অবৈধ দখলে বেহাত বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক-২) প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা জমি। মহাসড়ক সম্প্রসারণে ২০৪.৫০ একর জমির জন্য প্রায় ১,৯১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও এর বড় একটি অংশ এখনো দখলদারদের কবলে। সরকারি জমিতে দোকানপাট, বহুতল ভবন, ফলের বাজারসহ নানা বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলে চলছে রমরমা ভাড়াবাণিজ্য। এতে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন যানজট ও দুর্ঘটনা ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, যানজট কমানো এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে বগুড়ার বনানী থেকে শেরপুরের মির্জাপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই জমির বড় অংশ এখনো দখলমুক্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি জায়গা দখল করে কোথাও দোকানপাট, কোথাও বহুতল ভবন, আবার কোথাও ফলের বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করে আসছে প্রভাবশালী একটি চক্র।
এদিকে পুরো এলাকায় দখলের চিত্র থাকলেও শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেখানে দোকানের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে গেটলক সার্ভিস ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমিতে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিতে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। পরে প্রতি মাসে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সরকারি জমি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার হলেও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে সংবাদকর্মীরাও দখলদারদের রোষানলে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া অংশে মোট ২০৪.৫০ একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,৯১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। কিন্তু বিপুল এই অর্থ ব্যয়ের পরও মহাসড়ক সম্প্রসারণের পূর্ণ সুফল মিলছে না। দখলের কারণে অনেক স্থানে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং সম্প্রসারণকাজও আটকে আছে।
বিশেষ করে শাজাহানপুরের নয়মাইল ও বনানী এলাকায় ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। ফলে ছয় লেনের পরিকল্পনা থাকলেও অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল করছে মাত্র এক লেন দিয়ে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৯ সালে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এতদিন ধরে কার্যকর উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো যায়নি। ফলে কাগজ-কলমে জমি অধিগ্রহণ হলেও বাস্তবে সাসেক কর্তৃপক্ষ অনেক জায়গার দখল বুঝে পায়নি।
তবে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সম্প্রতি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক জানান, ইতোমধ্যে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ৫১ অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন জানান, মহাসড়কের অধিগ্রহণকৃত জমি দখলমুক্ত করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

