ওসমানীর কেন ফিল্ড মার্শাল প্রাপ্য

কমডোর জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া (অব.)
কমডোর জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া (অব.)

ওসমানীর কেন ফিল্ড মার্শাল প্রাপ্য

যেকোনো জাতির ইতিহাসে স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে অর্জিত হয় না; এর পেছনে থাকে রাজপথের রক্ত, ব্যারাকের বিদ্রোহ এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ না করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর কালুরঘাট থেকে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সশস্ত্র ঘোষণা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। আজ রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু বীরের নাম উচ্চারিত হলেও সেই পেশাদার সৈনিকদের অবদান তুলনামূলকভাবে আড়ালেই রয়ে গেছে, যারা প্রথম বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন।

বাঙালির এই সামরিক সক্ষমতার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল ‘অ-যোদ্ধা জাতি’ তকমা মোচনের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্যতম রূপকার ও তৎকালীন অফিসার কমান্ডিং মেজর আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী দিল্লিতে সুপ্রিম কমান্ডারের সদর দপ্তরে ব্রিটিশ ফিল্ড মার্শাল ক্লদ অকিনলেকের কাছে বাঙালিদের জন্য একটি পৃথক রেজিমেন্ট গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তার দূরদর্শী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ উদ্যোগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মেজর আবদুল গনি (টাইগার গনি), যিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে বাঙালি যুবকদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। অথচ ইতিহাসের মূলধারায় এই দুই অগ্রদূতের অবদান আজও প্রাপ্য গুরুত্ব পায়নি।

বিজ্ঞাপন

অগ্নিপরীক্ষা : ঝিলামের পাহাড় থেকে ১৯৬৫ সালের রণাঙ্গন

১৯৪৯ সালে বক্সিং রিংয়ে পাঞ্জাব রেজিমেন্টকে হারিয়ে বাঙালি জওয়ানেরা প্রথম সামরিক আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। এরপরই তাদের অযোগ্য প্রমাণ করতে গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ঝিলামের হিমশীতল পাহাড় ও মরুভূমিতে কঠোর ‘উইন্টার অ্যান্ড ডেজার্ট ট্রায়ালস’ চাপিয়ে দেওয়া হয়। তখন কোয়ার্টার মাস্টার মেজর আবদুল গনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাদের হাড় ভেঙে দিতে পার, কিন্তু আমাদের সংকল্প ভাঙতে পারবে না।’ শতভাগ সফলতায় সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাঙালি সৈনিকেরা ‘সিনিয়র্স টাইগার্স’ উপাধি অর্জন করেন। এই দক্ষতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি আসে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে। লাহোর রক্ষায় প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট একাই সর্বোচ্চ ১৫টি বীরত্বসূচক খেতাব পায়। বেদিয়ান সেক্টরের সম্মুখসমরে আলফা কোম্পানির তরুণ কমান্ডার ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ‘হিলাল-ই-জুরাত’ খেতাবে ভূষিত হন। এই সাফল্যের ফলেই ১৯৬৮ সালের মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সংখ্যা আটে উন্নীত হয়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।

ওসমানীর নেতৃত্ব ও তেলিয়াপাড়া বৈঠক

১৯৫১ সালের ৮ নভেম্বর লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ জি ওসমানী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে একে বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলেন। তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ গানটিকে রেজিমেন্টের মার্চিং সং হিসেবে প্রবর্তন করেন এবং তার প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগের কোটা ২ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অন্যতম সংগঠক মেজর খালেদ মোশাররফ সমন্বিত যুদ্ধপরিকল্পনার লক্ষ্যে মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর শফিউল্লাহসহ সামরিক নেতৃত্বকে একত্র করেন। সেখানে একমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (MNA), সর্বাধিক জ্যেষ্ঠ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান সেনাপতি মনোনীত করা হয়। এই ঐক্যবদ্ধ সামরিক নেতৃত্ব ও সমন্বিত কমান্ড কাঠামোই পরবর্তীকালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের দৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করেছিল।

উপমহাদেশের চার ‘ফিল্ড মার্শাল’ : স্বীকৃতির ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে এ পর্যন্ত চারজন ব্যক্তি ‘ফিল্ড মার্শাল’ (পাঁচ-তারকা) পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে তাদের এই সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান লাভের পটভূমি এক নয়। কারো ক্ষেত্রে তা এসেছে অসাধারণ যুদ্ধজয়ের স্বীকৃতি হিসেবে, কারো ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের জন্য, আবার কারো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবেই এই পদ প্রদান করা হয়েছে।

ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ (ভারত): ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে সুসজ্জিত ও সুপ্রশিক্ষিত প্রথাগত (Conventional) ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত হন। এর মাত্র ১৫ দিন পর তিনি পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন।

ফিল্ড মার্শাল কেএম কারিয়াপ্পা (ভারত) : স্বাধীন ভারতের প্রথম কমান্ডার-ইন-চিফ কারিয়াপ্পা ছিলেন আপসহীন নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতীক। ১৯৪৯ সালে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে একটি সংবেদনশীল কাজের জন্য ‘লে. কর্নেল’ অ্যাসিস্ট্যান্ট চাইলে সামরিক শাখা নিয়ম অনুযায়ী কেবল ‘মেজর’ পদের বরাদ্দের কথা জানায়। ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘নিয়ম সবার জন্য সমান, আমাকে একজন মেজরই দিন।’ শুধু তা-ই নয়, আজাদ হিন্দ ফৌজের সাবেক সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তে অটল থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী নেহরুর তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগের হুমকি দিয়েও তিনি সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রেখেছিলেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তার ছেলে স্কোয়াড্রন লিডার নন্দা কারিয়াপ্পা পাকিস্তানে যুদ্ধবন্দি হলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ব্যক্তিগতভাবে তাকে অবিলম্বে মুক্তির প্রস্তাব দেন। একদা জেনারেল কারিয়াপ্পার অধীনে চাকরি করা আইয়ুব খানের সেই প্রস্তাব কারিয়াপ্পা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘সে এখন আর কেবল আমার ছেলে নয়; সে এই দেশের সন্তান। পারলে সবাইকে ছেড়ে দিন, না হলে কাউকেই নয়; তাকে অন্য সব যুদ্ধবন্দির মতোই সাধারণ চোখে দেখুন।’ এই অসাধারণ দেশপ্রেমের স্বীকৃতিস্বরূপ, ১৯৫৩ সালে অবসর নেওয়ার দীর্ঘ ৩৩ বছর পর, ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার তাকে সর্বোচ্চ ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে ভূষিত করে।

ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান (পাকিস্তান): ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখলের পর, ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে আইয়ুব খান নিজেকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করেন। তবে তার এ উপাধি গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যক্তিগত প্রভাব ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার এ পদবি গ্রহণের অন্যতম দিক।

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (পাকিস্তান) : ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতের পর পাকিস্তানে তাকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা হয়। তবে এই যুদ্ধের সাফল্যে মূল কৌশলগত ভূমিকা ছিল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর।

জেনারেল ওসমানী : কেন তিনি ‘ফিল্ড মার্শাল’ পাওয়ার যোগ্য

উপমহাদেশের সামরিক ইতিহাসে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদটি কখনো যুদ্ধজয়, কখনো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান মূল্যায়ন করলে তিনি এই মর্যাদার যোগ্যতম দাবিদার। এর পক্ষে প্রধান তিনটি কারণ—

১. রণাঙ্গনের ‘ন্যাচারাল লিডার’ ও দূরদর্শী সংগঠক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বার্মা ফ্রন্টের অভিজ্ঞ এই সৈনিক ১৯৫১ সালের প্রথম ইস্ট বেঙ্গলের প্রথম বাঙালি কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ‘পাপা টাইগার’ হিসেবে বাঙালির সামরিক সত্তা জাগ্রত করেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানি জেনারেলরা তাকে কোণঠাসা করে রাখলেও ফ্রন্টে তারই হাতে গড়া প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সর্বোচ্চ বীরত্ব দেখিয়ে তার দূরদর্শী সামরিক দর্শনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিল।

২. প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও নৈতিক দৃঢ়তা : চরম জাতিগত বৈষম্যের কারণে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ওসমানীকে অন্যায়ভাবে স্থায়ী কর্নেল র‍্যাংকের ওপরে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। ‘ডেপুটি ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনস’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তার পেশাদারত্বের প্রশংসা পাকিস্তানি অফিসাররাও করেছেন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ক্ষুব্ধ জান্তা তার অস্থায়ী ‘ব্রিগেডিয়ার’ পদমর্যাদার দায়িত্ব বাতিল করে তাকে স্থায়ী ‘কর্নেল’ পদে নামিয়ে আনে এবং পদোন্নতি চিরতরে স্থবির (Freeze) করে দেয়।

৩. শূন্য থেকে সৃষ্টি : ভারতের স্যাম মানেকশর হাতে ছিল সুসজ্জিত রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী; কিন্তু ১৯৭১ সালে ওসমানী যখন প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নেন, তখন তার হাতে কোনো প্রথাগত বাহিনী ছিল না। সম্পূর্ণ শূন্যহাতে, মাত্র ৯ মাসে, বিক্ষিপ্ত নিয়মিত সৈনিক ও সাধারণ গেরিলা যোদ্ধাদের (মুক্তিবাহিনী) এক সুতোয় গেঁথে তিনি একটি কার্যকরী সামরিক কাঠামো গড়ে তোলেন। এই অপ্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও ভারী অস্ত্রে প্রশিক্ষিত বাহিনীকে পরাস্ত করা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য ‘মিরাকল’।

আইয়ুব খান বা আসিম মুনিরদের মতো ‘পলিটিক্যাল ফিল্ড মার্শাল’দের পাশে ওসমানীর নাম উচ্চারিত হওয়া মানে তাকে ছোট করা। ক্ষমতার অলিন্দে পদকের রাজনীতি তিনি করেননি। ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পার মতো তিনিও সামরিক নীতি ও শৃঙ্খলায় ছিলেন আজীবন আপসহীন। আমার ‘জাতীয় দিশা’ গ্রন্থে আমি এটিই তুলে ধরেছি যে, কীভাবে সামরিক সম্মাননাগুলো রাজনৈতিক কূটকৌশলে অনেক সময় ভুল ঠিকানায় পৌঁছে যায়। কিন্তু জেনারেল ওসমানী ছিলেন এই সমস্ত সংকীর্ণতার বহু ঊর্ধ্বে; রণাঙ্গনের এক অদম্য, নীতিবান এবং প্রকৃত ‘ন্যাচারাল লিডার’। এ কারণেই আজ ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তাকে মরণোত্তর ‘ফিল্ড মার্শাল’ উপাধিতে ভূষিত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।

অস্তিত্বের দায় ও ইতিহাসের কাঠগড়া

স্বাধীন বাংলাদেশের এই সার্বভৌমত্ব কোনো আকস্মিক দান নয়; এটি পেশাদার সৈনিকদের সাহসী বিদ্রোহ এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অগ্নিপরীক্ষা থেকে শুরু করে রণাঙ্গনের চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যারা মেধা ও রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়। জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে মরণোত্তর ‘ফিল্ড মার্শাল’ উপাধিতে ভূষিত করা এবং মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী ও মেজর আবদুল গনিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা আজ কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং জাতির অস্তিত্বের ঋণ। এর জন্য কোনো বাড়তি বাজেট বা আর্থিক বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন কেবল ইতিহাসের সত্যকে মেনে নেওয়ার মতো একটি ‘জাতীয় সদিচ্ছা’। বীরদের সম্মান করতে জানলেই দেশে নতুন বীরের জন্ম হয়। মীরজাফরের প্রেতাত্মাদের হটিয়ে ওসমানী, গনি এবং এ ডব্লিউ চৌধুরীদের আদর্শকে জাতীয় চেতনায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হোক আমাদের ‘জাতীয় দিশা’।

লেখক : সাবেক সহকারী নৌবাহিনী প্রধান ও উপ-উপাচার্য, বিইউপি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়:

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...