ইতিহাস দর্পণে ‘ম’ রহস্য ও বর্তমানের অবক্ষয় : বাংলার ইতিহাস শুধু শুষ্ক তারিখের সমষ্টি নয়, বরং এটি এক পুনরাবৃত্তিমূলক বিশ্বাসঘাতকতার উপাখ্যান। তিন শতাব্দী ধরে এ দেশের মানচিত্রে এমন এক বিশেষ ধরনের নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে, যাদের আমরা ‘রাজনৈতিক জেনারেল’ বা উচ্চাভিলাষী সেনাপতি হিসেবে অভিহিত করতে পারি। এই চরিত্রগুলো পর্দার অন্তরালে থেকে বারবার জনগণের ইচ্ছা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক সমাপতনের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ধ্বংসাত্মক পাঁচজন বিশ্বাসঘাতকের নামের আদ্যাক্ষর শুরু হয়েছে বাংলা বর্ণ ‘ম’ দিয়ে। ১৭৫৭ সালের পলাশী থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ সালের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত এই ‘ম’-এর রহস্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সম্প্রতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বাসঘাতকতার সেই পুরোনো ছায়া এখনো আমাদের তাড়া করে ফিরছে।
আজকের এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে যখন আমরা দেখি সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, কেউ প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করছেন, আবার কেউ দুবাই বা বিদেশে বসে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য দরকষাকষি আর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মগ্ন—তখন প্রশ্ন জাগে : আমাদের সেই গর্বিত পেশাদারিত্ব আজ কোথায়? বর্তমানের এই দুর্বিষহ ও বিষাক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ হলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতির নির্যাস। সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে নেই বলেই আজ আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি। বর্তমানে নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক এবং লেখকদের পড়ার কোনো বিকল্প নেই, অথচ তাদের অনেকের মধ্যেই এই পড়াশোনার সংস্কৃতি আজ বিতাড়িত। অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের গভীর গবেষণালব্ধ লেখালেখির অভ্যাস নেই বলে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রকৃত পশ্চাৎপট এবং তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। খবরের কাগজে যা পাওয়া যায়, তা শুধু মূল ঘটনার পার্শ্বচিত্র মাত্র; এর অন্তরালে চাপা পড়ে থাকে বিচিত্র তাৎপর্যপূর্ণ অনেক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এই রহস্যময় ‘ম’-দের স্বরূপ উন্মোচন করা আজ সময়ের দাবি, যাতে ভিনদেশি শক্তির ‘দালাল’ বা এজেন্টরা আমাদের সার্বভৌমত্বকে আর ভূলুণ্ঠিত করতে না পারে।
মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও নেতৃত্বের শূন্যতা : ১৯৭১ সালে যখন জাতি দিশাহারা এবং একটি নেতৃত্বের প্রতীক্ষায় উন্মুখ ছিল, তখন কোনো রাজনীতিবিদ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সাহস করতে পারেননি। শারমিন আহমদের ‘তাজউদ্দীন আহমদ : নেতা ও পিতা’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে আত্মগোপন করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব সেই সংকটময় মুহূর্তে বাড়ি ছাড়তে বা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে রাজি হননি, বরং ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। পরে যখন পাকিস্তানি জান্তা নিরীহ বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে, তখন এই চরম নেতৃত্বহীনতার মুহূর্তে বাংলার গর্বিত সামরিক কর্মকর্তারাই নিজেদের জীবন বাজি রেখে এবং মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাত্র ২৫ জন সামরিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই প্রতিরোধ যুদ্ধই মূলত আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। রাজনীতিবিদরা পরে যুক্ত হয়েছিলেন; কিন্তু এই গৌরবোজ্জ্বল বাহিনীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সেই অকুতোভয় অফিসাররাই। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই গর্বিত বাহিনী থেকেই যুগে যুগে কিছু বিশ্বাসঘাতকের জন্ম হয়েছে, যাদের নামের আদ্যাক্ষর কাকতালীয়ভাবে বাংলা বর্ণ ‘ম’ দিয়ে শুরু।
প্রথম ‘ম’ : মীরজাফর আলী খান (বিশ্বাসঘাতকতার আদি উৎস)
বাংলার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার আদি উৎস মীরজাফর আলী খান। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি হিসেবে তিনি যা করেছিলেন, তা ছিল একটি জাতির ২০০ বছরের দাসত্বের দলিল। যুদ্ধের ময়দানে মীরজাফরের অধীনে ছিল বিশাল এক বাহিনী, যারা ইংরেজদের ক্ষুদ্র সেনাদলকে অনায়াসেই ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারত। কিন্তু চতুর মীরজাফর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ইতিহাসের ঘটনাবলির বিশ্লেষণ আমাদের দেখায়, মীরজাফররা পরাধীনতাকে ত্বরান্বিত করলেও, তৎকালীন বাস্তবতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় পরাধীনতা ছিল এক অবধারিত ট্র্যাজেডি। মীরজাফরের এই বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার নিবন্ধটি পাঠ করা যেতে পারে : ‘মীরজাফররা নতুনরূপে যেন ফিরে আসতে না পারে’।
দ্বিতীয় ‘ম’ : ‘মির্জা’ (ইস্কান্দার মির্জা ও বংশগত অবক্ষয়ের উত্তরাধিকার)
ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাস হলো, বাংলার দ্বিতীয় বড় এই বিশ্বাসঘাতক মূলত তার বংশীয় পদবি ‘মির্জা’ নামেই সমধিক পরিচিত—যিনি ছিলেন কুখ্যাত মীরজাফরেরই সরাসরি সপ্তম বংশধর। মীরজাফরের উত্তরসূরি এই মির্জা নিজে বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও স্বজাতির অগ্রযাত্রাকে রুখতে সবচেয়ে সক্রিয় ও বিষাক্ত ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে যোগ্য ও সিনিয়র বাঙালি অফিসার মেজর জেনারেল ইসফাকুল মজিদকে পাশ কাটিয়ে এই মির্জা অত্যন্ত সুকৌশলে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র আইয়ুব খানকে নিয়োগের সুপারিশ করেন। একসময় ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এই মির্জার নামেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (ইস্কান্দার মির্জা হাসপাতাল ১৯৫৪-৭১), যা স্বাধীনতার পর পরিবর্তিত হয়। ১৯৫৬ সালে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এই মির্জা একে একে খাজা নাজিমউদ্দীন, মোহাম্মদ আলী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো লিজেন্ডারি বাঙালি প্রধানমন্ত্রীদের নিজের প্রয়োজনে ইচ্ছামাফিক অপসারণ করেন। এমনকি ১৯৫৭ সালে আইয়ুব খানের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তিনি দেশে সামরিক শাসনের পথ প্রশস্ত করেন। তবে ইতিহাস বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না; যে আইয়ুবের জন্য এই মির্জা ক্ষমতার পথ তৈরি করেছিলেন, সেই আইয়ুবই মাত্র ২০ দিনের মাথায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে লন্ডনে নির্বাসিত করেন। তার এই ক্ষমতার মোহ ও স্বজাতির বিরুদ্ধে চক্রান্তই মূলত ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বীজ বপন করেছিল, যা আমি আমার ‘দ্বিতীয় মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : ১৯৭১-এর যুদ্ধ’ প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
তৃতীয় ‘ম’ : মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর ও ‘র’-এর নীলনকশা
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত হন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। ইতিহাসের এক নৃশংস অধ্যায় হলো, রাষ্ট্রপতি জিয়া যখন কক্ষ থেকে বেরিয়ে বারান্দায় আসেন, তখন তারই একসময়ের সহযোদ্ধা লে. কর্নেল মতিউর রহমান অত্যন্ত কাছ থেকে সরাসরি ‘ব্রাশ ফায়ার’ করে তাকে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বাহ্যিক শক্তির গভীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জোরালো তথ্য পাওয়া যায়। মতিউর রহমান রেন্টু তার ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এই পুরো চক্রান্তের সুতা নাড়াচাড়া করছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)। ধারণা করা হয়, ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালেই জেনারেল এরশাদ এবং লে. কর্নেল মতিউর রহমান প্রমুখদের ‘র’ রিক্রুট করেছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করার একটি বৃহৎ ভূরাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ।
নবাব সিরাজ ও জেনারেল মঞ্জুর : ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর সমান্তরাল : জেনারেল মঞ্জুরের পতনের দৃশ্যটি ১৭৫৭ সালের পলাশী-পরবর্তী নবাব সিরাজউদ্দৌলার বন্দি হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নবাব সিরাজ যখন সপরিবারে রাজমহলের দিকে পালাচ্ছিলেন, তখন ছদ্মবেশে থাকা সত্ত্বেও তার রাজকীয় জুতোর কারণে ধরা পড়েছিলেন দানিশ ফকিরের হাতে। ঠিক তেমনি, ১৯৮১ সালে জেনারেল মঞ্জুরও তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ফটিকছড়ির পাহাড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত সন্তানদের কান্নায় ভেঙে পড়া মঞ্জুর যখন বুঝতে পারলেন চারপাশ থেকে ঘেরাও হয়ে গেছেন, তখন তিনি চা বাগানের শ্রমিকদের কাছে খাবার ও আশ্রয় চেয়েছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা যেমন লুৎফুন্নেসাকে নিয়ে ধরা পড়েছিলেন, মঞ্জুরও ধরা পড়েন চা-বাগানের এক জীর্ণ কুটিরে সন্তানদের খাবারের খোঁজ করতে গিয়ে। এ দুই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, মানুষ যত বড় ষড়যন্ত্রকারীই হোক না কেন, শেষ মুহূর্তে পরিবারের নিরাপত্তা ও সন্তানদের প্রতি মমতা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল ও মন্থর করে দেয়।
মঞ্জুর যখন হাটহাজারী থানায় আত্মসমর্পণ করেন, তখন তার কণ্ঠে ছিল চরম অসহায়ত্ব। তিনি বারবার মিনতি করেছিলেন, ‘আমাকে পুলিশ মেরে ফেললে দুঃখ নেই, কিন্তু দয়া করে আমাকে সেনাবাহিনীর কাছে দেবেন না।’ তিনি জানতেন, তারই একসময়ের সহযোগী জেনারেল এরশাদ তাকে জীবন্ত রাখবেন না। সবচেয়ে লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে যখন এরশাদ অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে মঞ্জুরকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সেনানিবাসে হত্যার ব্যবস্থা করেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার—জিয়া হত্যার ‘জীবন্ত সাক্ষী’ চিরতরে মুছে ফেলা, যাতে এরশাদের সংশ্লিষ্টতা কোনোদিন প্রকাশ না পায়। এর মাধ্যমে এরশাদ শুধু তার প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরকেই শেষ করেননি, বরং ক্ষমতা দখলের পথ নিষ্কণ্টক করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বাসঘাতকতার জগতে কোনো আদর্শ নেই; সেখানে এক মীরজাফর অন্য মীরজাফরকে ধ্বংস করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
ভবিষ্যৎ ‘মীরজাফরদের’ জন্য একটি বিনীত পরামর্শ
ইতিহাসের এই দুই মহান ট্র্যাজেডি থেকে একটি বিষয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার—আপনি যদি কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক ‘ঘাপলা’ করার পরিকল্পনা করেন, তবে দয়া করে আপনার স্ত্রী ও পরিবারকে সেই ঝামেলার মধ্যে টানবেন না। নবাব সিরাজ তার জুতোর কারণে ধরা পড়লেও মঞ্জুর ধরা পড়েছিলেন তার সন্তানদের ক্ষুধার জন্য। পরিবার সঙ্গে থাকা মানেই হলো পালানোর গতি কমে যাওয়া এবং মানসিকভাবে ‘সফট’ হয়ে পড়া। তাই আগামীর উচ্চাভিলাষী সেনাপতিদের প্রতি নসিহত—যদি মীরজাফরি করতেই হয়, তবে অন্তত ঘরবাড়ি গুছিয়ে রেখে একাই অভিযানে নামুন! কারণ জুতোর মায়া ত্যাগ করা গেলেও, সন্তানের ক্ষুধার মায়া ত্যাগ করা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয় এবং দিনশেষে সেই দুর্বল মুহূর্তেই আপনার প্রিয় ‘সহকর্মী’ আপনাকে যমের দুয়ারে পাঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করবে।
আগামীর সতর্কবার্তা
পলাশীর মীরজাফর থেকে শুরু করে ইস্কান্দার মির্জা বা জেনারেল মঞ্জুর—এই ধারাবাহিকতা শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক পতনের ইতিহাস। আমি কলমের মাধ্যমে এই সত্যগুলো তুলে ধরছি, যাতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তারা সতর্ক থাকতে পারেন। যখনই কোনো সামরিক কর্মকর্তা পেশাদারিত্বের চেয়ে ভিনদেশি প্রলোভনের মোহে পড়েন, তখনই মীরজাফরের প্রেতাত্মা ফিরে আসে। মীরজাফরি এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমি এর আগে চারটি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশ করেছি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই মাল্টি-ফ্যাক্টোরিয়াল হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে জড়িত খুনিদের প্রকৃত স্বরূপ ইতিহাস আজ তার প্রয়োজনে জনসমক্ষে উন্মোচিত করছে।
আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষা : মীরজাফরি বিবর্তনের এই উপাখ্যান এখানেই শেষ নয়। এর চেয়েও কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য অপেক্ষা করছে আগামী খণ্ডের জন্য। সেখানে আমরা আলোচনা করব ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব চতুর্থ ও পঞ্চম ‘ম’-জেনারেল মইন ইউ আহমেদ এবং লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে। গোয়েন্দা সংস্থায় আমার কাজের অভিজ্ঞতা এবং তথ্যাদির আলোকে উন্মোচিত হবে মস্কোর নিভৃত আলাপ এবং সেসব রহস্য, যা নীতিনির্ধারক, জেনারেল কিংবা উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তাদের জন্য এক অপরিহার্য শিক্ষা হয়ে থাকবে। প্রকাশিতব্য সেই দ্বিতীয় খণ্ডটি হবে দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এক অনন্য দর্পণ।
লেখক : সাবেক সহকারী নৌবাহিনী প্রধান ও উপ-উপাচার্য বিইউপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

