঘটতে পারে। এটি যে রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে, তার অসংখ্য নমুনা অতি সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রকটভাবে অনুভূত। আত্মহননের কারণ হিসেবে মনস্তাত্ত্বিকরা এসব কারণ দর্শাচ্ছেন- মানসিক অবসাদ ও হতাশা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, প্রেমঘটিত ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, একাকিত্ব এবং হতাশা ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক আত্মহননের মধ্যে এসবের লেশমাত্র অস্তিত্ব নেই। তাহলে কী কারণে রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে নিজেদের জীবন বিনাশে সর্বনাশা কাজটি করেন?

বিজ্ঞাপন

আত্মহননের সঙ্গে যখন রাজনীতির সংযোগ ঘটে, তখন রাজনীতিকে বোঝা জরুরি হয়ে পড়ে। গতানুগতিকভাবে রাজনীতি হলো রাজার নীতি। পরে রাজার নীতি প্রজার নীতিতে পরিণত হয়। প্রজারা প্রতিনিধিত্ব করে রাজার রাজ সভায় বা রাজার নীতিতে। এভাবে কে প্রজার প্রতিনিধিত্ব করবে, সেটি নিয়ে প্রজাসাধারণের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই প্রতিযোগিতার ফলাফলই আজকের রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিক সাধারণকে বলতে থাকেন- কে তাদের জন্য কত ভালো করবেন! নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে তারা তুষ্ট করতে চেষ্টা করেন নাগরিক সাধারণকে। সেটি ছিল- ভালোত্বের প্রতিযোগিতা, সেবার প্রতিযোগিতা ও কল্যাণের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার নাম নির্বাচন। ইতিহাসের পথবেয়ে নির্বাচনের আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রণীত হয়েছে। সহজ-সরলভাবে সেসব বিধিবিধান মেনে নিয়ে নির্বাচন করলে বাধা নেই, বিপত্তি নেই। কিন্তু বাধা দিলে অবশ্যই বাধে লড়াই। সে লড়াইয়ে জেতার জন্য রাজনৈতিক এলিটরা আমাদের মতো এসব দেশে হেন অন্যায় নেই, যা করেন না। সেটাকে আমরা বলি নির্বাচনী রাজনীতি।

রাজনীতির এই গতানুগতিক ধারণা ও প্রক্রিয়ার নতুন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে পাশ্চাত্যে রাজনীতি অধ্যয়নে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। পুরোনো কথাকে নতুনভাবে নতুন সংজ্ঞায় ব্যাখ্যাকরণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিড ইস্টন রাজনীতির সংজ্ঞা দেন নতুন করে। তিনি বলেন, Politics means authoritative allocation of values and Resources. রাজনীতি হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ক্ষমতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি। বর্তমানে রাজনীতি অধ্যয়নের কেন্দ্রবিন্দু হলো ক্ষমতা। আগেকার দিনের Politics is Service বা সেবাই রাজনীতি এর পরিবর্তে এখন বলা হচ্ছে ‘Politics is about power’।

সমসাময়িক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিসেল ফুকো এবং লুকস একই ধারণা পোষণ করেন। রাজনীতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিক আছে। ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ : যখন ‘রাজনৈতিক সমাধান’ (Political Solution) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সমঝোতা ও অহিংস পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হয়।

একে ‘শাসনের শিল্প বা বিজ্ঞান’ (The Art or Science of Government) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ : অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতি ক্ষমতা দখল, দুর্নীতি ও সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা নেতিবাচক অর্থ বহন করে। এটি বিভেদ ও মতানৈক্যের সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যখন এটি স্বার্থান্বেষী বা অসৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এখন এবং তখন যে রাজনীতির চর্চা হয়েছে, তা ডেভিড ইস্টনের সংজ্ঞার অনেকটা কাছাকাছি বলা যায়। এই মুহূর্তে স্বৈরাচার বিদায় নিলেও আমাদের মন-মগজে স্বার্থ ও সম্পদের সেই দ্বন্দ্ব যে উপস্থিত আছে, তা প্রমাণিত হয় আমাদের আত্মহননে, আমাদের কার্যক্রমে।

আমরা প্রাথমিকভাবে রাজনীতিকে আত্মহননের সঙ্গে তুলনা করার প্রয়াস পেয়েছি। অবশেষে দেখতে পাচ্ছি রাজনীতির নেতিবাচক অংশই আত্মহননের পথ। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষ এমনকি হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, যা কোনোক্রমেই রাজনীতি হতে পারে না।

রাজনীতিতে বিরোধ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। বিরোধ কখনোই শত্রুতায় পরিণত হবে না। আওয়ামী আমলে বিরোধী রাজনীতি মানেই শত্রুতা ও দেশদ্রোহী বলে চিহ্নিত হতো। এখন যখন আমরা আওয়ামী দুর্বৃত্তকে তাড়িয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের, নতুন সংস্কৃতির, নতুন ইতিহাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি ও খোনাখুনি কোনো মতেই কাম্য হতে পারে না।

আমরা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিশেষত শাখা-প্রশাখায় ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, হিংসা, প্রতিহিংসা প্রবল আকার ধারণ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিম্নরূপÑ

১. সিরাজগঞ্জে বিএনপির সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, বিডিনিউজ২৪.কম, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

২. রাউজানে বিএনপির দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১১, ঢাকাপোস্ট, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

৩. রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক-যুবদলের গোলাগুলিতে নিহত ১, আমার দেশ, ২০ মার্চ ২০২৫।

৪. ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইফতার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত ও একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৪৪ ধারা জারি। বিবিসি, ১৯ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

৫. রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, বাংলা ট্রিবিউন, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

৬. কুমিল্লায় ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, প্রথম আলো, ১৮ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

৭. ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪, কালবেলা, ১৮ মার্চ (অনলাইন)।

৮ নান্দাইলে ইফতার নিয়ে সংঘর্ষের পর পৌর বিএনপির আহ্বায়ককে অব্যাহতি, প্রথম আলো, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

৯. নাটোরে টিসিবির পণ্য ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০, দৈনিক ইত্তেফাক, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১০. কুড়িগ্রামে দরিদ্রদের জন্য চাল বিতরণের তালিকা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮, প্রথম আলো, ১৭ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১১. টাঙ্গাইলে ‘শূকরের বাচ্চা’ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ, উত্তরাধিকার৭১ নিউজ, ২০ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১২. আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার নিয়ে রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪, প্রথম আলো, ৮ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৩. নারায়ণগঞ্জ বাস রাখাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮, বাংলা ট্রিবিউন, ১৬ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৪. কুমিল্লায় বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ৩১, প্রথম আলো, ১২ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৫. সিদ্ধিরগঞ্জে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, প্রথম আলো, ৬ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৬. ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ৬, আজকের পত্রিকা, ১৩ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৭. কুমিল্লার মেঘনা থানায় টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০, ইত্তেফাক, ১৩ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৮. রাজশাহীতে বিএনপি সমর্থক দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

১৯. নোয়াখালীতে বাজার ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২, প্রথম আলো, ১২ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

২০. মনপুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, প্রথম আলো, ১২ মার্চ ২০২৫ (অনলাইন)।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে এসব ব্যক্তি কথিত নেতিবাচক রাজনীতির ধারক ও বাহকে পরিণত হয়েছে। এসব সংঘর্ষ হামলার কারণ রাজনীতি নয়, বরং ব্যক্তির প্রভাব বিস্তার, দখল-বেদখল, চাঁদাবাজি এবং সেই কথিত সম্পদ বণ্টনের কর্তৃত্ব। আমরা মার্চ মাসে সংগৃহীত ২০টি ঘটনার উল্লেখ করলাম মাত্র। এর বাইরেও প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অনেক ঘটনা রয়েছে।

যদি ৫ আগস্ট পরবর্তী দিনগুলোর হিসাব কষা যায়, তাহলে সংখ্যা হবে অনেক দীর্ঘ। ২১ মার্চ একটি প্রধান ইংরেজি দৈনিকে প্রধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত সাত মাসে তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৪৩ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ওই একই সময় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ২০০টি ঘটনায় কমপক্ষে ২০০০ বিএনপিকর্মী আহত হয়েছেন। এর অধিকাংশই সংঘটিত হয়েছে কমিটির পদপদবি এবং স্থানীয় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। কষ্টের কথা এই যে, যে মানবাধিকারের জন্য বিএনপি, জামায়াত দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছে, তাদের অনুসারীদের মধ্যে এ রকম নির্মমতার ঘটনা দুঃখজনক।

ঘটনাগুলোর হিসাবনিকাশ নিলে দেখা যায় যে বিএনপি বনাম বিএনপি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ। বিএনপি বনাম জামায়াত সংঘর্ষগুলোও কাম্য নয়। এই সেদিন তারা হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ রেখে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছে।

সেই রক্তের দাগ মুছে যেতে না যেতেই এ ধরনের সংঘর্ষ নাগরিক সাধারণের মনকে বিষিয়ে দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, এ ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব বিএনপির ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এ ধরনের দ্বন্দ্ব তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা আনছে।

রাজনীতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক ধারা প্রবহমান রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান অসংখ্যবার নেতাকর্মীদের এ ধরনের দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ না করা ও সংযমী আচরণের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জামায়াত নেতৃত্বও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এতৎসত্ত্বেও বিরোধ অবসানের কোনো লক্ষণ প্রতিভাত হয়নি। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে গেলে দেখা যাবে যে নেতাকর্মীদের খাই খাই রব, ক্ষমতার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের কোন্দল ও অর্থ-লালসা এর প্রধান কারণ।

এর প্রতিকারে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে- ক. নেতাকর্মীদের নৈতিক পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিতে হবে। খ. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সমঝোতার দীক্ষা দিতে হবে। গ. পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক পরিপক্বতা অর্জন করতে হবে। ঘ. ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তির নৈতিক জীবন পরিশুদ্ধ করতে হবে। ঙ. শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। চ. শাখা-প্রশাখা তথা সামগ্রিক নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যক্তির ইতিবাচক গুণাবলির মূল্যায়ন করতে হবে। সৎ, সহজ, সরল ও মানবিক গুণাবলিকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিএনপির জন্য একটি অস্থির দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও নেতানেত্রীর মূল্যায়নে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ দেখা হয়েছে।

মানি ও মাস্তান প্রাধান্য পেয়েছে। এখন সময় এসেছে হাইব্রিড নেতৃত্বের পরিবর্তে প্রকৃত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার। ছ. তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব নির্ণয়ে গণতন্ত্রকে একমাত্র প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্ণীত ব্যক্তি যদি দুর্বলও হয়, তাহলে একসময়ে সংগঠনের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে নেতিবাচক লোকের দলের জন্য শুধা বদনামই কামাই করবে। জ. সর্বস্তরে নেতৃত্বের আনুগত্যকে মেনে নেওয়ার দীক্ষা অর্জন করতে হবে। ঝ. অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কিছুর মধ্য দিয়ে আত্মহননের তথা নেতিবাচক রাজনীতির অবসান ঘটবে।

রাজনীতি অনেকটা নদীর বহতার মতো। নদীর প্রবাহ যদি হয় সহজ-সরল ও স্বাভাবিক, তাহলে কোনো না কোনো সময় তা স্বাভাবিক প্রবাহকে নিশ্চিত করবে। আর তা যদি হয় বাধাগ্রস্ত, তাহলে প্লাবন অবধারিত। ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাইয়ের গণবিপ্লবের সাক্ষ্য। রাজনৈতিক ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠী যদি আত্মহননের পথ পরিহার না করে, তাহলে তাদের জন্য আরেকটি গণপ্লাবন অপেক্ষা করছে- এটি অবধারিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন