চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফেরত গেছে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের আড়াই কোটি টাকা। বন্যায় বিধ্বস্ত সড়কের উন্নয়নে কাজ হয়নি। ফলে খানাখন্দে ভরা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই বেহাল সড়কে যাতায়াতে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা। অন্যদিকে নতুন বরাদ্দের সংকটে নাজুক হয়ে পড়া অনেক সড়কের সংস্কারও আটকে আছে। ফলে কোথাও ভাঙা পিচ, কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানি জমে রয়েছে সড়কে। এভাবেই দুর্ভোগে দিন কাটছে সীতাকুণ্ডের গ্রামীণ জনপদের মানুষের।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের হাবিব রোড, লবণাক্ষী রোড ও টেরিয়াল রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, নারী ও বয়স্করা। সীতাকুণ্ড উপজেলা এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ঠিকাদার কাজ না করায়, উপজেলার আটটি সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ফেরত গেছে। অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় একদিকে সরকারি অর্থ অব্যবহৃত থেকে গেছে। অন্যদিকে যেসব সড়কের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল সেগুলোর দুর্ভোগও কাটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সড়কগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি ও কাদা জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচলের সময় ভোগান্তি বাড়ে। রাতের বেলায় গর্ত ও ভাঙা অংশগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সীতাকুণ্ড দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একই সঙ্গে চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়িয়া ও মহামায়াকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাও ক্রমেই বাড়ছে। শিল্প ও পর্যটনের এমন সম্ভাবনাময় এলাকায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য উপজেলায় বরাদ্দ এলেও সীতাকুণ্ডে নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টিআর, কাবিটা ও কাবিখার একাধিকপর্যায়ের অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারসহ ছোট ছোট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও।
এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর আমার দেশকে বলেন, ২০২৫ সালে ঠিকাদার কাজ না করায় আটটি সড়কের উন্নয়ন হয়নি। এতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ফেরত গেছে। তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ঠিকাদাররা কাজ করতে অনীহা দেখান। নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও কাজ না করায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ বাতিল করা হয়েছে। এখন এসব কাজ নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


