
মাহমুদুর রহমান Daily Amar Desh-এর সম্পাদক। তিনি জাতীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ে সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষণমূলক লেখা লিখে থাকেন। এই পেজে তার প্রকাশিত সব সংবাদ ও লেখা এক জায়গায় পাওয়া যাবে।

শতাধিক ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিক সম্ভাব্য আইনপ্রণেতাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গত সপ্তাহে পরপর কদিনের নাটক শেষে দু-একজন নিতান্তই হতভাগ্য ছাড়া সবারই মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

সেই ১৯৪৭ সাল থেকে প্রায় আট দশক ভারত দক্ষিণ এশিয়ার প্রভু বনে যাওয়ার অব্যাহত চেষ্টা করেও তেমন একটা সাফল্য লাভ করতে পারেনি। ২০১৪ সালের পর এক যুগ কট্টর হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি একচ্ছত্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে ঘরের পাশে প্রভুত্ব কায়েমে ব্যর্থ হলেও নিজে বিশ্বগুরু হওয়ার হাস্যকর এক দাবি করে বসেছেন।

২০১৯ সালের কথা। আমি তখন মালয়েশিয়ায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি কোর্সের শিক্ষার্থী। কুয়ালালামপুরে তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির সঙ্গে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মাধ্যমে আমার পরিচয় হয়। যারা তুরস্কের খোঁজখবর রাখেন, তাদের কাছে মের্ভে কাভাকুচি এক অত্যন্ত সম্মানিত নাম।

আজকের লেখাটি দীর্ঘ হবে আগাম জানিয়ে পাঠকদের কাছেও আগাম ক্ষমা চেয়ে রাখছি। ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ রাত ৯টায় সিঙ্গাপুর থেকে টেলিফোনে ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছিলেন ওর বড় ভাই ওমর বিন হাদি।

বাংলাদেশের শেষ জননন্দিত নেতা আজ আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৯৯ সালে। শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে তিনি তখন বিরোধী দলের নেত্রী আর আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং ডিরেক্টরের চাকরি করার ফাঁকে বিএনপি-সমর

সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তার ওপর আমাদের মতো প্রবীণত্বে পৌঁছালে মনে হয় সময়ের গতি যেন অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিটি জন্মদিনে মনের ভেতরে আনন্দের পরিবর্তে যেন বিষাদের সুর বেজে ওঠে। ব্যাপারটা অনেকটা পাহাড়ে ওঠানামার মতো।

হাদির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ভার্চুয়াল জগতে। আমি তখন তুরস্কে নির্বাসিত। মালয়েশিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় বেলাল এবং আরিফ নামের দুই প্রতিভাবান, দেশপ্রেমিক তরুণের সঙ্গে খুব সখ্য হয়েছিল।

ওসমান হাদির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ভার্চুয়াল জগতে। আমি তখন তুরস্কে নির্বাসিত। মালয়েশিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় বেলাল এবং আরিফ নামের দুই প্রতিভাবান, দেশপ্রেমিক তরুণের সঙ্গে খুব সখ্য হয়েছিল।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের ব্যর্থ ও অত্যাচারী একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থার রক্তাক্ত পতনের পর জেনারেল জিয়া প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশে নবগঠিত বিএনপি এবং পুনর্জন্মপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সমন্বয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অনুরূপ একটি দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সিস্টেম গড়ে উঠেছিল।

অনেক ইংরেজি শব্দের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ বলা কঠিন। আমি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বর্ণনায় ইংরেজি ক্যারিশম্যাটিক (Charismatic) শব্দটি বলতে চেয়েছিলাম। ইংরেজি থেকে বাংলা অভিধানে দেখলাম সেই শব্দের সঠিক প্রতিশব্দে বলা হয়েছে, সম্মোহনী শক্তিসম্পন্ন।

নির্বাসন থেকে কনক সারওয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে বেশ কয়েকবার বলেছিলাম, হাসিনার দৈহিক মৃত্যু নয়, বরং এই দানব শাসকের রাজনৈতিক মৃত্যু দেখার খুবই আকাঙ্ক্ষা আমার। ২০২৪ সালে আগস্টের ৫ তারিখে বিপ্লবের চূড়ান্ত সময়ে গণভবন ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘণ্টা নিজেই বাজিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন

আমাদের জুলাই জেনারেশনের এক প্রিয় অভিব্যক্তি ‘নয়া বন্দোবস্ত’। তারা প্রায়ই বলে, রাজনীতিতে নয়া বন্দোবস্ত আনাই ওদের লক্ষ্য। অবশ্য এই কথাটির মাধ্যমে ওরা ঠিক কী বোঝাতে চায়, সেটা আমার কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। আমি আজকের লেখার শিরোনামে নয়া বন্দোবস্ত বলতে মূলত আমাদের সার্বভৌমত্বের পাহারাদার, প্রিয় সামরিক বাহিনী

আমেরিকায় রীতিমতো রাজনৈতিক ভূমিকম্প সৃষ্টি করে জোহরান মামদানি যে কদিন আগে নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, সেটি সব পাঠকই জানেন। কিন্তু তার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার, রাজনীতিতে প্রবেশ, ইত্যাদি সম্পর্কে সবার হয়তো পুরো ধারণা নাও থাকতে পারে। আমি তাই অতি সংক্ষেপে সেই তথ্যগুলো দিয়ে তারপর আজকের আসল আলোচনায়

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আমি বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম। তখন শেরে বাংলা হলের উত্তর ব্লকের ৩১০ নম্বর ঘরে আমার তিন বছরের আবাস। মনে পড়ছে ৬ নভেম্বর রাতে আমাদের ঘুমানো সম্ভব হয়নি। মধ্যরাত থেকেই ঢাকা সেনানিবাসের দিক থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ পাচ্ছিলাম।

প্রফেসর ইউনূসের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র সাড়ে তিন মাস বাকি আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সপ্তাহ দুয়েক আগে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রায়ই তার পরম বন্ধু বলে বেশ গৌরবের সঙ্গে প্রচার করে থাকেন। ভিন্ন দেশের এ দুই রাজনীতিবিদের প্রগাঢ় বন্ধুত্বের মূল সূত্র হলো মুসলমানদের প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা। বর্তমান বিশ্বে ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত শীর্ষ দুটি

আশা করি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়াজ মাহফিলের ইসলামি বক্তারা এখন থেকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হবেন। আলেমরা অন্তত চটকদার কথা বলে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, অথবা ‘ভিউ’ বাড়ানোর ব্যবসার পেছনে দৌড়াবেন না।

বাংলাদেশের বিশেষ ভাবাদর্শের মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি, বুদ্ধিজীবী এবং সংবাদমাধ্যমকে প্রগতিশীলতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার দ্বৈতে (Binary) বিভক্ত রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভূমিকা রেখে চলেছে।

ভারতের সমর্থনে পনেরো বছর একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকতে পারলেও আজ পরিবারসহ শেখ হাসিনা এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের পালিয়ে, মর্যাদাহীন জীবন কাটাতে হচ্ছে। ভারতের পরবর্তী সরকার এই খুনি, লুটেরাদের প্রতি সহানুভূতিশীল নাও থাকতে পারে। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই এদের এখন বেঁচে থাকা। অতএব, ভবিষ্যতের শাসককুল সময় থাকতে স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের নামে কতগুলো অকার্যকর খেলনা গছিয়ে দিয়ে বিনিময়ে আরবদের কাছ থেকে নেওয়া পেট্রোডলার দিয়েই ইসরাইলকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল একাধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের সুশীলরা সব হাহাকার করে সমস্বরে বলছেন, ‘বাংলাদেশ গেছে, এই পোড়া দেশে আর থাকা যাবে না।’ এটা তাদের কল্পনারও অতীত ছিল যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ভিপি এবং জিএসসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিততে পারে।

প্রতি বছর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বেশ ঘটা করে ওয়াশিংটনে বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। শেখ হাসিনার দেড় দশকের দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট আমলে আমি নিজেও আগ্রহভরে রিপোর্টটি প্রকাশের অপেক্ষায় থাকতাম, যাতে তৎকালীন বাংলাদেশের ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ওইসব নথি

এই উপমহাদেশে আর্যদের আগমনের সঙ্গেই ‘ভারত’ নামটি সম্পর্কিত। ব্রাহ্মণদের ধর্মগ্রন্থ ঋগ্বেদে এই ‘ভারত’ শব্দটি বহু শ্লোকে ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দু পুরাণে ‘ভারত’ বলতে ক্ষেত্রবিশেষে বাইরে থেকে এই উপমহাদেশে আগত আর্যগোষ্ঠী ও কাল্পনিক প্রাচীন প্রতাপশালী কোনো একজন আর্য রাজাকেও বোঝানো হয়েছে।

আমাদের নেতারা মুখে যতই মিডিয়ার স্বাধীনতার কথা বলুন না কেন, তারা সবসময়ই দলদাস-জাতীয় জীবদের পছন্দ করেন। কোনো পত্রিকা তাদের ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থের বাইরে কিছু প্রকাশ করলেই সেই পত্রিকাকে তারা কালবিলম্ব না করে বিরোধীদলীয় ট্যাগ দিয়ে থাকেন।

আমি কোনো সাহিত্যবোদ্ধা নই। তবে বাল্যকাল থেকে প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও বাংলা সাহিত্য পড়তে শুরু করেছিলাম সেই বাল্যেই। ষাটের দশকে সব শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারেই বাংলা কবিতা, গল্প, উপন্যাস প্রভৃতি পড়া স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। আমাদের পুরোনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাসাও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, বাকশালের পতন এবং চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা-সংবলিত আশির দশকের বইটি বাংলাদেশে বহুল পঠিত। মাসকারেনহাস তার বইতে লিখেছেন, পাকিস্তান আমলের বিরূপ অভিজ্ঞতার ফলে শেখ মুজিব বাংলাদেশে কোনো শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করতে চাননি।

ড. ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে সব আশঙ্কা মিটে গেছে এবং সেই সময় পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় আর কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

২০১০ সালের প্রথম দিকের কথা। এক বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেলাম, শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের সম্পূর্ণ বৈধভাবে প্রাপ্ত বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আইনি ফাঁকফোকর খোঁজার জন্য তার পদলেহনকারী বিচারক, যেমন খায়রুল হক, এসকে সিনহা প্রমুখ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে

ইসরাইলি বোমার আঘাতে আহত মৃত্যুপথযাত্রী গাজার শিশুদের যন্ত্রণার কাহিনি লিখতে বসে দুদিন আগে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনার শিকার আগুনে দগ্ধ বাংলাদেশি শিশুদের যন্ত্রণাকাতর চিৎকার যেন শুনতে পাচ্ছি।

গত সপ্তাহের মন্তব্য প্রতিবেদনের একটি ভুল সংশোধন করে আজকের লেখা শুরু করব। আমার লেখায় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সম্পর্কে আমি একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলাম।

আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেই সময় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এবং বিচারপতি আবদুর রউফ। দুজনার কেউই আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে তাদের অবদানের কথা স্বীকার করে।

গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের লড়াকু তরুণ ছাত্র-জনতার মহান বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার দিল্লিতে পলায়নকালে আমি তুরস্কে নির্বাসনে ছিলাম। সে সময় আমার সর্বশেষ বইটির (The Rise and Challenges of Indian Hegemon in South Asia, Ananya Publisher) কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দেশে ফিরতে খানিকটা বিলম্ব

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র জামানা শুরু হয়েছে। এই শতাব্দীতে চীনের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উত্থান ঘটলে মনে করা হচ্ছিল, আমরা আবার বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থার দিকে যাত্রা শুরু করেছি।

জনগণের নামে ছোট ও বড় সব রাজনৈতিক দল যার যার স্বার্থ উদ্ধারে সবসময় টানাটানি করলেও বাস্তবে বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের মতো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত জনমত জানার আর কি কোনো বিশ্বাসযোগ্য উপায় আছে? আমাদের দেশে বিজ্ঞানসম্মত জনমত জরিপের কোনো উদাহরণ নেই।

সদ্য শেষ হওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার পরিপ্রেক্ষিতে এবারের মন্তব্য প্রতিবেদনে বর্তমান বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের হাল-হকিকত, বিবেক, ঈমান, সাহস, স্বার্থপরতা প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করব।

১৯৯১ সালের কথা। জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতি উন্মুখ হয়ে আছে। আওয়ামী শিবিরে নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই বিজয়ের উল্লাস চলছে। এমনকি মন্ত্রিসভা পর্যন্ত গঠন করা হয়ে গেছে।

দিল্লির কূটচালকে পরাভূত করে আর একটি প্রতিবিপ্লবী পদক্ষেপ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কয়েক দিনে প্রতিহত করতে পেরেছে। শেখ হাসিনা পলায়নের পর থেকেই দিল্লি অব্যাহতভাবে এই অপচেষ্টা করে চলেছে।

বাংলাদেশের বর্ষা বিপ্লব ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক জাতীয় ঐক্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। সহস্রাধিক তরুণ ছাত্র-জনতার শাহাদতের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় হেজেমনির মিলিত জোয়াল থেকে স্বদেশভূমিকে মুক্ত করতে পেরেছিলাম। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত

জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব ও জীবন দিয়েছে এ দেশের তরুণ ছাত্র-জনতা, যাদের গড় বয়স তিরিশের নিচে। ১১ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক বন্ধ রাখার পর গত বছর ২২ ডিসেম্বর আমার দেশ পুনঃপ্রকাশিত হলে বিস্ময়করভাবে প্রধানত সেই বিপ্লবী তরুণ প্রজন্মই পত্রিকাটিকে আপন করে নিয়েছে।

গাজায় জায়নিস্ট ইসরাইলের বর্বর সেনাবাহিনীর চলমান গণহত্যা নিয়ে গত সপ্তাহে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছিলাম। তখন জানতাম না, বিশ্বশান্তির জন্য ক্রমেই হুমকি হয়ে ওঠা আরেকটি দেশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে এক ভয়ংকর পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কার দিকে ঠেলে দিতে যাচ্ছে।

ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের অধিকারী গ্যারি লিনেকার নিশ্চয়ই বেশ ওপরের দিকেই থাকবেন। তিনি ২৫ বছর ধরে বিবিসির একটি ফুটবলবিষয়ক খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের হোস্ট ছিলেন।

একজন ফ্যাসিস্ট শাসক ও তার হেজেমনিক প্রভুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নিরস্ত্র তরুণ ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় বিপ্লবের ফসল আজকের ড. ইউনূস সরকার। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিন, ওয়াসিম, নাফিজ ও আনাসের মতো সহস্রাধিক তরুণের জীবনের বিনিময়ে আমরা দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হয়েছি।

এবারের পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন ফ্যাসিবাদী আমলের চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির গণ্ডি থেকে বের হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২০১১-২০২০ একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্র অনুযায়ী সামরিক বাহিনীকে কবজা করার যে প্রক্রিয়া দিল্লির সহায়তাক্রমে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে বিডিআর ম্যাসাকারের পর শুরু করেছিলেন, সেটি এই দশকে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই অনভিপ্রেত বিতর্ককে কেন্দ্র করে পতিত ফ্যাসিবাদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ মিলিতভাবে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জনগণের দূরত্ব বাড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টিরও অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মাসখানেক আগে আমার লেখা একটি মন্তব্য-প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ভারত সম্ভবত শোধরাবে না’। ভারত সরকারের প্রশ্রয়ে দিল্লিতে পালিয়ে থেকে শেখ হাসিনার দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং ভারতীয় মিডিয়ার তীব্র বাংলাদেশ ও ইসলামবিদ্বেষ প্রসঙ্গে আমার ওই মন্তব্য-প্রতিবেদনটি লিখেছিলাম।

বর্তমানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রায় ৩১ শতাংশ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর বিপরীতে মুসলমান জনগোষ্ঠী প্রায় ২৫ শতাংশ।

আমি মনে করি, শেখ হাসিনা ও তার খুনি, লুটেরা ও মাফিয়া সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কার না করে এবং দলটির অভ্যন্তরীণ সংস্কার ব্যতীত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হলে মহান জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিকে অবমাননা করা হবে

তুরস্কে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় আমার লেখালেখি ও বক্তব্যে একাধিকবার মন্তব্য করেছিলাম, ‘শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যুর আগে প্রাকৃতিক নিয়মে তার পৃথিবী থেকে বিদায় হোক- সেটি আমার কাম্য নয়।’ এ কথাটির একটি প্রেক্ষাপট ছিল।

জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শেষ পর্যন্ত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। এই দল গঠন নিয়ে নানারকম বিতর্ক বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। সেই বিতর্কগুলোর মধ্যে প্রধানটি ছিল কিংস পার্টি-বিষয়ক।