জায়গাটা ছিল মারে-আ-লাগো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আবাস। প্রশ্নটা ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে। ২০২২-এর ফেব্রুয়ারি থেকে চলে আসছে যে যুদ্ধটা। ট্রাম্প বললেন, ‘আটটা যুদ্ধ থামিয়েছি আমরা।’ ২২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন তিনি। নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ঘোষণাও দিলেন তিনি। সেগুলোর নামকরণ তার নামেই হবে।
ট্রাম্প আরো বললেন, ‘পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ আমরা থামিয়েছি।’ এটিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চাইলেন, ইউক্রেন যুদ্ধও তিনি থামিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু এখনো সেটি তিনি করেননি। একবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ থামাতে পারেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান এবং খুবই সম্মানীয় জেনারেল—তিনি একজন ফিল্ড মার্শাল, তিনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। সংখ্যাটা হয়তো আরো বেশি।’
গত জুন মাসের পর থেকে এ নিয়ে অন্তত দশমবারের মতো পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল শুরু হয়েছে ২০২৫-এর জানুয়ারিতে।
সবচেয়ে বড় মুহূর্তটা ছিল অক্টোবরে। মিশরে শার্ম আল-শেখের শান্তি সম্মেলনে বক্তৃতা করছিলেন ট্রাম্প। এই সম্মেলনের পরই গাজায় ইসরাইল আর হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়। সেখানে বিশ্বনেতাদের ধন্যবাদ দেন ট্রাম্প। পেছনে থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এরপর উল্লেখ করেন আসিম মুনিরের কথা। মুনিরকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
আরেকবার মুনিরকে ‘মহান যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে তার নাম নেন। তাকে ট্রাম্প ‘ব্যতিক্রমী মানুষ’ বলেছেন। জুনের বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছেন, আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি ‘সম্মানিত’ বোধ করছেন।
২০২৫ সালে পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের যে উন্নতি হয়েছে, তার পেছনে মুনিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটা ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকেরা তেমনটাই মনে করছেন। পাকিস্তানের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার কৃতিত্বও তাকে দিচ্ছেন অনেকে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে টানাপড়েনের সম্পর্ক মেরামতে তিনি সাহায্য করেছেন।
কয়েক বছর আগেও মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। এখন সেটা নিরাপত্তা ইস্যু ছাড়িয়ে অনেকখানি এগিয়ে গেছে। ক্রিপ্টো মাইনিং থেকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে অর্থনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে গড়িয়েছে সেটা।
২০২৫-এর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে চার দিনের সংঘাত লেগেছিল, তার সূত্রেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সেটা ছিল বাঁকবদলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিমাযুদ্ধে দুই দেশই জয় দাবি করেছে। কিন্তু পাকিস্তান ইস্যু কাজে লাগিয়ে স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকেরা এ ব্যাপারে একমত। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বলয়ের অনেকেই এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খুররম দস্তগির খান বলেছেন, এই সংঘাতটা ছিল একটা সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। এই মুহূর্তটাই সেনাপ্রধানের ভূমিকাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। যে ধারাটা আস্তে আস্তে বাড়ছিল, এই জয় সেটাকে অনেক গতি দিয়েছে। কেউ কেউ এখানে ট্রাম্পের একটা ভূমিকাও দেখেন।
স্বল্পকালীন যুদ্ধ, দীর্ঘকালীন পরিণতি
ভারত আর পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী। আগেও তারা যুদ্ধে জড়িয়েছে। এখনো তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এপ্রিলে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে এক হামলার পর সংকটের শুরু হয়। হামলায় ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দোষ দেয় ভারত। অস্বীকার করে পাকিস্তান। স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায় তারা।
৭ মে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা করে ভারত। বিমান হামলা করে জবাব দেয় পাকিস্তান। ভারতের ছয়টি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে তারা। ভারতও পরে স্বীকার করেছে সত্যটা। যদিও সংখ্যার বিষয়ে একমত হয়নি তারা।
তিন দিনে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা হয়েছিল। ১০ মে সামরিক টার্গেটে মিসাইল হামলা হয়। পরোক্ষ চ্যানেলের কূটনীতির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা ছিল সেখানে। পরে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। পরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের মনোনয়নকে সমর্থনও দিয়েছে। কিন্তু ভারত দাবি করেছে, বোঝাপড়াটা ছিল দ্বিপক্ষীয়। দ্বিপক্ষীয় সমাধানের ওপরই ভারত সব সময় জোর দিয়ে এসেছে।
মে মাসের পর থেকে কয়েক-ডজনবার ট্রাম্প এই সংঘাতের উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, অস্ত্রবিরতির মধ্যস্থতা তিনিই করেছেন। পাকিস্তানের বিমান ভূপাতিত করার দাবি তিনিও উল্লেখ করেছেন।
দিল্লি ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিতে চায়নি। সেটাই একটা সুযোগ তৈরি করেছে। মুনির আর শরিফ দ্রুত সেটাকে কাজে লাগিয়েছেন।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশিরও এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত। মে মাসকে ‘সুনির্দিষ্ট বাঁকবদলের মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের অস্বাভাবিকতা সবারই জানা। মুনিরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আর ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে ইসলমাবাদ-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আবার চাঙা হয়। বশির বলেন, পাকিস্তানের কূটনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য আসিম মুনিরের ভূমিকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবর্তনের প্রথম লক্ষণ
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল পাকিস্তান। নাইন-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অ-ন্যাটো মিত্র হয়ে উঠেছিল তারা। পরে সম্পর্কে ক্ষয় ধরে। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বলেছিলেন, পাকিস্তান আমাদের শুধু ‘মিথ্যা আর প্রতারণাই’ দিয়েছে। তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। বাইডেনও পাকিস্তানকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছিলেন।
চীনের বিরুদ্ধে ভারসাম্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। চীন হলো পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। তারপরও দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে মার্চে ট্রাম্প পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলেন। পাকিস্তান ২০২১ সালের অ্যাবি গেট বোমা হামলার ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা ও বহু আফগান নিহত হয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এই দানবকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করার কারণে আমি পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
এটাকে একটা ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন সানোবার ইনস্টিটিউটের পরিচালক কামার শিমা। তিনি মনে করেন, সন্ত্রাস দমন অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র প্রয়োজন। গ্রেপ্তারের পর তারা আবার পাকিস্তানের মূল্য বুঝতে পেরেছে।
ফিল্ড মার্শাল এখন সেনা-কূটনীতিক হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণায় এখন তিনি সামরিক-কূটনীতি ব্যবহার করছেন। মুনিরের যে কূটনৈতিক প্রভাব, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেশেও তার প্রভাব বাড়ছে।
ফিল্ড মার্শালের কোরিওগ্রাফি
১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার সময় থেকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে। চারটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে এ পর্যন্ত। বহু দশকের সরাসরি শাসন তাদের আরো শক্তিশালী করেছে। এমনকি বেসামরিক শাসনের সময়ও সেনাবাহিনী প্রধানের প্রভাব ছিল ব্যাপক।
মে মাসের পর মুনির ফিল্ড মার্শাল হয়েছেন। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটা দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল। পরে সংবিধান পরিবর্তন করে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই পদও রয়েছে সেনাপ্রধানের হাতে। এই পদের কারণে বিমানবাহিনী আর নৌবাহিনীও এখন মুনিরের অধীনেই রয়েছে।
সমালোচকরা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু পররাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এ সময়েই। দক্ষিণ এশিয়ায় হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে চাঙা হয়েছে। হাসিনা ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ। উচ্চপর্যায়ের সফর হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। আগস্টে ঢাকা গিয়েছিলেন ইসহাক দার। ১৩ বছরের মধ্যে এটাই ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
পাকিস্তানের নেতারা আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তানের মতো মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রাখছে পাকিস্তান। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও বিনিময় চলছে তাদের। জুনের বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, পাকিস্তান ইরানকে ভালো জানে।
টাফটস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ফাহাদ হুমায়ূন বলেছেন, এই পরিবর্তনগুলো জানান দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের আঞ্চলিক মূল্য রয়েছে। দুটো বিষয় এখানে একসঙ্গে মিশে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য, গাজা, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ। আর মে মাসে পাকিস্তানের বিমান অভিযানের সাফল্য।
মুনির বিষয়গুলো দ্রুত কাজে লাগিয়েছেন। ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত, জুনে ইসরাইল-ইরান সংঘাত, গাজা শান্তি প্রচেষ্টা—এগুলো কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন। দেশের ভেতরে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদেরও তিনি সান্ত্বনা দিয়ে রেখেছেন। মার্কিন-নেতৃত্বাধীন গাজা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। এটি নিয়ে অবশ্য নানা বিতর্কও রয়েছে।
কাতার, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়ার নেতাদের সঙ্গে মুনির বৈঠক করেছেন। সেপ্টেম্বর মাস ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আর শরিফ সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিরক্ষা চুক্তি করে দুই দেশ।
শিমা জানান, মুনির আগস্ট আর সেপ্টেম্বরে আবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। পাকিস্তানকে আরো বড় আঞ্চলিক খেলোয়াড় করে তুলতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন। মিত্রদের সঙ্গে মুনিরের ভূমিকার ওপর নজর রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিদেশের অর্জন, দেশে মূল্যশোধ
কেউ কেউ বলছেন, পাকিস্তানের কূটনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে। খান বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরব, রাশিয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে। এটা দেশের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করেছে।
কিন্তু দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে সন্দেহ থেকে মুক্ত হতে পারছেন না অনেকেই। পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক আলোচনা কমে গেছে। কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন বশির।
উলভারহ্যাম্পটনে শিক্ষকতা করেন মারিয়া রশিদ। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি আর বিদেশি রাজনীতি গভীরভাবে একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। মার্কিন-পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্কটা পুরোনো। তাদের স্বার্থের মিল আছে। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে এটা গণতন্ত্রের ক্ষতি করে এসেছে।
অতীতেও এ ধরনের উদাহরণ রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে মুজাহিদিনদের সমর্থন দিয়েছিল পাকিস্তান। নাইন-ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জড়িয়েছে তারা। মার্কিন সহায়তা জিয়াউল হক আর পারভেজ মোশাররফকে আরো শক্তিশালী করেছিল।
২০২৫ সালে সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে, পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোয়। এক দশকের মধ্যে হতাহতের হার সর্বোচ্চ মাত্রায় বেড়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করছে। মিডিয়াকে দমন করছে। রাজনৈতিক সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
২৭তম সংশোধনীও ছিল বিতর্কিত। এটা মুনিরকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। সারা জীবনের জন্য দায়মুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগের কোনো বিধিনিষেধও তার ওপর সেভাবে কার্যকর থাকবে না।
শিমা বলেন, পাকিস্তানে ক্ষমতা ভাগাভাগি হয়। সংস্কার আর সমন্বয়ের জন্য এখন সংশোধনী দরকার। ইমরান খানের দলের ওপর সাঁড়াশি অভিযান এখনো চলছে। ২০২৩ সাল থেকে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ পর্যন্ত এর সমালোচনা করেছে।
রশিদ মনে করেন, মে মাসের সংঘাত মুনিরকে সুবিধা দিয়েছে। এর আগে তার জনপ্রিয়তা ছিল অনেক কম। এই সংঘাত ভারতের বিরুদ্ধে তাকে শক্তিশালী হিসেবে হাজির করেছে। বিদেশে সাফল্য দেশের ভেতরের ইস্যুগুলোও পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ইমরান খানের কারাদণ্ড, সংবিধান সংশোধনী, বালুচিস্তানে সহিংসতার উত্থান—এই বিষয়গুলো আলোচনার তালিকা থেকে পিছিয়ে গেছে। কূটনৈতিক সাফল্য বড় করে দেখা হচ্ছে এখন।
আলজাজিরা অবলম্বনে জুলফিকার হায়দার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ট্রাম্পকে ‘সম্মানজনক’ সম্পর্কের আহ্বান জানালেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩০
রুটের বীরত্বে ৩৮৪ রানে থামল ইংল্যান্ডের ইনিংস
ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যয় করা যাবে আইপিওর ৩০ শতাংশ অর্থ
নীলফামারীর ৩৬ লেভেল ক্রসিং এখন মৃত্যুফাঁদ, ১২ মাসে নিহত ১৪