আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

এই ক্রান্তিকালে নতুন রাজনৈতিক দল

মাহবুব উল্লাহ

এই ক্রান্তিকালে নতুন রাজনৈতিক দল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। এই অভ্যুত্থান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অরগানগুলোকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। অভ্যুত্থান আমাদের জনপদের ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৬৯ সালেও একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। এই অভ্যুত্থান প্রায় তিন মাস ধরে অব্যাহত ছিল। আমাদের জনপদের প্রতিটি মানুষকে এই অভ্যুত্থান স্পর্শ করলেও রাষ্ট্রের অরগানগুলো অক্ষত ছিল।

অভ্যুত্থানটির অবসান হয়েছিল সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে। সামরিক শাসন জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভ্যুত্থানজনিত অস্থিরতা নিমিষেই বিলীন হয়ে গেল। অভ্যুত্থানের শিখর সময়ে পুলিশ বাহিনী সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও এর শক্তিমত্তা ও মনোবলে সামান্যতম চিড় ধরেনি। অভ্যুত্থানকালে আমলাতন্ত্র, বিচারিক আদালত ও সামরিক বাহিনী অক্ষত ছিল। সামরিক শাসন ঘোষণা হতে না হতেই রাষ্ট্রযন্ত্র প্রবল শক্তিতে সক্রিয় হয়ে উঠল।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাও ছিল অক্ষত। ফলাফল দাঁড়াল—renewal of the old order; সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন এলো না। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হলো। এই রাষ্ট্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাকিস্তানি আমলাতন্ত্র, পুলিশ বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মালিকানা পেল। পাকিস্তান আমলের গোয়েন্দা পুলিশ যথাক্রমে সিআইডি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভূমিকা নবগঠিত রাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রমে অক্ষুণ্ণ থাকল। ব্যতিক্রম ছিল সামরিক বাহিনী। নবগঠিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গড়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে বিদ্রোহী বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকলেও নতুন রাষ্ট্রে এই বাহিনীগুলোকে নিয়ে গঠিত সামরিক বাহিনী প্রান্তিকতায় নিক্ষিপ্ত হলো।

বাংলাদেশের নতুন শাসক গোষ্ঠী পাকিস্তানি আমলের অভিজ্ঞতার অজুহাতে সামরিক বাহিনীর প্রতি অসূয়া পোষণ করেছিল। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভারতীয় স্বার্থ। ভারতের ইচ্ছা ও আবদারে বাংলাদেশে প্রথম দিকে সামরিক বাহিনীকে কার্যত অকেজো করে রাখা হয়। ভারত চাইছিল না স্বাধীন বাংলাদেশ সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাক। বাংলাদেশের প্রথম সাড়ে তিন বছরে রক্ষী বাহিনী নামে একটি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।

মূল সামরিক বাহিনীর তুলনায় এই বাহিনীটি অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহের জোগানের দিক থেকে অনেক বেশি আনুকূল্য পেয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্ত হয় এবং সামরিক বাহিনীকে আত্তীকৃত হয়। ১৯৭৫ সালের আগস্টের পর নভেম্বরে সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা দেখা দিলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই অস্থিরতার অবসান ঘটানো হয় এবং সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়।

এদিক থেকে বিবেচনা করলে বলতে হয়, ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে রাষ্ট্রীয় অরগানগুলোর মধ্যে একমাত্র সামরিক বাহিনীই সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সত্ত্বেও রাষ্ট্রের অরগানগুলো যথাস্থানে ছিল। রাষ্ট্রের কোনো অরগানকে কোনোরকম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অতীতের অভ্যুত্থান থেকে অনেক দিক থেকেই ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লেগেছে পুলিশ বাহিনীতে। এই বাহিনীটি জুলাই আন্দোলনের সময় দমননীতি বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদী শাসক হাসিনার পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে হিংস্রভাবে দমনপীড়ন করেছে। পরিণতিতে পুলিশ বাহিনীকেও ছাত্র-জনতার রুদ্ররোষের শিকার হতে হয়েছে। কিছু পুলিশ নিহত কিংবা আহত হয়েছে এবং অন্য পুলিশরা ৫ আগস্টের পর কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে এরা দায়িত্বে ফেরত এলেও জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। তাদের মনোবল বলতে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। এই অবস্থায় পুলিশ বাহিনী সুষ্ঠুভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে সাহস করছে না।

একটি দৈনিকের সাম্প্রতিক শিরোনাম—“ছয় মাসে পুলিশের ওপর ২২৫ হামলা, ‘মব’ নিয়ে উদ্বেগ”। এই হলো পুলিশ বাহিনীর হাল। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে আমলাতন্ত্রকে অনুগত ভৃত্যে পরিণত করা হয়েছিল। আমলাদের একটি বিরাট অংশ শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নিপীড়ন, ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠান ও লুটতরাজে সহযোগিতা করেছিল। এই আমলাতন্ত্রের মধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক ফ্যাসিবাদের দোসর চিহ্নিত হয়েছে।

এভাবে চিহ্নিত আমলাদেরও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও কিছু পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, যাতে ফ্যাসিবাদের দোসররা এগুলোর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারে। অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরে দেখা গেছে, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মুখে ফ্যাসিবাদ-কবলিত স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডিতেও পরিবর্তন এসেছে। বাহ্যত এগুলো এক ধরনের মব রিঅ্যাকশন তো বটেই, ফ্যাসিবাদী শাসক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে যে যথেচ্ছাচার করেছে এবং এগুলোর নিয়মকানুন দুমড়েমুচড়ে ফেলেছে, তার ফলে ন্যূনতম সংস্কার ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের একটি দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রের অরগানগুলোর ভগ্নদশা এবং এগুলোর ব্যাপক সংস্কার ভিন্ন অন্য কোনো বিকল্প না থাকা। দেখা যাচ্ছে, অতীতের তুলনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর যদি একটি বিপ্লবী সরকার গঠিত হতো, তা হলে সেই সরকারের অন্যতম এজেন্ডা হতো রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে পুরোনো জঞ্জালের অপসারণ এবং নতুন রক্ত সঞ্চালনের মধ্য দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন। অভ্যুত্থানের নিজস্ব শক্তি অমন প্রবল না হওয়ার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র মেরামত করার চেষ্টা হচ্ছে, এটাকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে না। অর্থাৎ শেক্সপিয়ারের ভাষায় ‘The old order changeth yielding place to new’ সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে যেসব রাজনৈতিক শক্তি ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিল, সেগুলো আবার সতেজ হয়ে আত্মপ্রকাশ করছে। অনেক দক্ষিণপন্থি শক্তির অভ্যুদয় লক্ষ করা যাচ্ছে। নানা নাম ধারণ করে কিছু দক্ষিণপন্থি শক্তি সমাজে ধর্মীয় নৈতিকতা প্রবর্তনের নামে উগ্র আচরণ করছে। এসব শক্তির তুলনায় বামপন্থি শক্তিগুলো নতুন বলে বলীয়ান হয়ে উঠেছে বলে মনে হয় না। প্রত্যেক অভ্যুত্থান বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পুরোনো জড়তা ভেঙে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির স্ফুরণ ঘটায়। বৃহত্তর সমাজ এসব শক্তিকে গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে নতুন ভারসাম্যে পৌঁছায়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-তরুণদের নবশক্তির উদ্বোধন ঘটিয়েছে। অভ্যুত্থানটি যখন সফল হওয়ার পথে তখন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বহু গ্রন্থের প্রণেতা ব্রিটিশ বামপন্থি কর্মবীর তারিক আলী মন্তব্য করেছিলেন, ‘ছাত্রদের উচিত হবে এককভাবেই একটি সরকার গঠন করা, বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। তারা নতুন সরকারে সীমিত স্থান পেয়েছে। তবে তাদের অবস্থান সীমিত হলেও প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর তুলনায় তারা অনেক বেশি সোচ্চার। নতুন ধ্যান-ধারণার কথা বলছে। সম্প্রতি তারা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের গোড়াপত্তন ঘটিয়েছে।

এই দলের বিজয়সূচক স্লোগান হলো—‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ এই স্লোগানকে কেউ কেউ প্রতিক্রিয়াশীল স্লোগান হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পেয়েছে। তবে ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। এই স্লোগানের প্রণেতা ছিলেন বিখ্যাত উর্দু কবি মৌলানা হাসরাত মোহানী। তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এক অধিবেশনে তিনিই সর্বপ্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এর আগে কোনো কংগ্রেস নেতা ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব রাখেননি। ‘স্বরাজ’-এর মতো একটি শব্দ ব্যবহার করে পরাধীন ভারতবাসীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে লুকিয়ে-ছাপিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মৌলানা হাসরত মোহানী ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি প্রথমবারের মতো উত্থাপন করে। পরবর্তীকালে হাসরত মোহানী ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তার উত্থাপিত স্লোগানটিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণধ্বনি হিসেবে ব্যবহার করে। সুতরাং এই স্লোগানটিতে প্রতিক্রিয়াশীল তকমা লাগানোর কোনো সুযোগ নেই।

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেদের একটি মধ্যপন্থি দল হিসেবে ঘোষণা করেছে। মধ্যপন্থি অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। যারা মধ্যপন্থি অবস্থান গ্রহণ করেন, তারা কখনো বামে অথবা ডানে ঝুঁকে পড়ে। এ কারণেই মধ্য বাম ও মধ্য ডান প্রতীতিগুলো এসেছে। এমনকি বামপন্থি কমিউনিস্ট পার্টিগুলোতেও বাম ও ডান বিচ্যুতির প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুতরাং মধ্যপন্থা অনেক সময় ইলিউশন হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে ইদানীংকালে নানা বর্ণের ডানপন্থিরা সামাজিক মাধ্যমে খুব সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এরা জনগণকে তাদের নির্ধারিত মত ও পথ অনুযায়ী চলতে বাধ্য করতে চায়। এই প্রভাবগুলো যদি অব্যাহত থাকে তা হলে নতুন রাজনৈতিক দল ডানপন্থি প্রবণতা থেকে কতটা দূরে অবস্থান করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় জাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করার জন্য গণপরিষদের নির্বাচন দাবি করেছে। তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং পরবর্তীতে গৃহীত এর সমুদয় সংশোধনী বাস্কেট পেপারের ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলতে চায়। গণপরিষদ নির্বাচন হলেও এই পরিষদ নতুন সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বলছে, বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তারা বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের সূচনা করবে।

এ নিয়ে অন্যতম প্রধান দল বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘সেকেন্ড রিপালিক কী, তা তিনি বোঝেন না। দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি এখনো বুঝিনি সেকেন্ড রিপাবলিক কী, কী বোঝায়? আপনারা বুঝেছেন কি না জানি না। অর্থাৎ একটা অসিলা ধরে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। দয়া করে খেয়াল রাখবেন।’ বোঝাই যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দলটি ভুল বোঝাবুঝির শিকার হচ্ছে। তাদেরকে তাদের অবস্থান আরো স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় বিভেদ-বিভ্রান্তি বেড়েই চলবে।

অন্যদিকে কিছু আওয়ামী বুদ্ধিজীবী যারা দেশে আছেন এবং এখানে-সেখানে বৈঠকে-আড্ডায় নানারকম মন্তব্য করেন, তারা বলছেন, ১৯৭২ সালে জাসদও তরুণদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাদের হাঁকডাক ও জঙ্গিপনার অভাব ছিল না। তারা অনেক মুখরোচক স্লোগান দিয়েছিল; বলেছিল, সামাজিক বিপ্লবের কথা, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা। সেই জাসদ গণবাহিনী গঠন করে মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নেমে পড়েছিল। আজ সেই জাসদ খণ্ডবিখণ্ড এবং রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

উল্লিখিত আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, নবগঠিত ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিরও পরিণতি জাসদের মতো হতে পারে। তবে সেরকম কিছু হবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তাদের এক নেতা বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের বিচার সম্পন্ন না হওয়ার আগে কোনো নির্বাচন নয়। এতেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কথা হলো, নির্বাচন হলে বিচার থেমে থাকবে কেন? যারাই জনগণের ম্যানডেট পাবে, তাদের দায়িত্ব হবে ফ্যাসিবাদীদের সকল বিচার নিষ্পন্ন করা।

নবগঠিত রাজনৈতিক দলটিকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো স্বাগত জানিয়েছে। আমিও তাদের স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল গড়ার অধিকার যেকোনো নাগরিকের আছে। তবে এ কথা বলা বাহুল্য হবে না যে, নতুন রাজনৈতিক দলটিকে অনেক প্রতিকূলতা ও বাধা ডিঙাতে হবে। শুধু তাই নয়, এখন থেকে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানে সংযমী হতে হবে। মানুষ সংযম পছন্দ করে।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন