সগৌরবে ফিরল ৭ নভেম্বর

সগৌরবে ফিরল ৭ নভেম্বর

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় দুই দশক পর পালিত হলো ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ইতিহাসের মিথ্যাচার আর অন্ধকারের বেড়াজাল ছিন্ন করে জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিবসটি ফিরে এসেছে সগৌরবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর দীর্ঘ দুঃশাসনে দিবসটি পালন ছিল কার্যত নিষিদ্ধ। উল্টো এই দিনে গণমাধ্যমে চর্চা হতো বিকৃত ইতিহাস। বাধ্য করা হতো ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের বরপুত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়াতে। সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে এবার দিবসটি পেয়েছে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত থাকার পর এবার দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে সবশেষ ২০০৬ সালে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়েছিল। ২০০৭ সালে সরকারি ছুটি থাকলেও তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকার দিবসটি পালন করেনি। একই বছরের নভেম্বরে দিবসটির সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বন্ধ থাকে।

এর আগে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দিবসটিতে সরকারি ছুটি ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছুটিটি বাতিল করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার ছুটি বহাল করা হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিবসটির রাষ্ট্রীয় আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় দিবসটিকে কালো দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করতে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দলীয়ভাবে দিবসটি পালন করতে গেলেও পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হতো। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করে।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি জাতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের দিনটিতে দেশপ্রেমিক জনগণ নতুন করে অঙ্গীকার করে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি যেকোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সব জায়গায়।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা ঐতিহাসিক এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনা মূলত জাতীয় ঐক্যের চেতনা, যেখানে জাতি ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়। দীর্ঘ সময় পর দিবসটি তার স্বকীয় মহিমা ও পূর্ণাঙ্গ মর্যাদায় ফিরে আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কণ্ঠেও উচ্চারিত হয়েছে ঐক্যের আহ্বান। আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা ও জাতীয় সংহতির নতুন এক প্রেরণা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন সুর বেজেছে জাতীয় নেতাদের কণ্ঠেও।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত থাকার পর বিএনপি সরকারের উদ্যোগে এবারই প্রথম দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। দিবসটি ঘিরে সরকারি আয়োজনের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতেও কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

তারেক রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ওই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একই ভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও তরুণ প্রজন্ম

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরো সুদৃঢ় করেছিল।

জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।

স্বাধীনতার অর্জনকে অর্থবহ করে তুলতে প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা। এ জন্য তাদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীতে আয়োজিত সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা সোয়া ৩টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে ৫.৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছান।

শোভাযাত্রায় কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বেলা ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

শোভাযাত্রার পুরো পথ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। উঁচু ভবনের ছাদ ও বারান্দা থেকেও অনেকে শোভাযাত্রা দেখেন। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। উদ্বোধনী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

৭ নভেম্বরের মতো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে যেখান থেকেই ষড়যন্ত্র আসুক, গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক্‌স্বাধীনতার দিন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনেনি, দেশের মানুষ স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও একইভাবে দেশের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালে অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

বিএনপি সরকারের আট মাসের মাথায় দিবসটি উপলক্ষে রাজপথে এটিই ছিল দলটির অন্যতম বড় সমাবেশ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে দলটি।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচির শুরুতে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ প্রদর্শনী

পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ প্রদর্শনীতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩,০০০ ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মাঠ ঘুরে গ্যালারিতে বসে থাকা শিক্ষার্থী ও অতিথিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমসহ তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন