উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলের লঘুচাপটি মৌসুমী নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা— এই চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি প্রথমে ঘণীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে এবং পরবর্তীতে আরো ঘনীভূত হয়ে মৌসুমী নিম্নচাপ আকারে রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি ভাবে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ায় এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বর্ষাকাল হিসেবে সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতে বৃষ্টি হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার সারাদেশে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক ছিল; রাজধানীতে বৃষ্টি না হলেও সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয় কক্সবাজারের টেকনাফে ৪৯ মিলিমিটার। বৃষ্টি কমায় তাপমাত্রা বেড়েছে; মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়, এ দিন রাজধানীতে ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত তিনদিনে বৃষ্টিপাত কমায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইলেও সুরমা-কুশিয়ারার পানি কমছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যান্য নদীর পানিও কমতির দিকে রয়েছে।
বাপাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান বলেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


