এসব ভিসি লইয়া আমরা কী করিব

এসব ভিসি লইয়া আমরা কী করিব
চুয়েটের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ নিয়ে মাসখানেক ধরে চলছে এক নাটক। সরকার-নিযুক্ত এই ভাইস চ্যান্সেলরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কেউ চাইছেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকার যাকে অপসারণ করেছে, তাকেই যেন আবার নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের ভিসিকেও বর্তমান সরকার নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৫৭ দিনের মাথায় ক্ষমতাসীনদের অন্তঃকোন্দলে তাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

চুয়েটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি, নতুন নিয়োগ পাওয়া ভিসির ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। কিন্তু নবনিযুক্ত ভিসি তার পদে যোগদানে অনড়। তার যোগদান ঠেকাতে শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নবনিযুক্ত ভিসি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং চেয়ারে বসে পড়েন। এরপর শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় ভিসি দাবি করেন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে ভিসি আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসবেন না। এই শর্তে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু না, শেখ শহীদ পণ করেছেন, ভিসির দায়িত্ব পালন করবেনই। হাসপাতাল থেকে তিনি চলে যান সার্কিট হাউসে। সেখানে গিয়ে ভার্চুয়ালি সিন্ডিকেট সভা ডাকেন। সেই সভায় সিন্ডিকেটের সদস্য শিক্ষক প্রতিনিধিদের কেউ যোগ দেননি। এর মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো, শিক্ষার্থীরা তো বটেই, শিক্ষকরাও তার নিয়োগের বিরুদ্ধে।

একজন ভিসির দায়িত্ব পালনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যদি একমত হন, তাহলে সেই

ভিসির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা যে অসম্ভব, এই সহজ সত্যটি তিনি কেন বুঝতে পারছেন না, তা এক অপার রহস্য! পদের মোহে আচ্ছন্ন ভিসি না হয় বিষয়টি বুঝতে পারছেন না, কিন্তু সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি) এ ব্যাপারে নীরব। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি কি এখনো এই নাটকীয়তার খবর দেখেননি? টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে প্রতিদিনই তো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর প্রচারিত হচ্ছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক হওয়া উচিত সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু সর্বোচ্চ প্রশাসনিক অভিভাবক নন, তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত বিকাশের জন্যও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন। ভাইস চ্যান্সেলরকে শিক্ষার্থীদের প্রতি একজন দরদি ও দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হয়। তার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া, নিরাপদ পরিবেশ এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

আমরা দেখছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ শিক্ষকরা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অংশীদার হয়ে উঠছেন। হাসিনা আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতেন, তখন শিক্ষকরা শুধু নীরবই ছিলেন না, গণআন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অভিযোগে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। শুধু দলীয় বিবেচনায় ভিসির পদ নেওয়ার কারণে তাকে নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। দলীয় আনুগত্য হয়ে উঠেছে নিয়োগের একমাত্র মানদণ্ড।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার ছিল। বিশেষ করে শিক্ষক ও ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে রাজনীতির চেয়ে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সে ধরনের কোনো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তবে স্বীকার করতে হবে, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংস ছাত্ররাজনীতি দেখা যাচ্ছে না। এটা সম্ভব হয়েছে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর ওপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাপের কারণে। তারা চব্বিশের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে মেধাচর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পরিচালনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের নীতি।

ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল মেধা। সেই মেধাকে উপেক্ষা করে ভিসি নিয়োগ দেওয়া ঠিক নয়। আরো বিচক্ষণতার সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা উচিত ছিল। ( আমার দেশ ১২ অক্টোবর ২০২৬ )

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে ভাইস চ্যান্সেলররা সাধারণত চার বছরের জন্য নিয়োগ পান। চ্যান্সেলর বা রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক বিবেচনা, তদবির ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে অনেকেই নির্ধারিত মেয়াদ পূরণের সুযোগ পাচ্ছেন না। ইচ্ছেমতো যখন-তখন ভিসি পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু যে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা নয়। আমরা এ ধরনের আরো অনেক ঘটনা দেখছি। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের সাত মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। যা প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ হয়ে উঠেছে প্রধান বিবেচ্য।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কয়েকটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের ভিসিদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ পদেও পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ নিয়ে সরকারের ভেতরে কী ধরনের অস্থিরতা চলছে, সাম্প্রতিক নিয়োগ ও প্রত্যাহারের ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট। গত ১৪ মে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের আত্মীয় হওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। এক ঘণ্টার মধ্যেই নিয়োগটি বাতিল করা হয়।

একই দিন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মাথায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে সাত মাসের মধ্যে তিনবার ভিসি পরিবর্তন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ভিসি হিসেবে বুয়েটের অধ্যাপক আবদুল হাছিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চার বছরের জন্য তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। কিন্তু নতুন সরকার ১৬ মার্চ তাকে অব্যাহতি দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়। তিনি ১ এপ্রিল দায়িত্ব নেন। ছয় মাসের মাথায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে সরিয়ে আবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়। একই দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন। দেড় বছরের মাথায় গত ১৬ মার্চ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান।

কিছুদিন পরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি এভাবে ভিসি নিয়োগ হতে থাকে, তাহলে একজন বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান নির্বাহী কীভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন? এভাবে ভিসির পদ পাওয়ার ফলে শিক্ষকদের অনেকে একাডেমিক পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে পদের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন, এমন শিক্ষকদের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহীদুল ইসলাম। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা দুনিয়ার আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে বলে মনে হয় না। শুধু তাই নয়, গুরুতর ডিমেনশিয়ায় ভোগা এক শিক্ষককে আরেকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, এমপি বা প্রভাবশালী দলীয় শিক্ষক সিন্ডিকেটের ইচ্ছা পূরণে এসব নিয়োগের ঘটনা ঘটছে।

প্রশ্ন হলো, ভিসি নিয়োগ নিয়ে যে তামাশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? হ্যাঁ, আছে। সেটি করতে হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কী কাজে ব্যবহার করতে চায়। যদি তারা মনে করে, শিক্ষিত বেকার তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য, যেখান থেকে প্রতিবছর দলীয় অনুগত নেতাকর্মী বেরিয়ে আসবে, তাহলে যে প্রক্রিয়া চলছে, তা ঠিকই আছে। আর যদি সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ জনবল তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, তাহলে প্রথমে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগে সরকারের একটি সার্চ কমিটি রয়েছে। সরকারের উচিত শিক্ষাবিদ ও সাবেক ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে এই সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করা। প্রয়োজনে বিশ্বের সেরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে সম্মানিত সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এই কমিটির কাছে ভিসি পদে আগ্রহীরা তাদের সিভি জমা দেবেন। এরপর কমিটি যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগের সুপারিশ করবে। তবে এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার আগে সরকার ও বিরোধী—নানা রঙের শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। কোনো শিক্ষক রাজনীতি করতে চাইলে তাকে ঘোষণা দিয়ে দলে যোগ দিয়ে তা করতে হবে। শিক্ষক রাজনীতির নামে দলবাজি বন্ধ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরবে না। ভিসি নিয়োগের নামে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিও বন্ধ হবে না।

লেখক: সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন