আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সন্ধিক্ষণে চট্টগ্রাম বন্দর

গোলাম এম সোহরাওয়ার্দী

সন্ধিক্ষণে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। নৌপথে দেশের যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তার ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালিত হয় এই বন্দরের মাধ্যমে। কর্ণফুলী নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে, ঠিক সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে এই বন্দর। এই বন্দর বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কৌশলগত অবস্থান থেকে এই বন্দর ভারত, মিয়ানমার এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের কাছাকাছি। সে কারণে আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই বন্দর। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বার এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং সেকেলে ব্যবস্থার কারণে বন্দরের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে বাংলাদেশ অনেক অর্থনৈতিক সুযোগ হারাবে। প্রতিবেশীদের তুলনায় তখন পিছিয়ে পড়তে হবে। দেশের প্রবৃদ্ধি এবং আগামীর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এখন খুবই দরকারি হয়ে পড়েছে।

গভীর সংকট : ব্যবস্থাগত দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা

বিজ্ঞাপন

দুর্নীতি চট্টগ্রাম বন্দরের গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘এই দুর্নীতি প্রশান্ত মহাসাগরের মতোই গভীর।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সিপিএর ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের কর্মকাণ্ড নিয়ে জরিপ চালিয়েছে সরকার। সেই জরিপে ২৫৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির মধ্যে আছে অবৈধ ক্রয়, আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন, আইনবহির্ভূত নিয়োগ এবং অস্বচ্ছ লিজ চুক্তি। এসব দুর্নীতির খোঁজ পাওয়ার পরও কাউকে এখন পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। সিপিএ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় উভয়েই চুপ করে আছে। এর মাধ্যমে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরো মজবুত হবে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানুষ আস্থা হারাবে এবং বন্দর তার পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারবে না।

অদক্ষতা আরেকটি বড় সমস্যা। কার্গো খালাসের জন্য জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলোয় অপেক্ষা করতে হয় মাত্র ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা। এই বিলম্বের জন্য ব্যবসার খরচ বাড়ে। রপ্তানির গতি কমে যায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ক্ষতি পূরণ করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। বন্দরের সমস্যা পুরো অর্থনীতির ওপরই প্রভাব ফেলে। জিনিসপত্রের দাম যেমন বেড়ে যায়, তেমনি বাণিজ্য সুবিধাও হারাতে হয়।

বন্দর ব্যবস্থার প্রধান সংস্থাগুলোকে বোঝা

বন্দরের পরিচালনা ব্যবস্থা বোঝাটা সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সিপিএ বন্দরের অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং লাইসেন্সের বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। অনেকটা বন্দরের মালিক হিসেবে কাজ করে তারা। বিভিন্ন কাজ তারা বেসরকারি কোম্পানির কাছে লিজ দেয়। বেসরকারি বন্দর অপারেটররা কনটেইনার টার্মিনাল এবং লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা করে। বন্দরের কুলি বা শ্রমিকদের ঠিকাদাররা কার্গো লোড ও আনলোড দেখাশোনা করে। প্রায়ই দেখা যায় এদের নিয়ন্ত্রণ করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। টাগবোট সরবরাহকারী এবং মেরামতের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলো সেবা দিলেও তাদের খুব একটা প্রভাব নেই বন্দরে। এই জটিল ব্যবস্থার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কাজে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।

সিপিএ এবং বন্দর অপারেটর বিতর্ক : সংস্কার বনাম প্রতিরোধ

চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বমানের বন্দর অপারেটর নিয়ে আসতে চায়। দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, নেদার‍ল্যান্ডসের এপিএম টার্মিনালস এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের মতো কোম্পানিগুলো সারা বিশ্বে বহু বন্দরের চেহারা বদলে দিয়েছে। এই কোম্পানিগুলো কাজের গতি বাড়াতে রোবটিক ক্রেন এবং এআই ট্র্যাকিং সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালিত জেবেল আলি বন্দর বছরে ১৫ মিলিয়ন কনটেইনার খালাস করে। তাদের সময়ের অপচয় হয় খুবই সামান্য। সিঙ্গাপুরের বন্দর চালাচ্ছে পিএসএ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে দিন-রাত তারা বন্দরের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই অপারেটরগুলো একই ধরনের সুবিধা চট্টগ্রাম বন্দরেও নিয়ে আসতে পারে।

বৈশ্বিক অপারেটরদের নিয়ে আসা হলে বন্দরের দক্ষতা বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এই কোম্পানিগুলো ডিজিটাল কাস্টমস, স্বচালিত টার্মিনাল এবং আরো উন্নত কার্গো ট্র্যাকিংব্যবস্থা চালু করবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বিশ্বে প্রতিযোগিতা করতে পারবে এবং ব্যয় কমিয়ে দ্রুত সময়ে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। বন্দরের আধুনিকায়ন হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে অর্থনীতিও চাঙা হবে।

তবে কিছু গোষ্ঠী এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। সিপিএ, শ্রমিকদের সিন্ডিকেট এবং স্থানীয় সুবিধাভোগীরা সংস্কার ঠেকাতে চান। তারা বলছেন, বিদেশি অপারেটর নিয়ে এলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে আর স্থানীয়রা কর্মসংস্থান হারাবেন। কিন্তু তাদের আশঙ্কা আসলে অন্য জায়গায়। তাদের ভয় হলো, আধুনিকায়ন হলে দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে। অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের চুক্তি আর নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করতে পারবেন না তারা। বৈশ্বিক অপারেটররা আসলে তারা স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিয়ে আসবেন। তখন তাদের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে। তাদের এই প্রতিরোধের পেছনে বাংলাদেশকে রক্ষার কোনো উদ্দেশ্য নেই। ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা হারানোর ভয়ে তারা এর বিরোধিতা করছেন।

শ্রমিক ও সিন্ডিকেটের প্রতিরোধ : অগ্রগতির অন্তরায়

শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সিন্ডিকেটগুলোর যথেষ্ট ক্ষমতা আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। তারা কার্গো ওঠানামা এবং বন্দরের পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায়ই তারা নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত ফি নেয়। কার্গো খালাস এতে আরো বিলম্বিত হয়। এই গোষ্ঠীগুলো বলছে, বিদেশি অপারেটর এলে স্থানীয়রা কাজ হারাবেন। কিন্তু কথাটা সত্য নয়। আধুনিক বন্দর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে। ক্রেন অপারেটর এবং আইটি সমন্বয়কের মতো পদগুলোয় জনবল লাগবে। বিদেশি অপারেটররা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন। তাদের বেতনও দেওয়া হয় ভালো। বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি কম। বিদেশি কোম্পানিগুলোর তাই স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনা কম। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর উচিত সংস্কারকাজে বাধা না দিয়ে শ্রমিকদের নতুন কাজের জন্য যোগ্য করে তোলার কর্মসূচি নেওয়া।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং কর্ণফুলীতে অবৈধ দখলদারি

রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বন্দরের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। ওয়্যারহাউস বা ডিপোর জমিগুলো সাধারণত রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। সুষ্ঠু কোনো টেন্ডার সেখানে হতে দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, কর্ণফুলী নদীপাড়ে অবৈধ দখল বাড়তে থাকায় চ্যানেলের আকারও সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে জাহাজগুলোর পক্ষে যাতায়াত কঠিন হয়ে উঠছে। এই অবৈধ দখলদারির সঙ্গে প্রায়ই ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। তারা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে দখলদারদের ছেড়ে দেন। শিল্প-কারখানার বর্জ্য এবং পয়োনিষ্কাশনের পানি নদীর পানিকে দূষিত করে তুলছে। এ সমস্যাগুলো বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

জাহাজজট এবং কাস্টমস দুর্নীতি : প্রবৃদ্ধি যেখানে আটকে আছে

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট লেগেই থাকে। বছরে দেড় মিলিয়ন কনটেইনার ওঠানামার কথা মাথায় রেখে বন্দর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ৩ দশমিক ২ মিলিয়নের বেশি কনটেইনার খালাস করে তারা। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে সময় বেশি লাগে। বার্থের সংখ্যা সীমিত। সরঞ্জামগুলো পুরোনো। ট্রাক, রেলওয়ে এবং ডিপোর মধ্যে সমন্বয়েও সমস্যা আছে। এগুলো সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। আধুনিক বন্দরগুলোয় জিপিএস এবং এআই ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর এখনো চলছে সেই ম্যানুয়াল লগিং সিস্টেমে। এতে অতিরিক্ত সময় তো লাগেই, অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হয় এবং কনটেইনার খুঁজে পাওয়া যায় না।

কাস্টমসের দুর্নীতি বিশৃঙ্খলাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত কার্গো খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায়ই ঘুস চাওয়া হয়। কর্মকর্তারা পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক বা জরিমানা আদায় করেন। এই কালক্ষেপণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত খরচের চাপ পড়ে রপ্তানিকারকদের ওপর। বিশেষ করে গার্মেন্ট এবং পচনশীল পণ্যের রপ্তানিকারকদের বিপদে পড়তে হয়। অন্যদিকে আমদানিকারকদের জিনিসের দাম বেড়ে যায়। লজিস্টিকস দক্ষতার মাপকাঠিতে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ৮৮তম অবস্থানে রেখেছে বিশ্বব্যাংক। ভারত আর শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে তারা। শুধু দুর্নীতি আর বিলম্বের কারণে দেশের অর্থনীতি বছরে ১ থেকে দেড় শতাংশ জিডিপি হারাচ্ছে।

অচলাবস্থা নিরসন : একটি সংস্কার পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যা মেটাতে বাংলাদেশকে যেসব সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে—

১. স্বচালিত কাস্টমস : জাহাজ পরিবহন, ব্যাংক এবং কর কর্তৃপক্ষকে যুক্ত করে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম চালু করতে হবে। এতে কার্গো খালাস গতি পাবে এবং ঘুষের মাত্রা কমবে।

২. সক্ষমতা বাড়ানো : বে-টার্মিনাল এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের মতো প্রকল্পগুলো শেষ করতে হবে। ক্রেন আপগ্রেট করতে হবে এবং আরো কার্গো ব্যবস্থাপনার জন্য মজুতের ইয়ার্ড বাড়াতে হবে।

৩. প্রযুক্তির ব্যবহার : রিয়েল-টাইম কার্গো ট্র্যাকিংয়ের জন্য আরএফআইডি, আইওটি এবং ব্লকচেইন সিস্টেম চালু করতে হবে। এতে ভুলভ্রান্তি এবং সময় কমে আসবে।

৪. দুর্নীতি মোকাবিলা : স্বাধীন নজরদারি ও ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে, যাতে কাস্টমস ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

৫. সমন্বয় বাড়ানো : কার্গো পরিবহন প্রক্রিয়া আরো বিঘ্নহীন করার জন্য সিপিএ, রেলওয়ে, ট্রাক এবং ডিপোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।

এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে কার্গোজট কমবে, ব্যয় কমে আসবে এবং বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বাড়বে।

আগামীর পথ : বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ এবং কৌশলগত সংস্কার

চট্টগ্রাম বন্দরকে বদলে দিতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই বেশ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

১. বৈশ্বিক অপারেটরের সঙ্গে অংশীদারত্ব : বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো ফার্মগুলো আনার জন্য বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার মডেল ব্যবহার করতে হবে। স্থানীয় শ্রমিকদের যাতে নেওয়া হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর সিপিএকে নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নজরদারি করতে হবে।

২. কাস্টমস ডিজিটাল করতে হবে : কার্গো খালাসে বিলম্ব ও দুর্নীতি এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্লকচেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকে স্বচালিত করতে হবে।

৩. শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ : শ্রমিকদের আরো বড় কাজের জন্য দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের কাজের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং মজুরি বাড়াতে হবে।

৪. নদী দখলমুক্ত করা : কর্ণফুলী নদী রক্ষার জন্য নদীপাড়ের অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে।

৫. দেশকে যুক্ত করতে হবে : চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা এবং শিল্প অঞ্চলগুলোকে আরো ভালোভাবে যুক্ত করার জন্য উন্নত সড়ক, রেলওয়ে এবং জলপথ গড়ে তুলতে হবে।

শেষ কথা : জাতীয় নবায়নের জন্য কৌশলগত মুহূর্তকে কাজে লাগানো

চট্টগ্রাম বন্দর এখন একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বন্দরের সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। সংস্কারের অর্থ শুধু বন্দরের সমস্যা দূর করা নয়। এর অর্থ হলো আরো শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা, যারা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করবে। দুর্নীতিকে অবশ্যই নির্মূল হতে হবে। প্রযুক্তিকে জায়গা দিতে হবে। শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। আর সর্বোপরি সংযোগ ব্যবস্থার অবশ্যই উন্নতি করতে হবে।

অন্যান্য আঞ্চলিক বন্দরগুলো দ্রুত উন্নতি করছে। বাংলাদেশকে এখানে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এখনই পদক্ষেপ না নিলে তার মূল্য দিতে হবে অনেক। দেশ বিনিয়োগ হারাবে, জিনিসের দাম বাড়বে, বৈশ্বিক অবস্থান দুর্বল হবে। প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী মোহাম্মদ ইউনূস যেমনটা বলেছেন, ‘উন্নয়ন একটা যাত্রা, এটা কোনো গন্তব্য নয়’। চট্টগ্রাম বন্দরকে এই যাত্রার জন্য অবশ্যই প্রস্তুত করতে হবে। সাহসী নেতৃত্ব এবং সুস্পষ্ট সংস্কারের মাধ্যমে এই বন্দরকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ জন্য তৎপর হওয়ার এখনই সময়।

লেখক : বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশানের (বিএমএএএ) প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহন খাতে তিনি কাজ করেছেন ৫০ বছরের বেশি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন