বাড়িতে বাড়িতে সোলার বসানোর পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানাই। খুবই ভালো পরিকল্পনা, এমনটা রাজনৈতিক সরকারকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০১৬ সালে বণিক বার্তায় এ নিয়ে কলাম লিখেছিলাম। সোলার হোম কিংবা রুফটপের কথা আসলেই দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের, ঠিকাদারদের এবং সরকারি বেসরকারি উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাথায় বাজ পড়ে।
তবে শুধু দিনের বেলায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহার কিংবা নেট মিটারিং করে গ্রিডে বিক্রি করলে সন্ধ্যার পরে বেইজ লোড কমাবে না। হ্যাঁ এতে দিনের বেলার জ্বালানি খরচ কিছু বাঁচবে। কিন্তু তাতে সন্ধ্যার বেজ লোড+পিক ডিমান্ড মেটানোর জন্য ফুয়েল মিক্সের (ফার্নেস/ডিজেল, গ্যাস, কয়লা, কনভার্টেড এনার্জি) সব প্রয়োজনীয় ফসিল ফুয়েল পাওয়ার্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে হবে। কেননা পিকটা সন্ধ্যার পরে, যখন সূর্য শক্তি নাই, শূন্য সোলার উৎপাদন। আবার বেজ লোড ও পিক লোডের মধ্যে বড্ড বেশি পার্থক্য হলে গ্রিডে অটোমেটিক জেনারেশন কন্ট্রোল, গ্রিড ফ্রিকুয়েন্সি ম্যানেজমেন্ট কঠিন- গ্রিড ইফেসিয়েন্সি ও স্ট্যাবিলিটির জন্য এটা খুব ভালো না।
সেজন্য আমাদের BESS এ বা ব্যাটারি স্টোরেজে যেতে হবে। মিনি, মিডি এবং সম্ভব হলে লার্জ। BESS (Battery Energy Storage System), এ বড়ো আকারের ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে পরে গ্রিডে সরবরাহ করা হয় (তবে গ্রিড ক্যাপাসিটি, ফ্রিকুয়েন্সি সমন্বয় লাগে)। বড়ো সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিনে প্রচুর বিদ্যুৎ তৈরি করে, অতিরিক্ত অংশ BESS-এ জমা হয় এবং রাতে বা পিক সময়ে গ্রিডে দেয়; এটা বেস গ্রিড। বাসা বাড়ির ছাদে মিনি বেস, অফিস ও শিল্প ছাদে মিড বেস করা যায়। এতে সন্ধ্যার পরের পিক লোড ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়।
পাশাপাশি লাগবে, আমাদের লাগবে ব্যাটারি স্টোরেজ কেন্দ্রিক সোলার হোম সিস্টেম। শহরে ও গ্রামে সর্বত্র। নেট মিটারিং সুবিধা আছে কিংবা নেই সব জায়গায়। ব্যক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, স্টোর করবে এবং রাতে নিজ প্রয়োজনে খরচ করবে। এটায় বাংলাদেশ একসময় পাইওনিয়ার ছিল। একদিকে নিম্নমানের ব্যাটারি ও সাপোর্ট সমস্যা, অন্যদিকে গ্রামীণ শক্তির ওপর হাসিনা সরকারের বৈরিতা- এ দুয়ে হোম সোলার ধ্বংস হয়েছে।
সরকার যাতে পুরো সোলার পলিসি প্যাকেজের এভাবে সাজায়
যেহেতু বাংলাদেশের ছাদে পানির ট্যাংক আছে। ছাদে কিছু সোলার ইল্ড বেশি পেতে কিছু স্ট্রাকচারাল চেঞ্জ আনা লাগতে পারে, এটা পাড়ার গ্রিল/ঝালাই দোকানগুলোই ভালো পারবে, জাস্ট তাদের প্যানেলের সংখ্যার বিপরীতে ঝড়ের সময়কার/কালবৈশাখীর লোডের বিষয়টা বুঝিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ কিছু স্টিল স্ট্রাকচার দিয়ে ছাদটাকে সোলার প্যানেলের উপযোগী করা; পরে সোলার প্যানেল ক্লিনিং সুবিধা রাখা। কারণ বাংলাদেশে বাতাসে ধূলাবালি অনেক বেশি (ঢাকার গাছের পাতায় দেখবেন), তাই ক্লিনিংয়ের ফ্যাসিলিটি রাখতে হবে। এটা ম্যানুয়াল হলেই হবে, এখানে রোবোট কিনার দরকার নেই।
সরকার নেট-মিটারিংয়ের বিষয়টা কন্সিডার করবে, এতে বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করা যাবে, যেহেতু বেসরকারি উদ্যোগে রুফ সোলারাইজেশন হচ্ছে। নেট-মিটারিংয়ের জন্য পিক-অফপিক বিবেচনায় আনতে হবে। পিকে যদি সাবসিডি বেশি দেয় বা বিক্রিত বিদ্যুতের দাম বেশি পাওয়া যায়, তাহলে সোলার উৎপাদনের আগ্রহ বাড়বে, কেননা প্রণোদনা বা ইন্সেন্টিভ বেশি। আবার পিকে ব্যবহারের জন্য স্টোরেজটা যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্টোরেজের উপরেও সরকার কিছু প্রণোদনা কন্সিডার করতে পারেন। কেননা এটা কিন্তু আপনার প্রাইমারি জ্বালানি আমদানির ডলার সেভ করবে। অর্থাৎ নেট মিটারিং এর মাধ্যমে শুধু বিদ্যুৎ বিক্রি করবে না, বরং দিনে স্টোরেজ করে পিকে ব্যবহার করলেও কিছু ইন্সেন্টিভ পাবার আশা এই খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে।
অন্যথায় যেটা হবে, আপনি দিনের বেলা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। কিন্তু রাতে যখন সূর্য থাকবে না, তখন লোড আবার আঠারো হাজার মেগাওয়াটে চলে যাবে। সেজন্য সোলার পলিসিটা যাতে ব্যালান্সড ওয়েতে হয় আরকি।
আমরা ব্যাটারি উৎপাদনের শুল্ক কমিয়েছি, ৮০% থেকে ১%। এখন উৎপাদন মাস স্কেলে হবার আগ পর্যন্ত স্টোরেজ বা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সংক্রান্ত আমদানির উপরও ট্রানজিশন টাইম (দুই থেকে চার বছর) ধরে শুল্ক কমাতে হবে। তবে ফাইনাল লক্ষ্য হবে দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি ও প্যানেল, কনভার্টার ইত্যাদি দেশেই উৎপাদন। এই দুই-চার বছরে লোকাল কোম্পানিগুলো উৎপাদনের আসার সব ব্যবস্থা করতে হবে।
সোলার সংক্রান্ত যাবতীয় ডিউটি স্ট্রাকচার রিভিউ করতে হবে। রেস্ট্রিকটেড ডিউটি আছে, কাস্টমস ডিউটি আছে, এটি/এআইটি আছে; পাইকারি ভ্যাট, আমদানি ভ্যাট ইত্যাদি ৫-৬টা স্টেজ আছে। এটা রিস্ট্রাকচার ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহনীয় করতে হবে।
পরে আসবে, বিদ্যুতের দাম। সাধারণ নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এভারেজ খরচ যত ইউনিট খরচ হয়। ধরুন ৫০ ইউনিট। এই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সস্তা রাখতে হবে। এটা বেসিক নিড। কিন্তু বাকি স্তরে বিদ্যুৎ-এর দাম বাড়াতে হবে। তবে সেটা শর্ত যুক্ত।
০-৫০ ইউনিটঃ বর্তমান দাম
৫০-২০০ ইউনিটঃ দাম ৩০% বাড়বে, সোলার থাকলে বাড়বে মাত্র ১৫% (নেট মিটারিং বিক্রিতে আয়) ২০০-৬০০ ইউনিটঃ দাম ৫০% বাড়বে, সোলার থাকলে বাড়বে মাত্র ২০% (নেট মিটারিং বিক্রিতে আয়, সোলার হোম ও রুফটপ টার্গেট) শিল্প বিদ্যুতে দাম ৪০% বাড়বে (ফসিল ফুয়েল), সোলার থাকলে বাড়বে মাত্র ১৫% (বেস কেন্দ্রিক স্টোরেজ ও নেট মিটারিং ইন্সেন্টিভ)
কৃষির সেচে সোলার বাধ্যতামূলক করা লাগবে, সেখানে সম্পূর্ণ নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থা লাগবে। এরকম একদিকে সোলার ইন্সেন্টিভ এবং অন্যদিকে ফসিল ফুয়েল এনার্জির উপর পেনাল্টি সিস্টেম লাগবে। এর জন্য আগে ইকোসিস্টেম ডেভেলপ করা লাগবে, মানে ব্যাটারি, প্যানেল, কনভার্টার ইকোসিস্টেম এবং ডিউটি স্ট্রাকচার এগুলো ঠিক করে ফেলতে হবে।
আমরা পুরো ইকোসিস্টেমটা যদি ডেভেলপ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে এনার্জির সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। আর দশ হাজার-পাঁচ হাজার মেগাওয়াট প্রকল্প গুলার সাথে BESS সহ বাস্তবায়ন করা লাগবে।
আমাদের বস্তিবাসী বা নিম্ন মধ্যবিত্ত যাতে অ্যাফেক্টেড না হয়। কেবল মধ্য/উচ্চ মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত যাতে অ্যাফেক্টেড হয় সেটা মাথায় রেখে তাদের সিলিংয়ের উপরে বিদ্যুতের দামটা দ্বিগুণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। তখন এরা ফোর্সড হবে সোলারে যাওয়ার জন্য। সেখানে BESS ঢুকানো হবে। আপনি সোলারে না গেলে আপনার ২ গুণ বিল বাড়বে আর যদি সোলার+ব্যাটারিতে যান তাহলে ২৫% বাড়বে- এরকম একটা ড্রাস্টিক ইন্সেন্টিভ অ্যান্ড পেনাল্টি মেকানিজম নিতে হবে।
তবে সরকার যদি মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে বিদ্যুতের দাম না বাড়ায়, তাহলে সোলার থেকে বিক্রিত বিদ্যুতের উপরে এক্সট্রা ২-৫ % ইনসেন্টিভ দিতে হবে। নাইলে বিনিয়োগে যাবে না কেউ। মোটকথা সোলার ব্যবসাকে লাভজনক করে তুলতে হবে, BESS ভিত্তিক সোলার সেন্টার, স্টোরেজ সহ সোলার হোম ও রুফটপ সোলারে প্রতিটি ডোমেইনে রেভুলেশন আনতে হবে। নাইলে, জ্বালানি কিনে সরকার ডলার ড্রেন ঠেকাতে পারবে না।
বর্তমানে বাজারের বিদ্যুতের যে দাম, সেটা উৎপাদনমূল্য থেকে কম। এই অবস্থায় বেসরকারি ইনভেস্টমেন্ট অ্যাট্রাক্টিভ হবে না। সো দাম বাড়াতে হবে কন্ডিশনালি, সেই কন্ডিশনের মধ্যে ইন্সেন্টিভ এবং পেনাল্টির যৌথ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডজনখানেক সোলার আইপিপি বাদ দিয়েছে। আসলে লুটপাট বান্ধব চুক্তিগুলো বাদ দিতে হয়েছে। ভারতের সোলার আইপিপি চুক্তি ইউনিট মূল্যের বর্তমান চিত্রটা (২০২৫-২০২৬) এরকম- সাধারণ সৌর বিদ্যুৎ এর বড় প্রকল্পগুলোতে দর ₹২.৪৩ থেকে ₹২.৬৯ প্রতি ইউনিট (kWh) এর নিচে নেমেছে। সোলার-উইন্ড হাইব্রিড (Hybrid) মার্চ ২০২৬-এ, NTPC-এর ১.২ GW হাইব্রিড প্রকল্পে দর অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ₹৩.৩৫ থেকে ₹৩.৩৬ প্রতি ইউনিট। স্টোরেজসহ সোলার (Solar + BESS): স্টোরেজ (ব্যাটারি) যুক্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে মূল্য কিছুটা বেশি, যা প্রায় ₹৪.৩/kWh। তবে সাম্প্রতিক Solar+BESS প্রকল্পে দর আরও কমেছে। MP-এর Morena প্রকল্পে Solar+Storage-এর দর ₹২.৭–₹২.৭৬/kWh পর্যন্ত নেমেছে। অর্থাৎ "₹৪.৩" ২০২৫-এর দর যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রেকর্ড হচ্ছে ২০২৫ সালে Madhya Pradesh (MP)-এ BESS-ছাড়া সাধারণ সৌর প্রকল্পের সর্বনিম্ন ₹২.১৫/kWh হারে পিপিএ (PPA) চুক্তি। ( সোর্স- powerpeakdigest, mercomindia, jmkresearch, saurenergy)
বিপরীতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার BESS ছাড়াই সোলার আইপিপি চুক্তি করেছে ইউনিট প্রতি ১৫ থেকে ২১ টাকায়। (শেয়ার বিজ এ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট করেছে)। অর্থাৎ কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের লুটপাট ও পিডিবির লোকসানের এস্টাবলিসড ভুত থেকে বাঁচতে এসব চুক্তি বাদ দেয়াই যৌক্তিক ছিল। এখন বর্তমান সরকার সাশ্রয়ী ও টেকসই নতুন চুক্তি করবে এটা আশা করি, এরই মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ আরও সুলভও হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু পলিসিগত কাজ করে গেছে। যেমন রিনিউএবল এনার্জি পলিসি ২০২৫, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫, এনার্জি এন্ড পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান ২০২৬। এর সাথে আছে 3000 MW national rooftop solar program, এখানে স্টোরেজ স্যলুশ্যন ইন্টিগ্রেট করা লাগবে।
EPSMP-এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎখাতের জন্য একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক রূপান্তর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০%, ২০৪০ সালে ৩০% এবং ২০৫০ সালে ৩০–৫০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ৭৬৫ কেভি ও ৪০০ কেভি শক্তিশালী জাতীয় গ্রিড গঠন, গ্রিড ফ্লেক্সিবিলিটি ও স্মার্ট গ্রিড কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নবায়নযোগ্য সংযোজন সহায়ক হিসেবে একটি জাতীয় এনার্জি স্টোরেজ রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। সীমান্ত-পার জলবিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জলসম্পদ ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি আরও বিস্তারিত অধ্যয়ন ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি রূপান্তরকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান উৎপাদন কাঠামোর দক্ষ ব্যবহার এবং সীমিত পরিসরে দেশীয় কয়লার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ মানোন্নয়নের জন্য পাওয়ার কোয়ালিটি অডিট নীতি প্রণয়ন, উচ্চমূল্যের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করে ব্যয় সাশ্রয়, বৃহৎ সৌর প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ বায়ুশক্তির প্রস্তুতি, গ্যাসের অধিক দক্ষ ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি, বিদ্যুৎ বাজার সংস্কার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুৎখাতকে আর্থিকভাবে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করার রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনাকে দরকারে আরও উন্নত ও বাস্তবায়নযোগ্য করে, সামনে এগিয়ে নেয়াই হোক মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের জ্বালানি সভ্রেন্টি তাকেই খুঁজে বের করতে হবে।
সোলার বাস্তবায়ঙ্কে টেকসই করতে আরও কয়েকটি বিষয়কে ভবিষ্যতে আমলে নেয়ার পরামর্শ দেই।
১. ডাক ইকোনমি—ছাদ সোলারের জন্য ফাইন্যান্সিং মডেল
বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের জন্যও সোলার+BESS-এর আপফ্রন্ট খরচ বড় বাধা। PAYG (Pay-As-You-Go) বা সোলার লিজিং মডেল, অথবা গ্রিন বন্ড/মাইক্রোফাইন্যান্স দিয়ে এটা সমাধানযোগ্য। ইডকল (IDCOL) একসময় সোলার হোম সিস্টেমে এই মডেল করেছিল, সেটার রিভাইভাল বা আপগ্রেড দরকার।
২. গ্রিড কোড সংস্কার
রুফটপ সোলার ও BESS ব্যাপকভাবে যুক্ত হলে বাংলাদেশের বিদ্যমান গ্রিড কোড যথেষ্ট নয়। দ্বিমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ, ভোল্টেজ রেগুলেশন, এবং ডিস্ট্রিবিউটেড জেনারেশনের জন্য আলাদা টেকনিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড দরকার। এটা না থাকলে নেট মিটারিং চালু হলেও বাস্তবে গ্রিড অস্থিতিশীল হবে।
৩. দক্ষ জনশক্তি তৈরি
সোলার ইন্সটলার, BESS টেকনিশিয়ান, ইনভার্টার মেইনটেন্যান্স ইত্যাদি দক্ষতা বাংলাদেশে এখনও অপ্রতুল। পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষায় সোলার-নির্দিষ্ট কোর্স চালু না হলে স্কেলআপ কঠিন হবে।
৪. জমির সীমাবদ্ধতা ও ফ্লোটিং সোলার
বাংলাদেশে বড় গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সোলার পার্কের জন্য জমি সংকট বাস্তব সমস্যা। নদী অববাহিকা, হাওর, বিল বা জলাশয়ে ফ্লোটিং সোলারের সম্ভাবনা এমনকি সেচ পাম্পের পুকুরগুলো, রেলের জমি ইত্যাদি উল্লেখ করা যায়। ভারতে MP-এর ওম্কারেশ্বর ফ্লোটিং সোলার এ ক্ষেত্রে ভালো উদাহরণ।
৫. ডেটা ও স্মার্ট মিটারিং
BESS ও নেট মিটারিং কার্যকর হতে হলে স্মার্ট মিটার অপরিহার্য। বাংলাদেশে এখনও বেশিরভাগ জায়গায় পুরনো মিটার। এসব মিটারের ডেটা কালেকশন পুরানো ও অকার্যকর হেক্সন। বিপরীতে পিক-অফপিক ভিত্তিক বিলিং করতে হলে ফোরজি বা আইওটি স্মার্ট মিটার রোলআউটকে পলিসির অংশ করতে হবে। এটা না থাকলে আপনার প্রস্তাবিত টায়ার্ড প্রাইসিং বাস্তবায়নযোগ্য হবে না।
এই পাঁচটির মধ্যে ফাইন্যান্সিং মডেল এবং স্মার্ট মিটারিং বিষয় দুটো সবচেয়ে জরুরি, কারণ এ দুটো ছাড়া প্রস্তাবিত ইনসেন্টিভ ও পেনাল্টি কাঠামো বাস্তবে কাজ করবে না।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

