২০১৯ সালের কথা। আমি তখন মালয়েশিয়ায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি কোর্সের শিক্ষার্থী। কুয়ালালামপুরে তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির সঙ্গে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মাধ্যমে আমার পরিচয় হয়। যারা তুরস্কের খোঁজখবর রাখেন, তাদের কাছে মের্ভে কাভাকুচি এক অত্যন্ত সম্মানিত নাম।
নব্বই দশকে তিনি তুর্কি সংসদে হিজাব পরিধান করে রীতিমতো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় তুরস্ক এমন এক ভয়ানক সেক্যুলার দেশ, যেখানে সরকারি অনুষ্ঠানে হিজাব মাথায় দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। অসীম সাহসী মের্ভে জেলে গিয়েছিলেন, দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের ইসলামি আদর্শের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করেননি। কাভাকুচি তুরস্ক ছেড়ে হার্ভার্ডে গিয়ে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করেছেন। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে ২০০২ সালে ইসলামপন্থি আক পার্টি তুরস্কের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মের্ভে কাভাকুচি দেশে ফিরতে পেরেছিলেন।
তার বাবাও একজন অসামান্য পণ্ডিত মানুষ, যিনি তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. ইউসুফ জিয়া কাভাকুচি ক্যামব্রিজ, ফিলাডেলফিয়া এবং টেক্সাসে অধ্যাপনা করেছেন। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি এখন ইস্তান্বুল এবং মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। মের্ভের মা গুলহান কাভাকুচিও একজন স্কলার এবং অধ্যাপক।
বাংলাদেশের ইসলামবিদ্বেষী সুশীলদের জন্য মের্ভে কাভাকুচির পারিবারিক পরিচয় দেওয়াটা প্রয়োজন ছিল। তারা সাধারণত ইসলামপন্থিদের বুদ্ধিজীবী মানতে চায় না। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বিবেচনা করি যে এই সম্মানিত পরিবারটির সঙ্গে আমার মেশার সুযোগ হয়েছিল।
গৌরচন্দ্রিকা শেষ করে এবার আসল কথায় আসি। মালয়েশিয়ায় আমার ভিসার সমস্যা না থাকলেও সঙ্গে থাকা স্ত্রীর ভিসা পেতে বেশ জটিলতা হচ্ছিল। তার ওপর আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদও আর বেশি দিন ছিল না। ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করা সব বিদেশি ছাত্রছাত্রী জানেন যে, সেখানে প্রতি বছর ভিসা নবায়ন করা এক মহাবিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। একবার আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে হাসিনার আমলে সেই পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ ছিল না।
পাসপোর্ট না থাকলে মালয়েশিয়ায় অবৈধ নাগরিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বেশ উদ্বিগ্ন বোধ করছিলাম। এমন এক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির সঙ্গে আলাপ করলে তিনি আমাকে তুরস্কে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রবীণ নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ তখন মালয়েশিয়াতেই নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিনিও আমাকে একই পরামর্শ দিলেন। পরে তিনিও তুরস্কে চলে যান। আমি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কে যাই এবং আল্লাহর রহমতে ২০২০ সালের জুন মাসে নাগরিকত্ব পেয়ে মনে করলাম আপাতত হাসিনা এবং ভারতের নাগালের বাইরে যেতে পেরেছি। মের্ভে কাভাকুচি সম্পর্কে আরেকটি কথা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষভাবে জানা প্রয়োজন।
২০১৯ সালে আমার মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবনকালে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত জেলখানায় অমানবিক পরিবেশে নির্জন কারাবাসে ছিলেন। তার ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের যাবতীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনে কাভাকুচি গভীর সমবেদনার সঙ্গে আমাকে মুসলিম বিশ্বের একজন প্রধান নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে একটি চিঠি লিখতে বললেন।
আমি সেই চিঠিটি একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, যিনি আমাকে প্রথমদিকে মালয়েশিয়ায় থাকতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তার অফিসে বসেই লিখেছিলাম। কয়েক দিন পর মের্ভে কাভাকুচি আমার স্ত্রীসহ তার সরকারি বাসভবনে ডিনারের দাওয়াত দিলে আমি চিঠিটি তার হাতে দিয়েছিলাম। ওই ডিনারে কাভাকুচির মা এবং বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়ে তাদের আতিথেয়তা এবং সুগভীর জ্ঞানে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আমি ধারণা করছি, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বেগম জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে আমার লেখা চিঠিটি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অফিসে পাঠিয়েছিলেন। পুরোনো কাগজপত্র ঘাঁটলে সেই চিঠির কপি পেয়ে যেতে পারি।
তুরস্কের নাগরিকত্ব কখনো আমার কোনো গোপন খবর ছিল না। পাসপোর্ট হাতে পেয়েই আনন্দের চোটে তার ছবি মালয়েশিয়ায় আমার পরিচিত সবার কাছে সেই ২০২০ সালেই পাঠিয়েছিলাম। কনক সারওয়ারের টকশোতেও এ বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। আমার দেশ-এর সহকর্মীরাও সবাই তা জানতেন। আমি তুরস্কের নাগরিকত্ব লুকানোর চেষ্টায় কোনো বাংলাদেশি ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে গত বছর ইস্তান্বুল থেকে দেশে ফিরিনি।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের মেয়াদও অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ইস্তান্বুলে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে গিয়ে ভিসা নিয়ে তবেই দেশে ফিরেছিলাম। দেশে ফিরে তারপর আমি বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্ট নিয়েছি। কিন্তু সেই পাসপোর্ট আমি এখন পর্যন্ত ব্যবহার করিনি। আমি তুর্কি পাসপোর্ট নিয়েই ঘুরে বেড়াই। একটা মজার গল্প বলি। বিদেশি পাসপোর্টে ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করতে একটা NVR (No Visa Required) সিল লাগে, যেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে আমি যখন সেই ‘এনভিআর’ সিলের জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন।
তার কাছে আমার ফাইল গেলে তিনি রসিকতা করে আমাকে বলেছিলেন, সেই ফাইলে তিনি একবার দস্তখত করে দিলে আমি আর কখনো বাংলাদেশের মন্ত্রী হতে পারব না। আমি জবাবে ‘আমার দেশ’ যে আমার কর্মজীবনের শেষ ইনিংস, সেটা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। পাঠকরা তাহলে বুঝতেই পারছেন যে আমার তুরস্কের দ্বৈত নাগরিকত্বের কথা সব পরিচিতজন জানেন, মিডিয়ার লোকজন জানেন, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের লোকজন জানেন, পুলিশ ও মিলিটারির গোয়েন্দারা জানেন এবং সরকারের প্রায় সব সংস্থা জানে।
বিএনপির সাইবার সেলের কিছু সদস্যের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলার চেষ্টার বাস্তব নিট ফল একেবারেই বিশাল এক শূন্য। সবার জানা ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির ‘মধুলোভী’ নতুন বন্ধুরা প্রকৃতপক্ষে দলের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী অনেক শীর্ষ ও মধ্যমপর্যায়ের নেতাদেরই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছেন। তাদের কারো নাম বলে দিয়ে আমি নির্বাচনের আগে বিপদে ফেলতে চাচ্ছি না। অবশ্য এই নেতারা কেউ তুরস্কের মতো দরিদ্র, মুসলমান দেশের নাগরিক নন। তাদের সবার নজর পশ্চিমে। শুধু বলি, কাচের ঘরে বাস করে অন্যের বাড়িতে ঢিল ছুড়বেন না। এবার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে একটা পুরোনো মজাদার গল্প বলি।
যতদূর মনে পড়ছে, সময়টা ২০১০ সালের প্রথম দিকের। আমি তখন আওয়ামী বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জেলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। সে সময় খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য হাইকোর্টের এক বেঞ্চে মামলা চলছে। বেঞ্চের সিনিয়রের হাবভাব দেখে বিএনপির আইনজীবীরা বুঝতে পারছিলেন যে ম্যাডাম সেখানে ন্যায়বিচার পাবেন না। তারা সেই বেঞ্চ থেকে মামলা সরানোর চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না।
একদিন বিএনপি নেত্রী এবং সম্ভবত তখন সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া সেই সিনিয়র বিচারপতির যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নিয়ে আমার কাছে এসে হাজির হলেন। ম্যাডাম নাকি তাকে বলেছেন, মাহমুদ ছাড়া আর কেউ এ খবর প্রকাশের সাহস করবে না। এমনকি দিনকালও না। তাছাড়া আমার দেশ এবং দিনকালের পার্থক্য ম্যাডাম বুঝতেন। আমি কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়ে অলিউল্লাহ নোমানকে বললাম সংশ্লিষ্ট বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে অবিলম্বে নিউজ তৈরি করতে।
কয়েক দিনের মধ্যে আমার দেশ ব্যানার হেডলাইনে সেই বিচারপতির দ্বৈত নাগরিকত্বের খবর ছেপেছিল। এরপর বিএনপির আইনজীবীদের মামলা সরিয়ে অন্য বেঞ্চে নিতে আর কোনো সমস্যা হয়নি। এ ঘটনার অল্প কদিনের মধ্যেই আমার প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে নির্যাতিত হওয়ার খবরে সেই বিচারপতির স্ত্রী আমার পরিচিত একজনকে বলেছিলেন যে আমি উপযুক্ত সাজা পেয়েছি। তার সন্তুষ্টির যুক্তিসংগত কারণ ছিল। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে, আমি সেই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ছাপানোর জন্য কোনো দিন অনুশোচনা বোধ করিনি। Truth is always my defence. তারেক রহমান নিশ্চয়ই এ ঘটনার কিছুই জানেন না। আমি অন্তত তাকে কখনো বলিনি। আশরাফী পাপিয়া দলের চেয়ারম্যানকে বলেছেন কি না আমার জানা নেই।
গত রোববার বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমার এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাইবার সেল আমাকে অশালীন ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ না করলে এ ঘটনা আমি প্রকাশও করতাম না। বিএনপির নতুন বন্ধুরা ম্যাডামের গত পঁচিশ বছরের অকুতোভয় সংগ্রামের ইতিহাস প্রায় কিছুই জানেন না। এদের রাশ টেনে না ধরলে শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। এই গোষ্ঠীর বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড আমলে নেওয়া বা না নেওয়া অবশ্যই দলের নীতিনির্ধারকদের এখতিয়ার। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমার দেশ-এ প্রকাশিত সব খবর বিএনপি এবং দলের নেতাদের কতটা উপকারে লেগেছে, সেই কাহিনি বর্ণনা করতে হলে আগামী অন্তত এক বছর প্রতি বুধবার আমাকে ওই একটি বিষয়েই লিখে যেতে হবে। তখন বুঝবেন কৃতজ্ঞতার পাল্লা কোনদিকে বেশি ভারী হওয়া উচিত। আর সামান্য কিছু কথা বলে আজকের দীর্ঘ লেখা শেষ করব।
প্রথম কথা হলো, আমি যেহেতু সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছি না, এমনকি বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছা পোষণ করিনি, তাই দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা করার আমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নাগরিক হিসেবে এটা সম্পূর্ণভাবেই আমার এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার বিষয়। তবে যেহেতু আমার তুর্কি নাগরিকত্বপ্রাপ্তির ঘটনা সেই ২০২০ সাল থেকেই সর্বজনবিদিত, তাই এ বিষয়ে কিছু অতিরিক্ত তথ্য আজকের লেখায় পাঠকদের জন্য সংযুক্ত করলাম। দ্বিতীয় কথা, আমি যদি তুর্কি নাগরিক না হয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হতাম, তাহলে কি বিএনপি সাইবার সেল এত উৎসাহ দেখাতো? আমার ধারণা দেখাতো না। কারণ যতদূর জানি সাইবার সেলের লোকজনই তো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশে নানা প্রক্রিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তুরস্ক সম্পর্কে এদের মধ্যে একধরনের বিদ্বেষ আছে বলেই আমার সে দেশের নাগরিক হওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে ট্রলের বিষয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
বিষয়টা কি অনেকটা এ রকম যে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হওয়া খুব গর্বের বিষয়, কিন্তু তুরস্কের মতো কোনো মুসলমান দেশের নাগরিক হলেই ইজ্জত যায়? এর অর্থ হলো, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার দল এখন ইসলামবিদ্বেষীদের বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
পাঠকরা সম্ভবত অবগত আছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় হুমকি, বিশাল প্রতিবেশী ভারত যেসব দেশকে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে দেখে, তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ মুসলমানের দেশ তুরস্ক অন্যতম। যারা ভারতীয় মিডিয়ার খোঁজখবর রাখেন, তাদের জানার কথা যে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় মিডিয়ার বয়ানের সঙ্গে বিএনপি সাইবার সেলের আদর্শিক মিল দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী নাগরিক খানিকটা দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন।
সর্বশেষ কথা, বিএনপির উচিত পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ বাদ দিয়ে নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করা। দিকে দিকে শত্রু পয়দা করে তাদের কী উপকার হচ্ছে, সেটা তারাই ভালো জানেন। পরপর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মসমালোচনা করে দলের সামনের দিকে তাকানোটাই বোধহয় শ্রেয়। আমি বিএনপি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে শুধু মিডিয়ার বিষয়ে অতিসংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লব কিংবা বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো ধরনের মন্তব্য ছিল না। যে চারজন মজলুমের নাম আমি উল্লেখ করেছিলাম, তারা সবাই মিডিয়াব্যক্তিত্ব।
তারেক রহমানের ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনকালে আমি বাংলাদেশের মিডিয়ার অবক্ষয় নিয়েই শুধু কথা বলতে চেয়েছিলাম। অথচ যে অসহিষ্ণুতার সঙ্গে বিএনপির মিডিয়া সেল আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে ক্ষমতায় না যেতেই তারেক রহমান সব পরামর্শ ও আলোচনার ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন। অথচ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব সবাইকে মন খুলে কথা বলতে বলেছিলেন। যুগে যুগে চাটুকাররা এভাবেই ফ্যাসিবাদ তৈরি করে।
আমার কোনো লেখা কিংবা বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবে কোনো ধরনের অবদান আছে, এমন দাবি কখনো করিনি। অথচ সাইবার সেল সেই অনর্থক প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান যে বিপ্লবের প্রধান নেতা, সেটাই প্রমাণ করতে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজনীতির একেবারে শীর্ষ অবস্থান থেকে টেনে নামিয়ে আমার মতো এক অকিঞ্চিৎকর নাগরিকের সঙ্গে তুলনা শুরু করে দিয়েছেন। মূর্খতারও একটা সীমা থাকে! আরে ভাই, কে বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড সেই প্রতিযোগিতা তো হবে নাহিদ-মাহফুজদের সঙ্গে আপনাদের। আমার মতো এক বুড়োকে এর সঙ্গে জড়াচ্ছেন কেন? তাদের ব্যক্তিগত আক্রমণের ভাষা থেকে মনে হচ্ছে বিএনপির পুরো সাইবার সেল আওয়ামী ও বাম শাহবাগিরা দখল করে নিয়েছে।
যাই হোক, আগামী নির্বাচনে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তাদের সর্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যদিও দেশে ফিরেই তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, ‘I have a Plan’, তবে বাস্তবতার নিরিখে সেই পরিকল্পনারও খানিকটা ঘষামাজা লাগতে পারে। আমার কোনো পরামর্শের প্রয়োজন না থাকলেও শুধু এটুকু বলব, ঘড়ির কাঁটা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

