রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাতীয় সরকার ‘সময় ও সংকট’-এর প্রেক্ষিতে সিদ্ধ। সাধারণভাবে নির্বাচন-পরবর্তীকালে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তাদেরই সরকার গঠনের কথা। এমন যদি হয়, জাতীয় সংসদে কেউ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না, তখন সরকার গঠনে আগ্রহী দল তথা গোষ্ঠীকে জানান দিতে হয় যে, জাতীয় সংসদে বা পার্লামেন্টে তাদের সরকার গঠন করার মতো সমর্থন রয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানে হলো অন্যান্য দল ও গ্রুপের চেয়ে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকা। বেশি আসন লাভকারী দলটি যখন অন্যান্য দলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে, তখন তাকে কোয়ালিশন সরকার বলা হয়। উন্নত কিংবা অনুন্নত পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। বাংলাদেশেও এর উদাহরণ রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে তারা পায় ১৪০ আসন। সরকার গঠনে প্রয়োজন কমপক্ষে ১৫১টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ওই নির্বাচনে ১৮টি আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন লাভ করে। জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন লাভ করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন, তার কাছে এটা স্পষ্ট নয় যে, কারা জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের অধিকার রাখেন। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির ৩৫ এবং অন্যদের নিয়ে সরকার গঠনের ব্যর্থ চেষ্টা করে। অপরদিকে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর দ্ব্যর্থহীন ও শর্তহীন সমর্থন লাভ করে। এমনিতেই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সেন্টিমেন্ট প্রকাশিত হয় তা ছিল ‘অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ’। রাজনৈতিক আদর্শ ও জাতীয় স্বার্থের সমন্বিত রূপ দেখা যায় বিএনপি-জামায়াত কোয়ালিশনে। জামায়াত কোনো মন্ত্রিত্ব নেয়নি। তবে বিএনপি তাদের দুটো মহিলা আসন দিয়ে সৌজন্য প্রকাশ করে।
১৯৯৬ সালে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কূটকৌশলে আওয়ামী লীগ ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়। জামায়াতকে লক্ষ করে ওই সময়ে আওয়ামী লীগের বিবৃতিগুলো লক্ষ করলে এটি স্পষ্ট হবে। এই বিভাজনের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষ এককভাবে দায়ী নয়। উভয় পক্ষেরই ভুল-ত্রুটি রয়েছে। যাহোক, ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে উভয় দলের জোট আবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। এ সময়ে বিএনপি ১৯৩ আসন লাভ করে। জামায়াত ১৭টি আসন পায়। এবারে সরকার গঠনের জন্য বিএনপিকে জামায়াতের দ্বারস্থ হতে হয়নি। যেহেতু তারা জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে এবং যেহেতু বিএনপি নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্যের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে, তাই জামায়াতকে নিয়ে তারা সরকার গঠন করে। একজন সাংবাদিক তৎকালীন বিএনপির শীর্ষ নেতা বি চৌধুরীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, একজনকে সারা দিন খাটিয়ে মজুরি না দেওয়ার অনৈতিক কাজ হতো এটি। যাহোক, ২০০৬ সালের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী দুশমনরা ১/১১-কে অনিবার্য করে তোলে। বিএনপি ও জামায়াত শুধু ক্ষমতাচ্যুতই হয়নি, প্রকারান্তরে তারা নিকট ও দূরের ষড়যন্ত্রকারীদের রোষানলে পড়ে। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হয়। তারেক রহমানকে দেশচ্যুত করা হয়। অবশেষে জামায়াত নেতারা ফাঁসির সম্মুখীন হন। ১৭ বছর পর ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে বিএনপি, জামায়াত এবং সবার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
২০২৬ সালের নির্বাচন যখন ঘোষিত হয়, উভয় দলের সাধারণ শত্রু তখন পতনের পর পলায়ন করেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কার্যকারিতা হারিয়েছে। ফলে উভয় দল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতীতের বিপদের সময়ে তারা ছিল একে অপরের বন্ধু ও সম্পূরক। ২০ দলীয় জোটের আদলে তারা ছিল আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত সহযোদ্ধা। যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, ততই নাগরিক সাধারণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা, বিভেদ, হামলা এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও লক্ষ করছে। দলের শীর্ষ নেতাদের সর্বশেষ বাকযুদ্ধ এবং প্রবল প্রতিযোগিতার মাঝেও একটি সাধারণ সত্য এই যে, শীর্ষ উভয় নেতার ক্ষেত্রেই একটি অন্তর্নিহিত সমঝোতা বা ঐক্যের মনোভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমান জাতীয় সরকারের কথা বলছিলেন। আওয়ামী বিরোধী সব রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে নিয়ে তিনি নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছিলেন। ২০২৪ সালের চূড়ান্ত বিজয়ের পর আমার মনে হয়েছিল, বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব হারিয়েছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তারেক রহমান একজন দূরদর্শী রাজনীতিকের মতো বললেন, তার জাতীয় সরকার গঠনের ধারণা পরিত্যক্ত হয়নি। অবাক করার মতো কথা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশেও জাতীয় সরকারের সমার্থক ধারণা ব্যক্ত করলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমানকে শোক জানাতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গত বছর ৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনার কথা বলেন। তখন তিনি বলেন, ২০০ আসনে এককভাবে বিজয়ী হলেও দেশের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জামায়াত জাতীয় সরকারই গঠন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দেব না। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং দুর্নীতি রোধে আগামী পাঁচ বছর জাতীয় সরকার প্রয়োজন।’ পরে এ বছর ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ১১ দলীয় জোট দেশে একটা ঐক্যের সরকার গঠন করবে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হেরে গেলেও তাদের নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠন করা হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের বাংলাদেশ, যুবকদের বাংলাদেশ। পেছনের সব ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে ঐক্য সৃষ্টি করা। আমরা জাতিকে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছি।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ যদি ভোটে পরাজিত হয়, তারপরও আমরা তাদের নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠন করব।’
নির্বাচনি ফলাফল সম্পর্কে আমরা কেউই সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারব না। তবে গণমাধ্যম, বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত। কেউ কেউ তাদের ইতোমধ্যে ‘গভর্নমেন্ট ইন ওয়েটিং’ বা অপেক্ষমাণ সরকার বলছেন। তাছাড়া কূটনৈতিক শিষ্টাচারেও তার আভাস স্পষ্ট। প্রায় প্রতিটি আসনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করবে বলে পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন মোতাবেক নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদি ধরেও নেওয়া যায়, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে, তাহলেও আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখতে পেলাম দুই শীর্ষ নেতাই জাতির কাছে কমিটমেন্ট দিয়েছেন, তারা নির্বাচিত হলে জাতীয় সরকার গঠন করবেন। শেষ অবধি দুই নেতার দূরত্ব হয়তো কমে আসবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রাবীন্দ্রিক ভাষায়—‘রাজা যা বলে পারিষদ বলে তার শতগুণ।’ যখনই দুটি দল বা সব দল মিলে একটি জাতীয় সরকার হতে যাবে, তখন অতি ডান ও অতি বামের গাত্রদাহ লক্ষ করা যাবে। আমরা যে জাতীয় সরকারের কথা চিন্তা করছি, সেখানে জাতীয় সংসদে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। সকল মত ও সকল পথের মানুষদের নিয়ে জাতীয় স্বার্থে এই সরকার গঠিত হবে বলে আমাদের ধারণা। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অনিবার্য অংশ ‘বিরোধী দল’-এর কী হবে?
বিষয়টি বুঝতে হলে জাতীয় সরকার বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সরকার সম্পর্কে ইতিহাস থেকে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। জাতীয় সরকার বা জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের ধারণাটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন নয়। বিভিন্ন দেশ চরম সংকট, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই মডেলটি ব্যবহার করেছে।
১. যুক্তরাজ্যের ‘গ্রেট কোয়ালিশন’ (১৯৪০-১৯৪৫) : ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় সরকারের সবচেয়ে সফল এবং বিখ্যাত উদাহরণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের সরকার। নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সব প্রধান দলের (কনজারভেটিভ, লেবার ও লিবারেল) সমন্বয়ে এই সরকার গঠন করেন। দলীয় রাজনীতি স্থগিত রেখে সবাই যুদ্ধজয়ে মনোনিবেশ করেছিলেন। এটি প্রমাণ করেছিল যে, চরম জাতীয় সংকটে বিরোধী দলগুলোও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

২. দক্ষিণ আফ্রিকার ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (১৯৯৪-১৯৯৬) : এটি ছিল বর্ণবাদ-পরবর্তী এক অনন্য ঐতিহাসিক উদাহরণ। কয়েক দশকের বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর নেলসন ম্যান্ডেলা যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তিনি দেশটিতে গৃহযুদ্ধ এড়াতে এবং শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বিভেদ দূর করতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেন। এই সরকারে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ককে উপ-রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল। এর ফলে একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার রূপান্তর (Transition) সম্ভব হয়েছিল।
৩. ইসরাইলের জাতীয় জরুরি সরকার : ইসরাইলের ইতিহাসে বারবার জাতীয় ঐক্যের সরকার (National Unity Government) গঠিত হয়েছে। মূলত যুদ্ধ বা নিরাপত্তার সংকটে লিকুদ এবং লেবার পার্টির মতো ঘোর বিরোধী দলগুলোও একসঙ্গে সরকার গঠন করে। হামাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেও সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বিরোধী নেতাদের নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে।
৪. নেপালের রাজনৈতিক রূপান্তর (২০০৬-পরবর্তী) : রাজতন্ত্রের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শেষ করতে মাওবাদী বিদ্রোহী এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো মিলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠন করেছিল। এটি দেশটিকে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে উত্তরণে সহায়তা করেছিল।
ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, জাতীয় সরকার তখনই সফল হয়, যখন—১. একটি সাধারণ শত্রু বা সংকট (যেমন যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক ধস) সামনে থাকে। ২. দলগুলো নিজেদের মতাদর্শের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় করে দেখে। ৩. একটি সুনির্দিষ্ট টাইমফ্রেম বা লক্ষ্য (যেমন নতুন সংবিধান বা নির্বাচন) নির্ধারিত থাকে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই সরকার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সরকারের ভুলত্রুটি ধরার কেউ থাকে না এবং ছোট দলগুলো বড় দলের চাপে নিজেদের অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় ভোগে।
যেসব কারণে জাতীয় সরকার অনিবার্য হয়ে ওঠে, তার সব লক্ষণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। গোটা বাংলাদেশ একটি সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করছে। সেই সাধারণ শত্রুটি আবার অসাধারণ। আমাদের তিন দিকে এমনকি সাগর দক্ষিণেও তাদের আধিপত্যের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ঘরের শত্রু বিভীষণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা একটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আঁটছে। নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে তারা। সেই সরকারটি যদি একক হয়, তাহলে তাদের পক্ষে মোকাবিলা করা সহজ হয়। কিন্তু যদি একটি শক্ত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার তথা জাতীয় সরকার তাদের মোকাবিলা করে, তবে বাংলাদেশকে দাবানো অত সহজ হবে না। অভ্যন্তরীণ শত্রুটি নির্বাচনের পরপর ক্রমেই আরো শক্তিহীন ও রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক বোঝে, বড় ধরনের একটি অর্থনৈতিক ধসের মোকাবিলা করছি আমরা। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত ইমেজ ও রেমিট্যান্স গত কয়েক মাসে আমাদের অর্থনৈতিক কোরামিনের কাজ করেছে। যেকোনো নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে ক্ষমতাপ্রিয়তা। আবারও রাবীন্দ্রিক উচ্চারণে—‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই।’ সোনার হরিণের আশায় আমাদের নেতা-নেত্রীরা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠিত হন না। শতধাবিভক্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক কোন্দল, বিদ্বেষ ও শত্রুতা অস্বাভাবিক নয়।
সুতরাং একটি জাতীয় সরকার গঠিত হলে নিশ্ছিদ্র জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাতীয় সরকার কত সময়ের জন্য গঠিত হবে, জাতীয় সংসদ তা নির্ধারণ করবে। এটি হতে পারে দুই-তিন বছরের, অথবা পূর্ণ সংসদ মেয়াদের। আমরা পূর্ণ মেয়াদের জাতীয় সরকারের পক্ষে। এই সময়টায় জাতীয় সরকার নির্বিঘ্নে, নিরুপদ্রবে ও নিশ্চিন্তে সরকার পরিচালনা করতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করতে পারি, এই সরকারের চলার পথের মধ্য দিয়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা জাতীয় ঐকমত্য অর্জিত হবে; ভাবাদর্শের সংঘাত-আকীর্ণ এই দেশে জনগণের ঐক্য অর্জিত হবে।
লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক; সাবেক অধ্যাপক, সরকার রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক, যা বললেন ট্রাম্প
লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার
চট্টগ্রামে ১৯৬৫ কেন্দ্র প্রস্তুত, ভোট দেবেন ৬৬ লাখ মানুষ